শত বছরের দূষিত নদী যেভাবে সাঁতারের উপযোগী হলো

শত বছরের দূষিত নদী যেভাবে সাঁতারের উপযোগী হলো
সিজেডএন ডেস্ক

দূষণের কারণে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সিন নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটা একসময় ছিল অকল্পনীয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপরিশোধিত নর্দমার পানি এসে মিশতো এ নদীতে। ফলে এটি জীবাণুর আধার হয়ে ওঠে। তবে এখন নদীটির এই পয়োবর্জ্য সমস্যা আর নেই। যে নদী এত বছর সাঁতার কাটার অনুপযোগী ছিল, সেই নদীতেই এখন প্যারিসবাসীরা ভিড় করে সাঁতার কাটতে।
১৯২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো গত ৫ জুলাই জনসাধারণের জন্য নদীটিকে সাঁতারের উপযোগী করে খুলে দেয় শহর কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের সময় সিন নদীকে সাঁতারের ইভেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগেই নদীজুড়ে চালানো হয় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সিনকে দূষণমুক্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়।
রোমান্টিক নদী হিসেবে পরিচিত প্যারিসের সিন নদী। বহু চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র এবং প্রেমের গানে উঠে এসেছে এর নাম। প্যারিসে প্রেমে পড়ার আদর্শ স্থান বললে অনেকের মনে আসে সিন নদীর তীর। তা সত্ত্বেও এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ নদী ছিল চরমভাবে দূষিত। এতটাই দূষিত যে অধিকাংশ মাছ এর পানিতে টিকে থাকতে পারতো না। ১৯২৩ সালে এই নদীতে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।

নদীর এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী ছিল প্যারিসের প্রাচীন পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি আর বর্জ্যপানি বলতে গেলে একই পাইপ দিয়ে বইতো তখন। ভারী বৃষ্টিতে এই পাইপগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে উপচে পড়তো। ফলে অপরিশোধিত নর্দমার পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে না গিয়ে সরাসরি সিন নদীতে গিয়ে পড়তো। এর ফলে নদীতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।
ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মল-মূত্রে পাওয়া যায়। এর কিছু প্রজাতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নদীতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে থাকায় তা মানুষ ও জলজ প্রাণীর জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
১৯৮৮ সালে প্যারিসের কর্মকর্তারা নদী পরিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে আলাপ শুরু করেন। তবে ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই বছর প্যারিস ২০২৪ সালের অলিম্পিকের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপরই শুরু হয় সিন নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার মিশন।

সিন নদীকে পরিচ্ছন্ন করতে দক্ষিণ-পূর্ব প্যারিসে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়। তা ২০টি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের সমপরিমাণ পানি ধারণ করতে সক্ষম। এর উদ্দেশ্য ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, যাতে প্যারিসের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে না পড়ে এবং অপরিশোধিত নর্দমার পানি নদীতে চলে না যায়। এ ছাড়া হাজার হাজার বাড়িকে নতুন করে নর্দমা সংযোগের আওতায় আনা হয়। আধুনিকায়ন করা হয় পানি পরিশোধন ব্যবস্থাও।
সিন নদীতে সাঁতার কাটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও অনেকের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্যারিসের ৭০ শতাংশ বাসিন্দাই পানিতে নামতে রাজি নন। তাদের মাথায় গেঁথে গেছে দূষণের বিষয়টি।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাঁতারের মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় প্রতিদিন পানির গুণমান পরীক্ষা করা হবে। আপাতত প্যারিসের সিন নদীর তীর ঘেঁষে ৩টি স্থান নির্ধারিত করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে সেখানে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মানুষ সাঁতার কাটতে পারবে।
এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড
শুধু প্যারিস নয়, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের শহরে এভাবে নদীকে আবার আগের মতো গোসল ও সাঁতারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। এ তালিকায় সবার আগে রয়েছে সুইজারল্যান্ড।
নদীর পানি পরিষ্কার রাখতে সুইজারল্যান্ডের সরকার প্রত্যেক বাসিন্দার কাছ থেকে গড়ে ২৩০ ডলার খরচ নেয়। এসবের জেরে বাসেল হয়ে উঠেছে ইউরোপের সবচেয়ে সাঁতারযোগ্য শহরগুলোর একটি। গ্রীষ্মের যেকোনো দিনে মানুষকে দেখা যায় পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে, শহরের ঝরনা থেকে পানি পান করতে।
তবে তাদেরও এ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে। ১৯৮৬ সালে দেশটির রাইন নদীতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে গিয়েছিল। পুরো নদী হয়ে উঠেছিল লাল। ওই ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা বড় মাপে পরিবর্তন আনতে শুরু করেন দেশজুড়ে।
২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যারা পানি থেকে রাসায়নিক দ্রব্য সরাতে রীতিমতো আইন পাস করে। দেশটির প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের নীতি সামনে আনতে ভূমিকা রাখছেন।

