শিরোনাম

‘কলিজার টুকরাগুলো শেষ, এখন কী নিয়ে বাঁচব’

গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা
‘কলিজার টুকরাগুলো শেষ, এখন কী নিয়ে বাঁচব’
ছেলে-মেয়ে-নাতনিদের হারিয়ে বিলাপ করছেন ফিরোজা বেগম। ছবি: সংগৃহীত

ছেলে-মেয়ে আর তিন নাতনির মৃত্যুর সংবাদে বিলাপ করছিলেন গোপালগঞ্জের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়ার ফিরোজা বেগম। বুক চাপড়ে তিনি বলছিলেন, আমার ছেলে-মেয়ে-নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাকে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচব?

ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে ফিরোজা বেগম বিলাপ করে বলেন, আমার বাজান কাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল, আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে।

ফোরকান ফোন করে জানিয়েছে, ‘পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে পাওয়া যাবে না’। এই বলে ফোন কেটে দেয়।

শনিবার (৯ মে) সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে পাঁচজনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত পাঁচজন হলেন– শারমিন আক্তার, তার তিন মেয়ে মীম, মারিয়া ও ফারিয়া এবং শারমিনের ভাই রসুল মিয়া।

শারমিন ও রসুলদের বাড়ি পাইককান্দি উত্তর চরপাড়ায়। তাদের বাবার নাম শাহাদাত মোল্লা।

প্রায় দেড় যুগ আগে গোপালঞ্জের গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের ফোরকান মোল্লার সঙ্গে বিয়ে হয় শারমিনের। তিন সন্তান নিয়ে এই দম্পতি কাপাসিয়ায় থাকতেন। ফোরকান পেশায় গাড়ি চালক।

শনিবার মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে ফোরকান মোল্লা পলাতক রয়েছেন।

বিভিন্ন আলামত ও স্বজনদের ভাষ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

/এসআর/