শিরোনাম

উত্তর কোরিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট, পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশ

সিটিজেন ডেস্ক
উত্তর কোরিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট, পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন

দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (৮ জুন) সকালে তাকে বহনকারী এয়ার চায়নার বিমানটি পিয়ংইয়ংয়ে অবতরণ করে।

চীনে একাধিক কূটনৈতিক আয়োজনের পর দেশটির নেতা শি জিনপিং প্রথম বিদেশ সফরে উত্তর কোরিয়া গেলেন। দেশটির নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার শীর্ষ বৈঠক হবে।

গত মাসেই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চা-আড্ডা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন। এরপর সরাসরি পিয়ংইয়ংয়ে গিয়ে এবং এটিকে ২০২৬ সালে তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে বেছে নিয়ে শি তার অস্থির প্রতিবেশীর সঙ্গে জোটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

উত্তর কোরিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট, পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশ 1

উত্তর কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরের প্রাক্কালে সেদেশের পত্রিকা ‘লোডং সিনমুন’ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। নিবন্ধের শিরোনাম ‘ঐতিহ্য উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যতের পথে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া: চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় রচনা’।

নিবন্ধে শি জিনপিং বলেছেন, এ বছর ‘চীন-উত্তর কোরিয়া বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’ স্বাক্ষরের ৬৫তম বার্ষিকী। উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রীয় কমিশনের চেয়ারম্যান কমরেড কিম জং-উনের আমন্ত্রণে, আমি শিগগিরই উত্তর কোরিয়ায় একটি রাষ্ট্রীয় সফর করব। এটি হবে সুন্দর উত্তর কোরিয়ায় ৭ বছর পর আমার আবার সফর।

চীন ও উত্তর কোরিয়া পরস্পরের অভিন্ন কল্যাণের সমাজতান্ত্রিক বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশীরাষ্ট্র। যুগ যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন, চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব সর্বদা অটুট এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দৃঢ় ও প্রাণশক্তিতে পরিপূর্ণ ছিল, আছে ও থাকবে।

চীনা প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, সর্বোচ্চ স্তরের কৌশলগত নেতৃত্ব চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি। ইতিহাসে চীন ও উত্তর কোরিয়ার প্রবীণ নেতারা পরস্পরকে জানতেন ও বুঝতেন এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় আমি কিম জং-উনের সঙ্গে ৬ বার সাক্ষাত্ করেছি, ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রেখেছি, এবং যৌথভাবে চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরি করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নৌযান, সর্বোচ্চ নেতাদের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায়, নিশ্চয়ই বাতাস ও ঢেউ উপেক্ষা করে দৃঢ়ভাবে সামনে এগিয়ে যাবে।

উত্তর কোরিয়া সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট, পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশ 2

নিবন্ধে তিনি বলেন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টি মার্কসবাদী দুটি শাসকদল এবং চীন ও উত্তর কোরিয়া সমাজতন্ত্রের পথে একে অপরের সঙ্গী। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, উভয় পার্টি ও রাষ্ট্র যৌথভাবে, নিজ নিজ পার্টি ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বাস্তবসম্মত বিনিময় ও সহযোগিতা জোরদার করবে। এতে দেশের সমৃদ্ধি ও শক্তিশালীকরণ এবং জনগণের সুখ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সমাজতন্ত্রের উল্লেখযোগ্য সুবিধা ও উজ্জ্বল সম্ভাবনা প্রদর্শিত হবে।

উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের জন্য তাৎর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রচার করা উভয় পার্টি ও রাষ্ট্র এবং উভয় দেশের জনগণের যৌথ লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব পরিস্থিতি এবং উত্থান-পতনে ভরা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখে, চীন ও উত্তর কোরিয়া নিজেদের কাজ ভালোভাবে করার দিকে মনোনিবেশ করেছে এবং সমাজতান্ত্রিক পথে কঠোর পরিশ্রম ও অবিরাম সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। চীন ‘পঞ্চম পাঁচসালা পরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের পথে একটি ভালো সূচনা করেছে এবং চীনা আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে; দ্বিতীয় শত বছরের লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে বড় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। এদিকে উত্তর কোরিয়ার লেবার পার্টি সফলভাবে নবম কংগ্রেস আয়োজন করেছে; কোরিয়ার দল ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে; এবং সমাজতন্ত্রের ব্যাপক উন্নয়নের একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে।

বর্তমানে, চীন-উত্তর কোরিয়া সম্পর্ক একটি নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে, কৌশলগত উচ্চতা থেকে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বুঝতে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বৃহত্তর উন্নয়ন এগিয়ে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক।

পরিশেষে শি জিনপিং লিখেছেন, আমরা উত্তর কোরিয়ার কমরেডদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে ও নতুন অধ্যায় রচনা করতে চাই, যেন চীন-উত্তর কোরিয়া ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও উজ্জ্বল সময়ের আভা ছড়ায় এবং আঞ্চলিক ও বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে বৃহত্তর অবদান রাখতে পারে।

/এফসি/