দূষণের কারণে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সিন নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটা একসময় ছিল অকল্পনীয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপরিশোধিত নর্দমার পানি এসে মিশতো এ নদীতে। ফলে এটি জীবাণুর আধার হয়ে ওঠে। তবে এখন নদীটির এই পয়োবর্জ্য সমস্যা আর নেই। যে নদী এত বছর সাঁতার কাটার অনুপযোগী ছিল, সেই নদীতেই এখন প্যারিসবাসীরা ভিড় করে সাঁতার কাটতে।
১৯২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো গত ৫ জুলাই জনসাধারণের জন্য নদীটিকে সাঁতারের উপযোগী করে খুলে দেয় শহর কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের সময় সিন নদীকে সাঁতারের ইভেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগেই নদীজুড়ে চালানো হয় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সিনকে দূষণমুক্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়।
রোমান্টিক নদী হিসেবে পরিচিত প্যারিসের সিন নদী। বহু চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র এবং প্রেমের গানে উঠে এসেছে এর নাম। প্যারিসে প্রেমে পড়ার আদর্শ স্থান বললে অনেকের মনে আসে সিন নদীর তীর। তা সত্ত্বেও এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ নদী ছিল চরমভাবে দূষিত। এতটাই দূষিত যে অধিকাংশ মাছ এর পানিতে টিকে থাকতে পারতো না। ১৯২৩ সালে এই নদীতে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।

নদীর এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী ছিল প্যারিসের প্রাচীন পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি আর বর্জ্যপানি বলতে গেলে একই পাইপ দিয়ে বইতো তখন। ভারী বৃষ্টিতে এই পাইপগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে উপচে পড়তো। ফলে অপরিশোধিত নর্দমার পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে না গিয়ে সরাসরি সিন নদীতে গিয়ে পড়তো। এর ফলে নদীতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।
ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মল-মূত্রে পাওয়া যায়। এর কিছু প্রজাতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নদীতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে থাকায় তা মানুষ ও জলজ প্রাণীর জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
১৯৮৮ সালে প্যারিসের কর্মকর্তারা নদী পরিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে আলাপ শুরু করেন। তবে ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই বছর প্যারিস ২০২৪ সালের অলিম্পিকের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপরই শুরু হয় সিন নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার মিশন।

সিন নদীকে পরিচ্ছন্ন করতে দক্ষিণ-পূর্ব প্যারিসে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়। তা ২০টি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের সমপরিমাণ পানি ধারণ করতে সক্ষম। এর উদ্দেশ্য ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, যাতে প্যারিসের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে না পড়ে এবং অপরিশোধিত নর্দমার পানি নদীতে চলে না যায়। এ ছাড়া হাজার হাজার বাড়িকে নতুন করে নর্দমা সংযোগের আওতায় আনা হয়। আধুনিকায়ন করা হয় পানি পরিশোধন ব্যবস্থাও।
সিন নদীতে সাঁতার কাটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও অনেকের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্যারিসের ৭০ শতাংশ বাসিন্দাই পানিতে নামতে রাজি নন। তাদের মাথায় গেঁথে গেছে দূষণের বিষয়টি।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাঁতারের মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় প্রতিদিন পানির গুণমান পরীক্ষা করা হবে। আপাতত প্যারিসের সিন নদীর তীর ঘেঁষে ৩টি স্থান নির্ধারিত করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে সেখানে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মানুষ সাঁতার কাটতে পারবে।
এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড
শুধু প্যারিস নয়, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের শহরে এভাবে নদীকে আবার আগের মতো গোসল ও সাঁতারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। এ তালিকায় সবার আগে রয়েছে সুইজারল্যান্ড।
নদীর পানি পরিষ্কার রাখতে সুইজারল্যান্ডের সরকার প্রত্যেক বাসিন্দার কাছ থেকে গড়ে ২৩০ ডলার খরচ নেয়। এসবের জেরে বাসেল হয়ে উঠেছে ইউরোপের সবচেয়ে সাঁতারযোগ্য শহরগুলোর একটি। গ্রীষ্মের যেকোনো দিনে মানুষকে দেখা যায় পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে, শহরের ঝরনা থেকে পানি পান করতে।
তবে তাদেরও এ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে। ১৯৮৬ সালে দেশটির রাইন নদীতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে গিয়েছিল। পুরো নদী হয়ে উঠেছিল লাল। ওই ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা বড় মাপে পরিবর্তন আনতে শুরু করেন দেশজুড়ে।
২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যারা পানি থেকে রাসায়নিক দ্রব্য সরাতে রীতিমতো আইন পাস করে। দেশটির প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের নীতি সামনে আনতে ভূমিকা রাখছেন।

শত বছরের দূষিত নদী যেভাবে সাঁতারের উপযোগী হলো
সিজেডএন ডেস্ক

দূষণের কারণে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের সিন নদীতে গোসল বা সাঁতার কাটা একসময় ছিল অকল্পনীয়। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপরিশোধিত নর্দমার পানি এসে মিশতো এ নদীতে। ফলে এটি জীবাণুর আধার হয়ে ওঠে। তবে এখন নদীটির এই পয়োবর্জ্য সমস্যা আর নেই। যে নদী এত বছর সাঁতার কাটার অনুপযোগী ছিল, সেই নদীতেই এখন প্যারিসবাসীরা ভিড় করে সাঁতার কাটতে।
১৯২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো গত ৫ জুলাই জনসাধারণের জন্য নদীটিকে সাঁতারের উপযোগী করে খুলে দেয় শহর কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের সময় সিন নদীকে সাঁতারের ইভেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর আগেই নদীজুড়ে চালানো হয় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সিনকে দূষণমুক্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়।
রোমান্টিক নদী হিসেবে পরিচিত প্যারিসের সিন নদী। বহু চিত্রকর্ম, আলোকচিত্র এবং প্রেমের গানে উঠে এসেছে এর নাম। প্যারিসে প্রেমে পড়ার আদর্শ স্থান বললে অনেকের মনে আসে সিন নদীর তীর। তা সত্ত্বেও এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ নদী ছিল চরমভাবে দূষিত। এতটাই দূষিত যে অধিকাংশ মাছ এর পানিতে টিকে থাকতে পারতো না। ১৯২৩ সালে এই নদীতে সাঁতার কাটা নিষিদ্ধ করা হয়।

