শিরোনাম

বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীর হত্যা নিয়ে যা জানালো এফবিআই এজেন্ট

সিটিজেন ডেস্ক
বাংলাদেশি ২ শিক্ষার্থীর হত্যা নিয়ে যা জানালো এফবিআই এজেন্ট
জামিল লিমন (বামে) ও নাহিদা বৃষ্টি (ডানে) ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ অন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে লেক ফরেস্ট এলাকায় এক সহিংসতার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। সে সময় অভিযুক্ত আবুগারবিয়েহ বাড়ি থেকে বের হতে অস্বীকৃতি জানালে সোয়াট (SWAT) দল ডাকা হয়। পরবর্তীতে সে শান্তভাবে বেরিয়ে আসলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ড বলছে, আবুগারবিয়েহর বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের রেকর্ড ছিল। সে ২০২৩ সালে চুরি, মারধর ও ঘরোয়া সহিংসতার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল এবং ২০২৫ সালেও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের সহিংসতার মামলা হয়েছিল। নিহত জামিল লিমন ছিলেন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের ডক্টরাল শিক্ষার্থী এবং নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টি পড়তেন রাসায়নিক প্রকৌশলে। ১৬ এপ্রিল তাদের দুজনকে শেষবার দেখা গিয়েছিল এবং পরদিন পারিবারিক এক বন্ধু পুলিশের কাছে তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন। বৃষ্টির সন্ধানে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড সেতুর কাছের জলাশয়ে শেরিফ দপ্তরের মেরিন ও ডাইভ দল তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ এজেন্ট ড. ব্রায়ানা ফক্স এই ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, আলামত দেখে মনে হচ্ছে এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং তাৎক্ষণিক রাগের মাথায় করা অপরাধ। তিনি মনে করেন, পরিচিতদের মধ্যে সাধারণত অর্থ, ঈর্ষা বা ছোটখাটো ঝগড়া থেকে এমন সহিংসতা হতে পারে। শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর সন্ধান এবং দায়ীদের পুরোপুরি জবাবদিহির আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

সূত্র: ফক্স ১৩

/এমএকে/