শিরোনাম

নেপালে কেন এই আকস্মিক বন্যা, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নেপালে কেন এই আকস্মিক বন্যা, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা
আকস্মিক বন্যার পর কাদাপানিতে ঘরবাড়ি আংশিক তলিয়ে রয়েছে

চীন ও নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে পাহাড় থেকে নেমে আসা ভয়াবহ বন্যায় চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল অংশ থেকে বুধবার (২৬ আগস্ট) অন্তত ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। কাদা ও পানির তীব্র স্রোতে তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো। দুর্যোগ আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মিলছে না কয়েক শ পর্যটকের।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হলেও পানির উচ্চতা ও কাদার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নেপালের পর্যটন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, দুর্যোগের ৮ ঘণ্টা পরও ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জনই বিদেশি। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরাও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন।

আকস্মিক এ দুর্যোগের বর্ণনা দিতে গিয়ে নেপালের রাজু ভাদেল বলেন, ‘সকালে আমার ভগ্নিপতি আমাকে ফোন করেছিলেন। তারা কাঁদছিলেন এবং বলছিলেন যে তাদের পুরো বাড়িটি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পরিবারের তিন সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও তার ভাই এখনো নিখোঁজ।’

সীমান্তের ওপারে তিব্বতের জিরং বাণিজ্যিক এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতে অন্তত ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিব্বতের পাহাড়ে নতুন করে ধসের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় স্থানীয় সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কাঠমান্ডুভিত্তিক সংস্থা ইসিমোডের বিশ্লেষক সার্থক শ্রেষ্ঠ জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে চীনা অংশে অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, নেপাল অংশে একটি পাথুরে বরফধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে লেন্দে নদীর গতিপথ আটকে গিয়ে তীব্র বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বড় একটি অংশে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সেনা হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষাকালে এমন চরম আবহাওয়ার রূপ বাড়ছে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি উল্লেখ করে ইসিমোডের পরিবেশ ঝুঁকি বিভাগের প্রধান চিয়াংগং ঝাং জানান, ‘নেপাল-চীন সীমান্ত নদীর উজানে এখনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে রয়েছে। ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় দফায় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।’

সূত্র: কাঠমুণ্ডু পোস্ট

/এমএকে/