জাগৃকের ‘জুলাইযোদ্ধা’ প্রকল্প: ২১০০ কোটির দরপত্রে ‘রহস্যজনক’ মিল

জাগৃকের ‘জুলাইযোদ্ধা’ প্রকল্প: ২১০০ কোটির দরপত্রে ‘রহস্যজনক’ মিল
সেলিনা আক্তার

সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট বা আতাঁত দূর করতে বিভিন্ন সময় ক্রয় প্রক্রিয়ায় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে (পিপিপি) আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। তবুও অভিনব কায়দায় গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কবল থেকে যেন মুক্তি নেই।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) জুলাইযোদ্ধাদের জন্য হাতে নেওয়া প্রায় ২১’শ কোটি টাকার আবাসিক প্রকল্পের দরপত্র পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, ৬টি প্যাকেজে দর দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে আসে ‘সাজানো’ দরের চিত্র। একই প্রতিষ্ঠান সবগুলো দরপত্রে অংশ নিয়ে সামান্য কিছু টাকা ব্যবধানে দর দিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজগুলো বিলি-বন্টনের ক্ষেত্রেই কেবল এমন কৌশল নেওয়া হয়ে থাকে। তবে প্রকৌশলীদের দাবি, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের আতাঁত বা সিন্ডিকেটের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে যা হয়েছে বিদ্যমান আইন মেনেই হয়েছে।
সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।
আবু হোরায়রা নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
এ বিষয়ে জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) আবু হোরায়রা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৬টি প্যাকেজে একটিতে ১’শ ২৭ কোটি টাকা দিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হলো জামাল এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নূরানী ১’শ ২৮ কোটি টাকা। আর ৬৫ লাখ বেশি দর দিয়েছে হোসেন কনস্ট্রাকশন অর্থ্যাৎ ১’শ ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারর্স) এবং কেসিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, পদ্মা কনস্ট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৯ কোটি টাকা, কুশলী বির্ল্ডাস ১’শ ২৬ কোটি ৮৫ টাকা, জামাল এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মল্লিক কন্সট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এদিকে তৃতীয় প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বঙ্গ বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চতুর্থ প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ দর দিয়েছে ৬৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ৬৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ডেল্টা ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, স্টারলাইট লিমিটেড ৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, সিসিএল অ্যান্ড টিবিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার ৬৪ কোটি ৪৪ লাখ দর দিয়েছে। পঞ্চম প্যাকেজে নূরারী বিল্ডার্স ১’শ ২৮ কোটি ৬১ টাকা, টিসিএল অ্যান্ড মল্লিক কন্সট্রাকশন জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার ১’শ ২৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দিয়েছে। ষষ্ঠ প্যাকেজে কুশলী বিল্ডার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, বঙ্গ বিল্ডার্স ১’শ ২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দর দিয়েছে।
তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ছয়টি প্যাকেজে প্রায় একই প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দর দিয়েছে। একেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের দর খুব বেশি তফাৎ নেই। আবার হাতেগুনা তিন চারটি প্রতিষ্ঠান সবগুলো প্যাকেজে কৌশলে অংশ নিয়েছে। যাতে সমন্বয় করে সবাই কম বেশি কাজ পেয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী যিনি দরপত্র আহবান করেছেন তারা ভাগবাটোয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদার ইতিমধ্যে জাগৃকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। যদিও বর্তমান দরপত্র পদ্দতিতে কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান জাগৃকের একাধিক প্রকৌশলী। এছাড়া বড় আকারের এ প্রকল্পে যাতে বেশি ঠিকাদার অংশ নিতে পারে সেইভাবেই দরপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের স্থায়ী আবাসন সুবিধা দিতে ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মিরপুরের ৯ ও ১৪ নম্বর সেকশনে জাগৃকের জায়গায় দুই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ২ হাজার ৩৬৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট। ৫ দশমিক শূন্য ৮ একর জমিতে ১ হাজার ৩৫৫ বর্গফুট আয়তনের মোট ৮০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বেজমেন্টসহ ছয়টি ১৪ তলা ভবনে ৬০০টি এবং ১২টি ১০ তলা ভবনে ২০৪টি ফ্ল্যাট করা হবে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে এক হাজার কেজির বেড লিফট, ৮০০ কেজির প্যাসেঞ্জার লিফট, সোলার, জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা। ২০২৬-এ শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে।
এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।
আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্পে থাকছে ৯ নম্বর সেকশনে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট। এখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট। দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা উচ্চতার এ ভবনে নির্মাণ করা হবে পার্কিং, লিফট, সোলার, জেনারেটর, সিসি ক্যামেরাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।’

সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট বা আতাঁত দূর করতে বিভিন্ন সময় ক্রয় প্রক্রিয়ায় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে (পিপিপি) আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। তবুও অভিনব কায়দায় গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কবল থেকে যেন মুক্তি নেই।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) জুলাইযোদ্ধাদের জন্য হাতে নেওয়া প্রায় ২১’শ কোটি টাকার আবাসিক প্রকল্পের দরপত্র পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, ৬টি প্যাকেজে দর দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে আসে ‘সাজানো’ দরের চিত্র। একই প্রতিষ্ঠান সবগুলো দরপত্রে অংশ নিয়ে সামান্য কিছু টাকা ব্যবধানে দর দিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজগুলো বিলি-বন্টনের ক্ষেত্রেই কেবল এমন কৌশল নেওয়া হয়ে থাকে। তবে প্রকৌশলীদের দাবি, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের আতাঁত বা সিন্ডিকেটের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে যা হয়েছে বিদ্যমান আইন মেনেই হয়েছে।
সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।
আবু হোরায়রা নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
এ বিষয়ে জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) আবু হোরায়রা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৬টি প্যাকেজে একটিতে ১’শ ২৭ কোটি টাকা দিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হলো জামাল এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নূরানী ১’শ ২৮ কোটি টাকা। আর ৬৫ লাখ বেশি দর দিয়েছে হোসেন কনস্ট্রাকশন অর্থ্যাৎ ১’শ ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারর্স) এবং কেসিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, পদ্মা কনস্ট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৯ কোটি টাকা, কুশলী বির্ল্ডাস ১’শ ২৬ কোটি ৮৫ টাকা, জামাল এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মল্লিক কন্সট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এদিকে তৃতীয় প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বঙ্গ বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চতুর্থ প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ দর দিয়েছে ৬৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ৬৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ডেল্টা ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, স্টারলাইট লিমিটেড ৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, সিসিএল অ্যান্ড টিবিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার ৬৪ কোটি ৪৪ লাখ দর দিয়েছে। পঞ্চম প্যাকেজে নূরারী বিল্ডার্স ১’শ ২৮ কোটি ৬১ টাকা, টিসিএল অ্যান্ড মল্লিক কন্সট্রাকশন জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার ১’শ ২৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দিয়েছে। ষষ্ঠ প্যাকেজে কুশলী বিল্ডার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, বঙ্গ বিল্ডার্স ১’শ ২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দর দিয়েছে।
তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ছয়টি প্যাকেজে প্রায় একই প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দর দিয়েছে। একেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের দর খুব বেশি তফাৎ নেই। আবার হাতেগুনা তিন চারটি প্রতিষ্ঠান সবগুলো প্যাকেজে কৌশলে অংশ নিয়েছে। যাতে সমন্বয় করে সবাই কম বেশি কাজ পেয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী যিনি দরপত্র আহবান করেছেন তারা ভাগবাটোয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদার ইতিমধ্যে জাগৃকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। যদিও বর্তমান দরপত্র পদ্দতিতে কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান জাগৃকের একাধিক প্রকৌশলী। এছাড়া বড় আকারের এ প্রকল্পে যাতে বেশি ঠিকাদার অংশ নিতে পারে সেইভাবেই দরপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের স্থায়ী আবাসন সুবিধা দিতে ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মিরপুরের ৯ ও ১৪ নম্বর সেকশনে জাগৃকের জায়গায় দুই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ২ হাজার ৩৬৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট। ৫ দশমিক শূন্য ৮ একর জমিতে ১ হাজার ৩৫৫ বর্গফুট আয়তনের মোট ৮০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বেজমেন্টসহ ছয়টি ১৪ তলা ভবনে ৬০০টি এবং ১২টি ১০ তলা ভবনে ২০৪টি ফ্ল্যাট করা হবে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে এক হাজার কেজির বেড লিফট, ৮০০ কেজির প্যাসেঞ্জার লিফট, সোলার, জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা। ২০২৬-এ শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে।
এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।
আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্পে থাকছে ৯ নম্বর সেকশনে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট। এখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট। দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা উচ্চতার এ ভবনে নির্মাণ করা হবে পার্কিং, লিফট, সোলার, জেনারেটর, সিসি ক্যামেরাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।’

