ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিন: কূটনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা
সিটিজেন ডেস্ক

ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিন: কূটনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৪৩

ইরান, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয়পক্ষই যুদ্ধের ময়দান আর কূটনৈতিক সমাধান-এই দুইটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সংঘাতের ৫৭তম দিনে এসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শুধু সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা।
কূটনীতির নতুন কেন্দ্র ইসলামাবাদ
এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই দক্ষিণ এশিয়ার শহর ইসলামাবাদ কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রথমে হোয়াইট হাউস মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সফর বাতিলের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ছেড়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফর বাতিলের ঘটনা আরও বড় এক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরপর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আদৌ নতুন করে আলোচনায় ফিরবে কি না, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় থাকলেও, সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়ার ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের বার্তা: ‘শেষ সুযোগ’
ইরানের সামনে এখনো একটি ‘সুযোগ’ রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেই সুযোগ হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং ‘অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করা।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারসহ ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০টি জাহাজ ও কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির ‘প্রেশার পয়েন্ট’ হরমুজ প্রণালি
সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জ্বালানি বাজারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে কোনো বিধিনিষেধ বা টোল ছাড়াই খুলে দিতে হবে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের কারণে এলএনজি বাজার ২০২৬ তেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাপের মধ্যে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। কুয়েতে ইরাক থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হেনেছে, যদিও কোনো প্রাণহানি হয়নি। ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের উপর মার্কিন চাপ স্পষ্ট করে।
ইসরায়েল, লেবানন ও গাজা: সংঘর্ষের বিস্তৃতি
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো লেবানন ও গাজা ফ্রন্ট। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।
এদিকে আজও দক্ষিণ লেবাননে গোলাগুলিতে হিজবুল্লাহর ছয় যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সময়ে হিজবুল্লাহ একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে।
গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা।
যুদ্ধ, কূটনীতি ও অনিশ্চয়তা
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিনে এসেও একদিকে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তির প্রদর্শন এবং সর্বশেষ মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিলের ঘটনা—সবকিছু যেনো পরিস্থিতিকে আবার এক অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা থামাতে পারবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে তীব্র বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেবে—সেটি হয়তো বিশ্ব খুব দ্রুতই জানতে পারবে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয়পক্ষই যুদ্ধের ময়দান আর কূটনৈতিক সমাধান-এই দুইটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সংঘাতের ৫৭তম দিনে এসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শুধু সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা।
কূটনীতির নতুন কেন্দ্র ইসলামাবাদ
এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই দক্ষিণ এশিয়ার শহর ইসলামাবাদ কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রথমে হোয়াইট হাউস মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সফর বাতিলের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ছেড়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফর বাতিলের ঘটনা আরও বড় এক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরপর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আদৌ নতুন করে আলোচনায় ফিরবে কি না, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় থাকলেও, সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়ার ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের বার্তা: ‘শেষ সুযোগ’
ইরানের সামনে এখনো একটি ‘সুযোগ’ রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেই সুযোগ হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং ‘অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করা।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারসহ ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০টি জাহাজ ও কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির ‘প্রেশার পয়েন্ট’ হরমুজ প্রণালি
সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জ্বালানি বাজারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে কোনো বিধিনিষেধ বা টোল ছাড়াই খুলে দিতে হবে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের কারণে এলএনজি বাজার ২০২৬ তেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাপের মধ্যে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। কুয়েতে ইরাক থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হেনেছে, যদিও কোনো প্রাণহানি হয়নি। ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের উপর মার্কিন চাপ স্পষ্ট করে।
ইসরায়েল, লেবানন ও গাজা: সংঘর্ষের বিস্তৃতি
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো লেবানন ও গাজা ফ্রন্ট। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।
এদিকে আজও দক্ষিণ লেবাননে গোলাগুলিতে হিজবুল্লাহর ছয় যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সময়ে হিজবুল্লাহ একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে।
গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা।
যুদ্ধ, কূটনীতি ও অনিশ্চয়তা
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিনে এসেও একদিকে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তির প্রদর্শন এবং সর্বশেষ মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিলের ঘটনা—সবকিছু যেনো পরিস্থিতিকে আবার এক অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা থামাতে পারবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে তীব্র বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেবে—সেটি হয়তো বিশ্ব খুব দ্রুতই জানতে পারবে।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিন: কূটনৈতিক চাপ ও অনিশ্চয়তা
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩: ৪৩

ইরান, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয়পক্ষই যুদ্ধের ময়দান আর কূটনৈতিক সমাধান-এই দুইটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সংঘাতের ৫৭তম দিনে এসে স্পষ্ট হয়ে উঠছে শুধু সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক হিসাব-নিকাশ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হয়েছে এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা।
কূটনীতির নতুন কেন্দ্র ইসলামাবাদ
এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই দক্ষিণ এশিয়ার শহর ইসলামাবাদ কূটনৈতিক তৎপরতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রথমে হোয়াইট হাউস মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিল। কিন্তু পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই সফর বাতিলের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামাবাদ ছেড়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফর বাতিলের ঘটনা আরও বড় এক অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এরপর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আদৌ নতুন করে আলোচনায় ফিরবে কি না, সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় থাকলেও, সরাসরি সংলাপ শুরু হওয়ার ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটনের বার্তা: ‘শেষ সুযোগ’
ইরানের সামনে এখনো একটি ‘সুযোগ’ রয়েছে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেই সুযোগ হলো একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং ‘অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রচেষ্টা ত্যাগ করা।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়ে চলেছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৪৪ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া চীনের একটি বড় তেল শোধনাগারসহ ইরানের তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪০টি জাহাজ ও কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির ‘প্রেশার পয়েন্ট’ হরমুজ প্রণালি
সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জ্বালানি বাজারে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা জোর দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে কোনো বিধিনিষেধ বা টোল ছাড়াই খুলে দিতে হবে। কারণ এই প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধের কারণে এলএনজি বাজার ২০২৬ তেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চাপের মধ্যে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
উপসাগর অঞ্চলে উত্তেজনা
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়ছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। কুয়েতে ইরাক থেকে ছোড়া দুটি ড্রোন সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হেনেছে, যদিও কোনো প্রাণহানি হয়নি। ঘটনাটি দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ নেই, এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা অঞ্চলে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও বাড়ছে। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে, যা ইরানের উপর মার্কিন চাপ স্পষ্ট করে।
ইসরায়েল, লেবানন ও গাজা: সংঘর্ষের বিস্তৃতি
এই যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো লেবানন ও গাজা ফ্রন্ট। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভিযোগ করেছেন, হিজবুল্লাহ লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি ‘ঐতিহাসিক’ শান্তি চুক্তিকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে।
এদিকে আজও দক্ষিণ লেবাননে গোলাগুলিতে হিজবুল্লাহর ছয় যোদ্ধা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। একই সময়ে হিজবুল্লাহ একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার কথাও জানিয়েছে।
গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ কর্মকর্তা।
যুদ্ধ, কূটনীতি ও অনিশ্চয়তা
সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের ৫৭তম দিনে এসেও একদিকে ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সামরিক শক্তির প্রদর্শন এবং সর্বশেষ মার্কিন প্রতিনিধি দলের সফর বাতিলের ঘটনা—সবকিছু যেনো পরিস্থিতিকে আবার এক অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি শেষ পর্যন্ত এই উত্তেজনা থামাতে পারবে, নাকি সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে তীব্র বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেবে—সেটি হয়তো বিশ্ব খুব দ্রুতই জানতে পারবে।
সূত্র: আল জাজিরা
/এমআর/



