শিরোনাম

নীল আকাশ আর কাশফুলের দোলা: শরতের চেনা রূপে সেজেছে কুবি

কুবি সংবাদদাতা
কুবি সংবাদদাতা
নীল আকাশ আর কাশফুলের দোলা: শরতের চেনা রূপে সেজেছে কুবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠসংলগ্ন টিলায় ফুটেছে কাশফুল। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। হালকা বাতাসে দুলছে ধবধবে সাদা কাশফুল। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে আবহ পেরিয়ে প্রকৃতি সেজেছে শরতের সাজে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লাল মাটির টিলা, সবুজ গাছপালা আর পাহাড়ি ঢালে ফুটে ওঠা কাশফুলে সেটি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বাংলার ঋতুচক্রে ভাদ্র ও আশ্বিন- এই দুই মাস শরৎকাল। বর্ষার মেঘ-বৃষ্টির পর প্রকৃতিতে আসে তুলনামূলক নির্মল আকাশ, কোমল রোদ আর শুভ্রতার আবেশ। নীল আকাশের বুকে ভেসে থাকা সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল হয়ে ওঠে শরতের অন্যতম চেনা প্রতীক।

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা কুবি ক্যাম্পাসেও ঋতু পরিবর্তনের এই দৃশ্য চোখে পড়ে। বর্ষার সবুজে ভেজা ক্যাম্পাসে এখন যুক্ত হয়েছে কাশফুলের শুভ্রতা। ভোরের ঘাসে জমে থাকা শিশির, নীল আকাশ আর মেঘের আনাগোনায় ক্যাম্পাসের পরিচিত দৃশ্যপটেও এসেছে ভিন্ন আবহ।

ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় মাঠের উত্তর পাশ, কেন্দ্রীয় মসজিদের পশ্চিম পাশের পাহাড় এবং কৃষ্ণচূড়া রোডসংলগ্ন এলাকায় দেখা মিলছে কাশফুলের। সকালের নরম রোদে কাশফুলের ওপর আলো পড়লে দূর থেকে মনে হয় পাহাড়ের ঢালে ছড়িয়ে আছে সাদা তুলোর আস্তরণ। হালকা বাতাসে একসঙ্গে দুলতে থাকা কাশফুলের সারি ক্যাম্পাসের ব্যস্ততার মধ্যেও তৈরি করছে শান্ত, নান্দনিক পরিবেশ।

তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হারিয়ে যাওয়ার গল্পও। একসময় কুবির পাহাড়ি এলাকায় বিস্তীর্ণ কাশবন ছিল। শরৎ এলেই এসব জায়গায় শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ত। ছবি তোলা, আড্ডা কিংবা বিকেলের সময় কাটাতে অনেকেই ছুটে আসতেন কাশফুলের কাছে। কিন্তু গত বছর বৃক্ষরোপণের জন্য পাহাড় পরিষ্কার করার সময় কাশফুলের অনেক গাছ কেটে ফেলা হয়। এরপর থেকে ক্যাম্পাসে কাশফুলের বিস্তৃতি আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে দর্শনার্থীদের আনাগোনাও। তবে এ বছর কিছু এলাকায় নতুন করে কাশফুল ফুটতে শুরু করায় পুরোনো সৌন্দর্য ফিরে পাওয়ার আশা করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠসংলগ্ন টিলায় ফোটা কাশফুল। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর
বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠসংলগ্ন টিলায় ফোটা কাশফুল। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাসফিক জাহিন রাফি বলেন, ‘শরৎকাল আমার ভীষণ প্রিয়, বিশেষ করে শরতের কাশফুল। ছোটবেলায় নদীর ধারে কাশফুল দেখতাম। কুবি ক্যাম্পাসের যেসব বিষয় আমার ভালো লাগে, তার মধ্যে কাশফুল অন্যতম। বিজয়-২৪ হল থেকে ফ্যাকাল্টিতে যাওয়ার সময় কাশফুল দেখতে দেখতে যাই।’

তিনি বলেন, ‘কাশফুল এখন অনেক কমে গেছে। গাছ কেটে ফেলার কারণে গত বছর তেমন ফুটেনি। তবে এবার মোটামুটি ফুটেছে। আগামী বছর আগের মতো কাশফুল দেখতে পাব এমনটাই আশা করি।’

উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম Saccharum spontaneum। এটি ঘাসজাতীয় বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশে বিভিন্ন পতিত জমি, নদীতীর ও জলাভূমির আশপাশে দেখা যায়। উদ্ভিদটির উচ্চতা কয়েক মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

শুধু সৌন্দর্য নয়, কাশফুলের সঙ্গে বাংলার প্রকৃতি ও সংস্কৃতিরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শরৎ এলেই কাশবনের শুভ্রতা মানুষের মনে উৎসব, শৈশবের স্মৃতি ও গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য ফিরিয়ে আনে। তাই কুবির পাহাড়ে ফুটে থাকা এ কাশফুল শুধু ঋতুর সৌন্দর্য নয়, ব্যস্ত ক্যাম্পাসজীবনে প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরে যাওয়ারও একটি উপলক্ষ।

/এমএকে/