জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস আজ
৩৩ শতাংশ খাদ্যেই ভেজাল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

৩৩ শতাংশ খাদ্যেই ভেজাল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
আয়নাল হোসেন

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি সুস্থ সবল জাতি গড়ি’– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এক সময় দেশে খাদ্যের অভাবে মানুষ মারা গেছে। আধুনিক চাষাবাদের কারণে সেই সংকট নেই বললেই চলে। তবে এখন নিরাপদ খাদ্যের সংকট বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য খেলে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস,, স্নায়ুরোগ, বন্ধ্যাত্বসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দেশে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) খাদ্যের গুণগতমান নিয়ে করা এক সমীক্ষায় এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
বিএফএসএ গত এক বছরে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশে ভেজাল পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ ২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলমূল থেকে শুরু করে ডাল, গুড়, মাছ, প্রক্রিয়াজাত, আমদানি করাাসহ নানা খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অনিরাপদ উপাদান রয়েছে। অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল ও ভেজাল হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব কারণে বাজার থেকে কেনা অনেক খাবারই এখন নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
অনিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির্টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, গুড়ে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। ডালে ভেজাল হচ্ছে। নানা ধরনের ফলমূল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ও কৃষকদের সচেতন করতে হবে।
ভেজালের মাত্রা বাড়ছে
বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত তিন বছর ধরে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯১টি বা ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১৬টি বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৭১টি বা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নমুনা নিম্নমানের বলে শনাক্ত করা হয়।
বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না। সাইফুল ইসলাম পরিচালক, বিএসটিআই
বিএফএসএ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের ১১ হাজার ২২০টি নমুনা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৫৩টি বা ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ অনিরাপদ বলে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে দেশের অনুমোদিত পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের দুই হাজার ২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৮৯টি নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়। আর ভ্রম্যমাণ পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ৯১৮টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ৬৯৬টি অনিরাপদ বলে শনাক্ত হয়। অর্থাৎ এক বছরে খাদ্যদ্রব্যের ২৫ হাজার ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষায় ছয় হাজার ৯৩৮টি বা ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়।
২০২১ সালের বিএফএসএর জরিপ অনুযায়ী দেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল খাদ্যের কারণে ৩৩ শতাংশ বয়স্ক মানুষ ও ৪০ শতাংশ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই জরিপে আরও বলা হয়, বাজারের ৬০ শতাংশ শাকসবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও ৬৭ শতাংশ বোতলজাত সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাট এবং অধিকাংশ জেলার মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদানের অভাবের কারণে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
- এক বছরে পরীক্ষা করা খাদ্যের ৩৩ শতাংশই নিম্নমানের
- ২৫ হাজার নমুনার মধ্যে ৬ হাজার ৯৩৮টি অনিরাপদ
- ছোটো পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত খাদ্যের ৪১ শতাংশই ভেজাল
- ল্যাবের অভাবে কঠোর শাস্তি দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ
ভেজাল ঠেকাতে আদালতের অভিযান
বিএসটিআইয়ের অভিযান, তবু নকল থামছে না
পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ২৭৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরদ্ধে এক হাজার মামলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে । একই সময়ে বিএসটিআইয়ের সার্ভিলেন্স টিম অভিযান চালিয়েছে এক হাজার ৮৮১টি। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে । আর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০ জনকে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না।
ভেজাল বন্ধে নানা উদ্যোগ
জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭১টিতে ভেজাল ও মানহীন বলে শনাক্ত হয়। তবে তাদের ল্যাবরেটরি না থাকায় বড় ধরনের জেল-জরিমানা করার মতো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাবের সংকট কাটলে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি সুস্থ সবল জাতি গড়ি’– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এক সময় দেশে খাদ্যের অভাবে মানুষ মারা গেছে। আধুনিক চাষাবাদের কারণে সেই সংকট নেই বললেই চলে। তবে এখন নিরাপদ খাদ্যের সংকট বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য খেলে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস,, স্নায়ুরোগ, বন্ধ্যাত্বসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দেশে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) খাদ্যের গুণগতমান নিয়ে করা এক সমীক্ষায় এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
বিএফএসএ গত এক বছরে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশে ভেজাল পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ ২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলমূল থেকে শুরু করে ডাল, গুড়, মাছ, প্রক্রিয়াজাত, আমদানি করাাসহ নানা খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অনিরাপদ উপাদান রয়েছে। অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল ও ভেজাল হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব কারণে বাজার থেকে কেনা অনেক খাবারই এখন নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
অনিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির্টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, গুড়ে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। ডালে ভেজাল হচ্ছে। নানা ধরনের ফলমূল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ও কৃষকদের সচেতন করতে হবে।
ভেজালের মাত্রা বাড়ছে
বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত তিন বছর ধরে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯১টি বা ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১৬টি বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৭১টি বা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নমুনা নিম্নমানের বলে শনাক্ত করা হয়।
বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না। সাইফুল ইসলাম পরিচালক, বিএসটিআই
বিএফএসএ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের ১১ হাজার ২২০টি নমুনা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৫৩টি বা ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ অনিরাপদ বলে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে দেশের অনুমোদিত পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের দুই হাজার ২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৮৯টি নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়। আর ভ্রম্যমাণ পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ৯১৮টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ৬৯৬টি অনিরাপদ বলে শনাক্ত হয়। অর্থাৎ এক বছরে খাদ্যদ্রব্যের ২৫ হাজার ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষায় ছয় হাজার ৯৩৮টি বা ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়।
২০২১ সালের বিএফএসএর জরিপ অনুযায়ী দেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল খাদ্যের কারণে ৩৩ শতাংশ বয়স্ক মানুষ ও ৪০ শতাংশ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই জরিপে আরও বলা হয়, বাজারের ৬০ শতাংশ শাকসবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও ৬৭ শতাংশ বোতলজাত সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাট এবং অধিকাংশ জেলার মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদানের অভাবের কারণে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
- এক বছরে পরীক্ষা করা খাদ্যের ৩৩ শতাংশই নিম্নমানের
- ২৫ হাজার নমুনার মধ্যে ৬ হাজার ৯৩৮টি অনিরাপদ
- ছোটো পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত খাদ্যের ৪১ শতাংশই ভেজাল
- ল্যাবের অভাবে কঠোর শাস্তি দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ
ভেজাল ঠেকাতে আদালতের অভিযান
বিএসটিআইয়ের অভিযান, তবু নকল থামছে না
পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ২৭৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরদ্ধে এক হাজার মামলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে । একই সময়ে বিএসটিআইয়ের সার্ভিলেন্স টিম অভিযান চালিয়েছে এক হাজার ৮৮১টি। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে । আর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০ জনকে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না।
ভেজাল বন্ধে নানা উদ্যোগ
জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭১টিতে ভেজাল ও মানহীন বলে শনাক্ত হয়। তবে তাদের ল্যাবরেটরি না থাকায় বড় ধরনের জেল-জরিমানা করার মতো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাবের সংকট কাটলে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

৩৩ শতাংশ খাদ্যেই ভেজাল, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য
আয়নাল হোসেন

‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করি সুস্থ সবল জাতি গড়ি’– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস। এক সময় দেশে খাদ্যের অভাবে মানুষ মারা গেছে। আধুনিক চাষাবাদের কারণে সেই সংকট নেই বললেই চলে। তবে এখন নিরাপদ খাদ্যের সংকট বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ ভেজাল বা অনিরাপদ খাদ্য খেলে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস,, স্নায়ুরোগ, বন্ধ্যাত্বসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। দেশে ভেজাল ও অনিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) খাদ্যের গুণগতমান নিয়ে করা এক সমীক্ষায় এ ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।
বিএফএসএ গত এক বছরে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশে ভেজাল পেয়েছে। এমন বাস্তবতায় আজ ২ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফলমূল থেকে শুরু করে ডাল, গুড়, মাছ, প্রক্রিয়াজাত, আমদানি করাাসহ নানা খাদ্যপণ্যে ভেজাল বা অনিরাপদ উপাদান রয়েছে। অনেক নামিদামি প্রতিষ্ঠানের পণ্য নকল ও ভেজাল হয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এসব কারণে বাজার থেকে কেনা অনেক খাবারই এখন নিরাপদ নয়। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
অনিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সির্টির পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, গুড়ে ভেজাল দেওয়া হচ্ছে। ডালে ভেজাল হচ্ছে। নানা ধরনের ফলমূল মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে। এসব অপতৎপরতা বন্ধে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ ও কৃষকদের সচেতন করতে হবে।
ভেজালের মাত্রা বাড়ছে
বিএফএসএ সূত্রে জানা গেছে, দেশে গত তিন বছর ধরে খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯১টি বা ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এক হাজার ৩৮১টি নমুনা পরীক্ষা করে ২১৬টি বা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৭১টি বা ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ নমুনা নিম্নমানের বলে শনাক্ত করা হয়।
বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না। সাইফুল ইসলাম পরিচালক, বিএসটিআই
বিএফএসএ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের ১১ হাজার ২২০টি নমুনা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬৫৩টি বা ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ অনিরাপদ বলে শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া একই সময়ে দেশের অনুমোদিত পরীক্ষাগারে খাদ্যদ্রব্যের দুই হাজার ২১টি নমুনা পরীক্ষায় ৬৮৯টি নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়। আর ভ্রম্যমাণ পরীক্ষাগারে ১১ হাজার ৯১৮টি নমুনা পরীক্ষায় এক হাজার ৬৯৬টি অনিরাপদ বলে শনাক্ত হয়। অর্থাৎ এক বছরে খাদ্যদ্রব্যের ২৫ হাজার ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষায় ছয় হাজার ৯৩৮টি বা ২৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ নিম্নমানের বলে শনাক্ত হয়।
২০২১ সালের বিএফএসএর জরিপ অনুযায়ী দেশের ৪০ শতাংশ খাদ্যে ভেজাল রয়েছে। এই ভেজাল খাদ্যের কারণে ৩৩ শতাংশ বয়স্ক মানুষ ও ৪০ শতাংশ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওই জরিপে আরও বলা হয়, বাজারের ৬০ শতাংশ শাকসবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও ৬৭ শতাংশ বোতলজাত সয়াবিন তেলে ট্রান্সফ্যাট এবং অধিকাংশ জেলার মাটিতে প্রয়োজনীয় জৈব উপাদানের অভাবের কারণে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
- এক বছরে পরীক্ষা করা খাদ্যের ৩৩ শতাংশই নিম্নমানের
- ২৫ হাজার নমুনার মধ্যে ৬ হাজার ৯৩৮টি অনিরাপদ
- ছোটো পরীক্ষাগারে পরীক্ষিত খাদ্যের ৪১ শতাংশই ভেজাল
- ল্যাবের অভাবে কঠোর শাস্তি দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ
ভেজাল ঠেকাতে আদালতের অভিযান
বিএসটিআইয়ের অভিযান, তবু নকল থামছে না
পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) ভ্রাম্যমাণ আদালত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ২৭৭টি অভিযান পরিচালনা করেছে। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরদ্ধে এক হাজার মামলা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে তিন কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে । একই সময়ে বিএসটিআইয়ের সার্ভিলেন্স টিম অভিযান চালিয়েছে এক হাজার ৮৮১টি। এই সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে । আর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ১০ জনকে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) সাইফুল ইসলাম সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বাজারে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছেন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের নকল পণ্য। দেশে কিংবা বিদেশ থেকে আমদানি করা যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্যদ্রব্যের বেশি চাহিদা সেগুলোই হুবহু নকল হচ্ছে। প্রায়ই তাদের অভিযানে এসব ভেজাল পণ্য শনাক্ত হচ্ছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য নকল করার প্রবণতা থামছে না।
ভেজাল বন্ধে নানা উদ্যোগ
জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, গত অর্থবছরে খাদ্যদ্রব্যের এক হাজার ৭১৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭১টিতে ভেজাল ও মানহীন বলে শনাক্ত হয়। তবে তাদের ল্যাবরেটরি না থাকায় বড় ধরনের জেল-জরিমানা করার মতো পরীক্ষা-নীরিক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাবের সংকট কাটলে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।




