নেপালে বন্যা: সুড়ঙ্গে যেভাবে ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী

নেপালে বন্যা: সুড়ঙ্গে যেভাবে ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী
সিজেডএন ডেস্ক

হিমবাহধস থেকে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যায় থমকে গিয়েছিল নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকা। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা আর পানির তোড়ে তছনছ হয়ে যায় ওই এলাকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগের মাঝেই ‘আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ’ প্রকল্পের মাটির নিচের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ নামের দুই কর্মী। পরিবার আর সহকর্মীরা যখন তাদের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু ৯ দিন পর অলৌকিকভাবে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো কাজ শুরু করার পরপরই চারপাশ কাঁপিয়ে নেমে আসে কাদা আর পানির ঢল। মুহূর্তের মধ্যে ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি প্লাবিত হয়ে যায় এবং বাইরের সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে কবির ও সঞ্জয় দৌড়ে সুড়ঙ্গের আরও ভেতরের দিকে একটি উঁচু কেবল-ডাক্ট টানেলে গিয়ে আশ্রয় নেন। মূল নির্গমনপথ থেকে প্রায় ১৬০ মিটার ভেতরের ঢালু অংশে পানি পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সেখানে সিলিংয়ের কাছে আটকা পড়ে থাকে সামান্য বাতাস। ওই ছোট ‘এয়ার পকেট’ই শেষ পর্যন্ত তাদের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

পরের নয়টি দিন তাদের কাটাতে হয় চরম বিভীষিকার মধ্য দিয়ে। চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার, পা-ডোবা কাদা আর তীব্র শীতের মধ্যে পেটে ছিল না একদানা খাবার। তৃষ্ণায় গলা কাঠ হয়ে এলে কবির বাধ্য হয়ে চারপাশের ঘোলা কাদাপানিই পান করতেন। অন্ধকারের মধ্যে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সঞ্জয় টানা মন্ত্র পাঠ করে যেতেন।
বাইরে তাদের উদ্ধারে বৃষ্টির মধ্যেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিল নেপাল সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের দল। ওয়াটার জেট দিয়ে কাদা সরিয়ে এবং সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ ড্রিল করে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করা হয়।
অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার পর সুড়ঙ্গের আঁধার চিরে যখন উদ্ধারকারীদের দেওয়া আলো ভেতরে পৌঁছায়, তখনই ঘটে জাদুকরী মুহূর্ত। কাদাপানির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে একটি হাত। উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও দুজন মানুষ এখনো লড়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় হাসপাতালে। দীর্ঘ অনাহার আর প্রতিকূল পরিবেশে শরীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও, চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় তারা দুজনই এখন সুস্থতার পথে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

হিমবাহধস থেকে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যায় থমকে গিয়েছিল নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকা। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা আর পানির তোড়ে তছনছ হয়ে যায় ওই এলাকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগের মাঝেই ‘আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ’ প্রকল্পের মাটির নিচের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ নামের দুই কর্মী। পরিবার আর সহকর্মীরা যখন তাদের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু ৯ দিন পর অলৌকিকভাবে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো কাজ শুরু করার পরপরই চারপাশ কাঁপিয়ে নেমে আসে কাদা আর পানির ঢল। মুহূর্তের মধ্যে ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি প্লাবিত হয়ে যায় এবং বাইরের সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে কবির ও সঞ্জয় দৌড়ে সুড়ঙ্গের আরও ভেতরের দিকে একটি উঁচু কেবল-ডাক্ট টানেলে গিয়ে আশ্রয় নেন। মূল নির্গমনপথ থেকে প্রায় ১৬০ মিটার ভেতরের ঢালু অংশে পানি পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সেখানে সিলিংয়ের কাছে আটকা পড়ে থাকে সামান্য বাতাস। ওই ছোট ‘এয়ার পকেট’ই শেষ পর্যন্ত তাদের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