নদীর এমন দুরবস্থার জন্য দায়ী ছিল প্যারিসের প্রাচীন পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি আর বর্জ্যপানি বলতে গেলে একই পাইপ দিয়ে বইতো তখন। ভারী বৃষ্টিতে এই পাইপগুলো দ্রুত পূর্ণ হয়ে উপচে পড়তো। ফলে অপরিশোধিত নর্দমার পানি প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যান্টে না গিয়ে সরাসরি সিন নদীতে গিয়ে পড়তো। এর ফলে নদীতে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়।
ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া সাধারণত মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর মল-মূত্রে পাওয়া যায়। এর কিছু প্রজাতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। নদীতে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে থাকায় তা মানুষ ও জলজ প্রাণীর জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে।
১৯৮৮ সালে প্যারিসের কর্মকর্তারা নদী পরিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে আলাপ শুরু করেন। তবে ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি। ওই বছর প্যারিস ২০২৪ সালের অলিম্পিকের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়। এরপরই শুরু হয় সিন নদীকে পুনরুজ্জীবিত করার মিশন।

সিন নদীকে পরিচ্ছন্ন করতে দক্ষিণ-পূর্ব প্যারিসে একটি বিশাল ভূগর্ভস্থ বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার তৈরি করা হয়। তা ২০টি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের সমপরিমাণ পানি ধারণ করতে সক্ষম। এর উদ্দেশ্য ভারী বৃষ্টির সময় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা, যাতে প্যারিসের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে না পড়ে এবং অপরিশোধিত নর্দমার পানি নদীতে চলে না যায়। এ ছাড়া হাজার হাজার বাড়িকে নতুন করে নর্দমা সংযোগের আওতায় আনা হয়। আধুনিকায়ন করা হয় পানি পরিশোধন ব্যবস্থাও।
সিন নদীতে সাঁতার কাটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলেও অনেকের মধ্যে শঙ্কা রয়ে গেছে। এক জরিপে দেখা গেছে, প্যারিসের ৭০ শতাংশ বাসিন্দাই পানিতে নামতে রাজি নন। তাদের মাথায় গেঁথে গেছে দূষণের বিষয়টি।
শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাঁতারের মৌসুমে নির্ধারিত এলাকায় প্রতিদিন পানির গুণমান পরীক্ষা করা হবে। আপাতত প্যারিসের সিন নদীর তীর ঘেঁষে ৩টি স্থান নির্ধারিত করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে সেখানে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি মানুষ সাঁতার কাটতে পারবে।
এগিয়ে রয়েছে সুইজারল্যান্ড
শুধু প্যারিস নয়, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের শহরে এভাবে নদীকে আবার আগের মতো গোসল ও সাঁতারের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। এ তালিকায় সবার আগে রয়েছে সুইজারল্যান্ড।
নদীর পানি পরিষ্কার রাখতে সুইজারল্যান্ডের সরকার প্রত্যেক বাসিন্দার কাছ থেকে গড়ে ২৩০ ডলার খরচ নেয়। এসবের জেরে বাসেল হয়ে উঠেছে ইউরোপের সবচেয়ে সাঁতারযোগ্য শহরগুলোর একটি। গ্রীষ্মের যেকোনো দিনে মানুষকে দেখা যায় পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়তে, শহরের ঝরনা থেকে পানি পান করতে।
তবে তাদেরও এ পর্যন্ত আসতে সময় লেগেছে। ১৯৮৬ সালে দেশটির রাইন নদীতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে গিয়েছিল। পুরো নদী হয়ে উঠেছিল লাল। ওই ঘটনার পরপরই নড়েচড়ে বসেন দেশটির কর্মকর্তারা। তারা বড় মাপে পরিবর্তন আনতে শুরু করেন দেশজুড়ে।
২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড পরিণত হয় বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র, যারা পানি থেকে রাসায়নিক দ্রব্য সরাতে রীতিমতো আইন পাস করে। দেশটির প্রত্যক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা সরাসরি গণভোটের মাধ্যমে পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা ধরনের নীতি সামনে আনতে ভূমিকা রাখছেন।

বুড়িগঙ্গায় জলজ প্রাণী বেঁচে থাকার সুযোগ নেই: পরিজা