জাগৃকের ‘জুলাইযোদ্ধা’ প্রকল্প: ২১০০ কোটির দরপত্রে ‘রহস্যজনক’ মিল
সেলিনা আক্তার

সরকারি দরপত্রে সিন্ডিকেট বা আতাঁত দূর করতে বিভিন্ন সময় ক্রয় প্রক্রিয়ায় বা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনে (পিপিপি) আনা হয়েছে নানা পরিবর্তন। তবুও অভিনব কায়দায় গড়ে উঠা সিন্ডিকেটের কবল থেকে যেন মুক্তি নেই।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) জুলাইযোদ্ধাদের জন্য হাতে নেওয়া প্রায় ২১’শ কোটি টাকার আবাসিক প্রকল্পের দরপত্র পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, ৬টি প্যাকেজে দর দেওয়ার ক্ষেত্রে উঠে আসে ‘সাজানো’ দরের চিত্র। একই প্রতিষ্ঠান সবগুলো দরপত্রে অংশ নিয়ে সামান্য কিছু টাকা ব্যবধানে দর দিয়ে প্রতিযোগিতা করেছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজগুলো বিলি-বন্টনের ক্ষেত্রেই কেবল এমন কৌশল নেওয়া হয়ে থাকে। তবে প্রকৌশলীদের দাবি, নতুন দরপত্র প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের আতাঁত বা সিন্ডিকেটের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে যা হয়েছে বিদ্যমান আইন মেনেই হয়েছে।
সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।
আবু হোরায়রা নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
এ বিষয়ে জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী (ঢাকা ডিভিশন-১) আবু হোরায়রা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘সব ভবনের আয়তন ও নকশা এক হওয়ায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দর কাছাকাছি হওয়াটা স্বাভাবিক। দরপত্র যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনার পরই ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৬টি প্যাকেজে একটিতে ১’শ ২৭ কোটি টাকা দিয়ে সর্বনিন্ম দরদাতা হলো জামাল এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নূরানী ১’শ ২৮ কোটি টাকা। আর ৬৫ লাখ বেশি দর দিয়েছে হোসেন কনস্ট্রাকশন অর্থ্যাৎ ১’শ ২৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে এনডিই (ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারর্স) এবং কেসিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, পদ্মা কনস্ট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৯ কোটি টাকা, কুশলী বির্ল্ডাস ১’শ ২৬ কোটি ৮৫ টাকা, জামাল এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, মল্লিক কন্সট্রাকশন দর দিয়েছে ১’শ ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা।
এদিকে তৃতীয় প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বঙ্গ বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ১’শ ২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। চতুর্থ প্যাকেজে হোসেন এন্টারপ্রাইজ দর দিয়েছে ৬৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, নূরানী বির্ল্ডাস ৬৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ডেল্টা ৬৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, স্টারলাইট লিমিটেড ৬৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, সিসিএল অ্যান্ড টিবিএল জয়েন্ট ভ্যানঞ্চার ৬৪ কোটি ৪৪ লাখ দর দিয়েছে। পঞ্চম প্যাকেজে নূরারী বিল্ডার্স ১’শ ২৮ কোটি ৬১ টাকা, টিসিএল অ্যান্ড মল্লিক কন্সট্রাকশন জয়েন্ট ভ্যাঞ্চার ১’শ ২৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা দর দিয়েছে। ষষ্ঠ প্যাকেজে কুশলী বিল্ডার্স দর দিয়েছে ১’শ ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, বঙ্গ বিল্ডার্স ১’শ ২৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, এনডিই ১’শ ২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা দর দিয়েছে।
তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, ছয়টি প্যাকেজে প্রায় একই প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন স্থানে দর দিয়েছে। একেকটি প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের দর খুব বেশি তফাৎ নেই। আবার হাতেগুনা তিন চারটি প্রতিষ্ঠান সবগুলো প্যাকেজে কৌশলে অংশ নিয়েছে। যাতে সমন্বয় করে সবাই কম বেশি কাজ পেয়ে যান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর জাগৃকের নির্বাহী প্রকৌশলী যিনি দরপত্র আহবান করেছেন তারা ভাগবাটোয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আবার দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদার ইতিমধ্যে জাগৃকের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন। যদিও বর্তমান দরপত্র পদ্দতিতে কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান জাগৃকের একাধিক প্রকৌশলী। এছাড়া বড় আকারের এ প্রকল্পে যাতে বেশি ঠিকাদার অংশ নিতে পারে সেইভাবেই দরপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে।
জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের স্থায়ী আবাসন সুবিধা দিতে ২ হাজার ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মিরপুরের ৯ ও ১৪ নম্বর সেকশনে জাগৃকের জায়গায় দুই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হবে ২ হাজার ৩৬৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট। ৫ দশমিক শূন্য ৮ একর জমিতে ১ হাজার ৩৫৫ বর্গফুট আয়তনের মোট ৮০৪টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে বেজমেন্টসহ ছয়টি ১৪ তলা ভবনে ৬০০টি এবং ১২টি ১০ তলা ভবনে ২০৪টি ফ্ল্যাট করা হবে। অন্যান্য সুবিধার মধ্যে এক হাজার কেজির বেড লিফট, ৮০০ কেজির প্যাসেঞ্জার লিফট, সোলার, জেনারেটর ও সিসি ক্যামেরা। ২০২৬-এ শুরু হওয়া এ প্রকল্প শেষ হবে ২০২৯ সালের ডিসেম্বরে।
এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।
আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়), জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ
একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্পে থাকছে ৯ নম্বর সেকশনে ১ হাজার ৫৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট। এখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট। দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা উচ্চতার এ ভবনে নির্মাণ করা হবে পার্কিং, লিফট, সোলার, জেনারেটর, সিসি ক্যামেরাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাগৃকের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) আবুল কাশেম মোহাম্মদ শাহজালাল মজুমদার সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘এই মূহূর্তে আমার কাছে তথ্য নেই, বিস্তারিত বলতে পারবো না।’




