শিরোনাম

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে অস্থির এশিয়ার অর্থনীতি

সিটিজেন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিতে অস্থির এশিয়ার অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে এশিয়ার বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা এবং মাঠপর্যায়ের অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৭ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে এ দাম কিছুটা কমে ১০৬.৫০ ডলারে নামলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এ অঞ্চলের জ্বালানি খাতে। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে পাইকারি তেলের দামে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ পাম্পগুলোতে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বাড়ছে।

মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাজারেও এর প্রতিফলন ঘটছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার দেশটির নিম্ন আয়ের ৭০ শতাংশ মানুষের জন্য ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ মাথাপিছু ৬৭ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন।

এ অর্থনৈতিক সংকট কেবল দক্ষিণ কোরিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমগ্র এশিয়ায় এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ফিলিপাইনে মিনিবাস চালকদের সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হলেও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের মুনাফা অর্জনে নাভিশ্বাস উঠছে এবং তারা দিনে ৫ ডলারেরও কম আয় করছেন। অন্যদিকে ভারতের চিত্র আরও ভয়াবহ, সেখানে জ্বালানি ও কাঁচামালের খরচ বাড়ায় অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। এ সংকটময় পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তারা নববর্ষের উৎসবে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের খেলনা বন্দুক রিসাইকেল করে ন্যাপথা এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা প্লাস্টিক উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। সামগ্রিকভাবে, তেলের অস্থির বাজার এশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/