পরের নয়টি দিন তাদের কাটাতে হয় চরম বিভীষিকার মধ্য দিয়ে। চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার, পা-ডোবা কাদা আর তীব্র শীতের মধ্যে পেটে ছিল না একদানা খাবার। তৃষ্ণায় গলা কাঠ হয়ে এলে কবির বাধ্য হয়ে চারপাশের ঘোলা কাদাপানিই পান করতেন। অন্ধকারের মধ্যে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সঞ্জয় টানা মন্ত্র পাঠ করে যেতেন।
বাইরে তাদের উদ্ধারে বৃষ্টির মধ্যেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিল নেপাল সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের দল। ওয়াটার জেট দিয়ে কাদা সরিয়ে এবং সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ ড্রিল করে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করা হয়।
অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার পর সুড়ঙ্গের আঁধার চিরে যখন উদ্ধারকারীদের দেওয়া আলো ভেতরে পৌঁছায়, তখনই ঘটে জাদুকরী মুহূর্ত। কাদাপানির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে একটি হাত। উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও দুজন মানুষ এখনো লড়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় হাসপাতালে। দীর্ঘ অনাহার আর প্রতিকূল পরিবেশে শরীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও, চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় তারা দুজনই এখন সুস্থতার পথে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

নেপালে বন্যা: সুড়ঙ্গে যেভাবে ৯ দিন বেঁচে ছিলেন দুই জলবিদ্যুৎকর্মী
সিজেডএন ডেস্ক

হিমবাহধস থেকে তৈরি হওয়া আকস্মিক বন্যায় থমকে গিয়েছিল নেপালের ত্রিশূলি উপত্যকা। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা কাদা আর পানির তোড়ে তছনছ হয়ে যায় ওই এলাকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রলয়ঙ্করি দুর্যোগের মাঝেই ‘আপার ত্রিশূলি থ্রি-এ’ প্রকল্পের মাটির নিচের সুড়ঙ্গে আটকা পড়েন কবির মহারজন ও সঞ্জয় সাহ নামের দুই কর্মী। পরিবার আর সহকর্মীরা যখন তাদের আশা একপ্রকার ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু ৯ দিন পর অলৌকিকভাবে তাদেরকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
দুর্ঘটনার দিন সকালে প্রতিদিনের মতো কাজ শুরু করার পরপরই চারপাশ কাঁপিয়ে নেমে আসে কাদা আর পানির ঢল। মুহূর্তের মধ্যে ভূগর্ভস্থ স্টেশনটি প্লাবিত হয়ে যায় এবং বাইরের সঙ্গে সব ধরণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে কবির ও সঞ্জয় দৌড়ে সুড়ঙ্গের আরও ভেতরের দিকে একটি উঁচু কেবল-ডাক্ট টানেলে গিয়ে আশ্রয় নেন। মূল নির্গমনপথ থেকে প্রায় ১৬০ মিটার ভেতরের ঢালু অংশে পানি পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে সেখানে সিলিংয়ের কাছে আটকা পড়ে থাকে সামান্য বাতাস। ওই ছোট ‘এয়ার পকেট’ই শেষ পর্যন্ত তাদের বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।

পরের নয়টি দিন তাদের কাটাতে হয় চরম বিভীষিকার মধ্য দিয়ে। চারদিকে নিচ্ছিদ্র অন্ধকার, পা-ডোবা কাদা আর তীব্র শীতের মধ্যে পেটে ছিল না একদানা খাবার। তৃষ্ণায় গলা কাঠ হয়ে এলে কবির বাধ্য হয়ে চারপাশের ঘোলা কাদাপানিই পান করতেন। অন্ধকারের মধ্যে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সঞ্জয় টানা মন্ত্র পাঠ করে যেতেন।
বাইরে তাদের উদ্ধারে বৃষ্টির মধ্যেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছিল নেপাল সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রকৌশলীদের দল। ওয়াটার জেট দিয়ে কাদা সরিয়ে এবং সুড়ঙ্গে বাতাস পৌঁছানোর জন্য পাইপ ড্রিল করে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করা হয়।
অবশেষে দীর্ঘ চেষ্টার পর সুড়ঙ্গের আঁধার চিরে যখন উদ্ধারকারীদের দেওয়া আলো ভেতরে পৌঁছায়, তখনই ঘটে জাদুকরী মুহূর্ত। কাদাপানির মধ্য থেকে বেরিয়ে আসে একটি হাত। উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হন, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়েও দুজন মানুষ এখনো লড়ে যাচ্ছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নেওয়া হয় হাসপাতালে। দীর্ঘ অনাহার আর প্রতিকূল পরিবেশে শরীর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও, চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় তারা দুজনই এখন সুস্থতার পথে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান









