শিরোনাম

ইন্ডাকশন চুলায় রান্না, যেভাবে কমাবেন বিদ্যুৎ বিল

সাবিকুন নাহার রিংকি
ইন্ডাকশন চুলায় রান্না, যেভাবে কমাবেন বিদ্যুৎ বিল
ইন্ডাকশন চুলায় রান্না। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাসের সংকট আর সিলিন্ডারের বাড়তি দামের চাপে অনেক পরিবারই এখন ভরসা রাখছে ইন্ডাকশন চুলার ওপর। দ্রুত রান্না এবং সহজ ব্যবহারের কারণে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও, মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্ক দেখে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ অভ্যাস বদলালেই ইন্ডাকশন ব্যবহারে বিদ্যুতের খরচ কমানো সম্ভব।

প্রথমেই নজর দিতে হবে সঠিক বাসন ব্যবহারের দিকে। ইন্ডাকশন চুলা তড়িৎ-চৌম্বকীয় প্রযুক্তিতে কাজ করে, তাই কাস্ট আয়রন বা ম্যাগনেটিক স্টেইনলেস স্টিলের বাসন সবচেয়ে উপযোগী। বাসনের তলা যদি সমান ও মসৃণ না হয়, তবে তাপ সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ অপচয় বাড়ে ।

রান্নার সময় সবসময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহার করাও ঠিক নয়। ইন্ডাকশন খুব দ্রুত তাপ উৎপন্ন করতে পারে, তাই পানি ফুটে উঠলে বা কড়াই গরম হয়ে গেলে পাওয়ার কমিয়ে দেওয়া উচিত। নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রান্না করলে যেমন খাবার ভালো হয়, তেমনি বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।

ঢাকনা ব্যবহার করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। কড়াই বা হাঁড়ি ঢেকে রাখলে তাপ বাইরে বের হতে পারে না, ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়। খোলা অবস্থায় রান্না করলে অতিরিক্ত তাপ নষ্ট হয় এবং সেই ঘাটতি পূরণে ইন্ডাকশনকে বেশি শক্তি খরচ করতে হয়।

চাল, ডাল বা অন্যান্য শস্য রান্নার আগে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখলে রান্নার সময় অনেকটাই কমে যায়। এতে খাবার দ্রুত নরম হয় এবং ইন্ডাকশন কম সময় চালাতে হয় ফলে বিদ্যুৎ খরচও কমে।

ইন্ডাকশন চুলার উপরিভাগ পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও সমান জরুরি। গ্লাস-সিরামিক পৃষ্ঠে ময়লা বা পোড়া দাগ থাকলে তাপ সঞ্চালনে সমস্যা হয়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে তাপ সহজে বাসনে পৌছায় এবং বিদ্যুতের অপচয় কমে।

রান্না শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে চুলা বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। কারণ বন্ধ করার পরও বাসনে কিছু সময় তাপ ধরে থাকে, যা দিয়েই রান্নার বাকি অংশ সম্পন্ন করা সম্ভব। এই ছোট কৌশলটিও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখে।

সচেতনভাবে ইন্ডাকশন ব্যবহার করলে শুধু রান্না সহজ হয় না, বরং মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও থাকে নিয়ন্ত্রণে। ছোট ছোট অভ্যাসই পারে বড় সাশ্রয়ের পথ দেখাতে পারে ।

/এসএনআর/