শিরোনাম

ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ায় আবারও ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি থেকে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন কয়েকজন

মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। প্রথম দফায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরও একটি কম্পন আঘাত হেনেছে। জোড়া এ বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে এখনো আটকে আছেন বহু মানুষ। ফলে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভয়াবহ প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপ। উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানিয়েছেন, দ্বীপটির অন্তত ৪টি শহরে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। পার্শ্ববর্তী মাংগারাই অঞ্চলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীদের প্রধান লক্ষ্যই এখন চাপা পড়া মানুষদের দ্রুততম সময়ে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা। তবে ভূমিকম্পের জেরে সৃষ্ট ভূমিধসে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে ।

এ কম্পনের পর পুরো এলাকাজুড়ে সুনামি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি নাগেকেও এলাকায় সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে সরে যেতে দেখে স্থানীয়রা দিশেহারা হয়ে প্রাণ বাঁচাতে উঁচু স্থানে ছুটে যান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া সংস্থা (বিএমকেজি) শেষ পর্যন্ত সুনামির সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো জানান, ভোরের প্রথম কম্পনটি ছিল অত্যন্ত তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী লুকাস লোতার জানান, হাসপাতাল ভবনে ফাটল দেখা দিলে রোগীরা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। এলাকাগুলোতে বহুতল ভবনের সংখ্যা কম হওয়ায় তুলনামূলকভাবে প্রাণহানি কিছুটা কম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী আফটারশকসহ বেশ কয়েকবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোতে ফিরতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ বা ‘অগ্নিবলয়’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া চরম ভূমিকম্পপ্রবণ একটি দেশ। এর আগেও দেশটিতে এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছে। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে ফ্লোরেস দ্বীপেই ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট স্মরণকালের ভয়াবহ সুনামিতে দেশটিতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

সূত্র: ইউরো নিউজ

/এমএকে/