শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত মহড়ার সময় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি যান ভাসমান সেতু পার হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়ে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। উলচি ফ্রিডম শিল্ড নামের ১০ দিনব্যাপী এ বিশাল আয়োজনকে সরাসরি উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, দুই দেশের এ সামরিক শক্তি প্রদর্শন কোরীয় উপদ্বীপে সংঘাতের ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায়, এ আয়োজনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক সহযোগিতা এখন কার্যত একটি বিপজ্জনক পারমাণবিক জোটে রূপ নিচ্ছে। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের এ নতুন মাত্রার সামরিক হুমকির মুখে পড়ে তারাও চুপ করে বসে থাকবে না। নিরাপত্তার স্বার্থে গড়ে তুলবে আরও কঠোর প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

প্রতি বছরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সিউলের এ যৌথ মহড়াকে নিজের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখে আসছে উত্তর কোরিয়া। তবে এবারের মহড়ায় যুক্ত হয়েছে নতুন সমীকরণ। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে প্রায় ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল পিয়ংইয়ং, সেখান থেকে নতুন যুদ্ধকৌশল ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে তারা। মার্কিন সামরিক কর্তাদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সেনা দল ইউরোপের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে যে ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছে, তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় ড্রোন হামলা ঠেকানো, জিপিএস বিভ্রান্ত করা এবং সাইবার হামলা মোকাবিলার মতো আধুনিক যুদ্ধের নানা দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ সামরিক মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন। মহড়াকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই সাগরে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং জানিয়েছে, মার্কিন জোট বিশ্বকে পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে, তাই নিজেদের রক্ষায় পরমাণু সক্ষমতা বাড়িয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/