শিরোনাম

সৌদি আরবে মিললো ১ লাখ বছর আগের পায়ের ছাপ

সিটিজেন ডেস্ক
সৌদি আরবে মিললো ১ লাখ বছর আগের পায়ের ছাপ
১ লক্ষ বছরেরও বেশি সময় আগের আরব উপদ্বীপে মানুষের পায়ের ছাপ। ছবি: সায়েন্স নিউজ

সৌদি আরবের নেফুদ মরুভূমিতে ১ লাখ ১৫ হাজার বছরের পুরোনো মানুষের পায়ের ছাপের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। শুকিয়ে যাওয়া একটি হ্রদের তলদেশে পাওয়া সাতটি পায়ের ছাপকে আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষদের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন গবেষকেরা।

আমেরিকান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সাময়িকী পপুলার মেকানিক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব উপদ্বীপে মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন পায়ের ছাপের এটি অন্যতম নিদর্শন।

বিজ্ঞানীদের মতে, সৌদি আরবের আল-আথার এলাকায় একটি প্রাগৈতিহাসিক কাদা-গর্তে শত শত পশুর পায়ের ছাপের মধ্যে মানুষের সাতটি ছাপ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১ লাখ বছরেরও বেশি আগে কাদাঘেরা এই হ্রদটি মানুষ ও বন্য প্রাণীদের চলাচলের ব্যস্ত পথ ছিল।

২০১৭ সালে আবহাওয়ার কারণে উপরের মাটির স্তর সরে যাওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিকেরা এই নিদর্শনগুলো খুঁজে পান।

গবেষকেরা বলছেন, কাদা দ্রুত শুকিয়ে গিয়ে পায়ের ছাপগুলোকে সংরক্ষণ করেছিল। সাধারণত কাদামাটিতে মানুষের পায়ের ছাপের সূক্ষ্ম গঠন দুই দিনের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়, চার দিনের মধ্যে তা প্রায় চেনা যায় না। কিন্তু বিশেষ পরিবেশের কারণে এই ছাপগুলো দীর্ঘ সময় অক্ষত ছিল।

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এসব ছাপ আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ হোমো সেপিয়েন্সদের। কারণ, প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৮০ হাজার বছর আগে লেভান্ত ও আরব অঞ্চলে হোমো সেপিয়েন্সদের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে, কিন্তু ওই সময় সেখানে নিয়ান্ডারথালদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পায়ের ছাপের আকারও নিয়ান্ডারথালদের তুলনায় আদি হোমো সেপিয়েন্সদের সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, সেই সময়ের আল-আথার হ্রদটি বড় প্রাণীদের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক বিশ্রামস্থল ছিল। মিঠা পানির ছোট জলাশয়গুলো প্রাণীদের আকর্ষণ করত এবং মানুষও সম্ভবত সুপেয় পানির খোঁজে সেখানে সাময়িকভাবে আশ্রয় নিয়েছিল।

তবে সেখানে শিকার বা স্থায়ী বসতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রাণীর হাড়ে কাটার দাগ বা পাথরের তৈরি হাতিয়ারও মেলেনি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি সম্ভবত এমন এক সময়ের ঘটনা, যখন বরফ যুগ শুরু হওয়ার আগে মানুষ শেষবারের মতো এই অঞ্চল অতিক্রম করছিল। তাই পরে অন্য কেউ সেই ছাপের ওপর দিয়ে হাঁটেনি এবং নতুন মাটির স্তর পড়ার আগ পর্যন্ত সেগুলো অক্ষত ছিল।

/এসএ/