ঢাকার দক্ষিণাংশে পয়োনিষ্কাশনে বড় পরিবর্তন, উপকৃত হবে ১৪ লাখ মানুষ

ঢাকার দক্ষিণাংশে পয়োনিষ্কাশনে বড় পরিবর্তন, উপকৃত হবে ১৪ লাখ মানুষ
আয়নাল হোসেন

ঢাকা মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর দক্ষিণাংশের বিশাল এলাকার বর্জ্য সরাসরি আর বুড়িগঙ্গায় মিশবে না। আধুনিক প্রযুক্তিতে শোধন হয়ে বর্জ্য থেকে পানি আলাদা হয়ে নদীতে পড়বে আর বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের (ডিএসআইপি) আওতায় পয়োনিষ্কাশনের এই আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ উন্নত পয়োসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে বড় পরিসরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর কলাবাগান, মগবাজার, শাহবাগ, ইস্কাটন, আরামবাগ, পল্টন, সায়দাবাদ, মতিঝিল, রামপুরা, তালতলা, বাসাবো, গোলাপবাগ, আহমেদবাগ, শহীদবাগ, গোরান, বেগুনবাড়ি, খিলগাঁও, পশ্চিম নন্দীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা এ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। বর্তমানে এসব এলাকার পয়োবর্জ্যের বড় অংশ খোলা ড্রেন, খাল কিংবা অপরিশোধিত অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিশছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আধুনিক পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বর্জ্য যাবে পাগলা পয়োশোধনাগারে। এতে বুড়িগঙ্গা ও আশপাশের জলাশয়গুলোর দূষণ উল্লেখযোগ্যহারে কমবে।
- প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
- সরাসরি উপকৃত হবে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ।
- পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে ১২০ থেকে ২০০ এমএলডি।
১৪ লাখ মানুষ পাবে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষে হলে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরাসরি উন্নত ও নিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। এর ফলে খোলা ড্রেন ও অনিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার কারণে ছড়ানো পানিবাহিত রোগ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে মাটি ও বায়ু দূষণ হ্রাস পাবে, যা এলাকাগুলোর বাসযোগ্যতার সূচক (লিভ্যাবিলিটি ইনডেক্স) কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সমালোচনা করে বলছেন, প্রচুর টাকা ব্যয় করে শুধু ১৪ লাখ মানুষের উপকার হলে হবে না। আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ
প্রকল্পটি কেবল পয়োনিষ্কাশনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাগলা পয়োশোধনাগারে অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বর্জ্য ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পচিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। পরে সেই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে শোধনাগারের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৮৯ কোটি টাকা। বাকি অর্থের মধ্যে বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৮৭০ কোটি এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, ১৯৭৮ সালে নির্মিত পাগলা পয়োশোধনাগারটি দীর্ঘকাল ঢাকার একমাত্র ভরসা ছিল। তবে প্রতিদিন ১২ কোটি লিটার (এমএলডি) বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার এই পুরোনো কাঠামো দিয়ে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই এই প্রকল্পের অধীনে এটিকে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরের ১৬ মে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিএ টেক ওয়াবাগ লিমিটেডের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছে ঢাকা ওয়াসা। নির্মাণ শেষে পরবর্তী ৫ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে এই প্রতিষ্ঠান।
নগরবাসীর প্রত্যাশা
পুরান ঢাকার বাবুবাজার–বাদামতলী সমাজকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, পয়োনিষ্কাশনের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়াটা খুবই জরুরি। তবে উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে যাতে জনভোগান্তি না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে সবার জন্যই ভালো হবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীতে যদি পয়োবর্জ্য না পড়ে তাহলে নদীর জন্য ভালো হবে।
ঢাকা ওয়াসার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাকে পাঁচটি ক্যাচমেন্টে (পাগলা, দাশেরকান্দি, উত্তরা, রায়েরবাজার ও মিরপুর) ভাগ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি–৬) অর্জনে এই প্রকল্পগুলো মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বুড়িগঙ্গা নদীর পানির গুণগত মান পূর্বের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে এবং এলাকার বাসযোগ্যতার মান অনেকগুণ বাড়বে।
প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত
পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরী। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি।
ইকবাল হাবীব নগর পরিকল্পনাবিদ
একট বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরি। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। পয়োবর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় হাতিরঝিল,ধানমন্ডি লেক ও আশপাশের খাল–বিল সবই দূষিত হয়ে পড়ছে। প্রতি ১০ বছর পর পর তারা একটি প্রকল্প নেয়, কিন্তু এগুলো মানুষের উপকারে আসে না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন–বাপার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ন–সাধারণ সম্পাদক জাভেদ জাহান বলেন, যেসব সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত তাদের সমন্বয়ে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিকভাবে প্রকল্প নিতে হবে।

ঢাকা মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর দক্ষিণাংশের বিশাল এলাকার বর্জ্য সরাসরি আর বুড়িগঙ্গায় মিশবে না। আধুনিক প্রযুক্তিতে শোধন হয়ে বর্জ্য থেকে পানি আলাদা হয়ে নদীতে পড়বে আর বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের (ডিএসআইপি) আওতায় পয়োনিষ্কাশনের এই আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ উন্নত পয়োসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে বড় পরিসরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর কলাবাগান, মগবাজার, শাহবাগ, ইস্কাটন, আরামবাগ, পল্টন, সায়দাবাদ, মতিঝিল, রামপুরা, তালতলা, বাসাবো, গোলাপবাগ, আহমেদবাগ, শহীদবাগ, গোরান, বেগুনবাড়ি, খিলগাঁও, পশ্চিম নন্দীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা এ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। বর্তমানে এসব এলাকার পয়োবর্জ্যের বড় অংশ খোলা ড্রেন, খাল কিংবা অপরিশোধিত অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিশছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আধুনিক পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বর্জ্য যাবে পাগলা পয়োশোধনাগারে। এতে বুড়িগঙ্গা ও আশপাশের জলাশয়গুলোর দূষণ উল্লেখযোগ্যহারে কমবে।
- প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
- সরাসরি উপকৃত হবে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ।
- পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে ১২০ থেকে ২০০ এমএলডি।
১৪ লাখ মানুষ পাবে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষে হলে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরাসরি উন্নত ও নিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। এর ফলে খোলা ড্রেন ও অনিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার কারণে ছড়ানো পানিবাহিত রোগ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে মাটি ও বায়ু দূষণ হ্রাস পাবে, যা এলাকাগুলোর বাসযোগ্যতার সূচক (লিভ্যাবিলিটি ইনডেক্স) কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সমালোচনা করে বলছেন, প্রচুর টাকা ব্যয় করে শুধু ১৪ লাখ মানুষের উপকার হলে হবে না। আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ
প্রকল্পটি কেবল পয়োনিষ্কাশনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাগলা পয়োশোধনাগারে অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বর্জ্য ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পচিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। পরে সেই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে শোধনাগারের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৮৯ কোটি টাকা। বাকি অর্থের মধ্যে বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৮৭০ কোটি এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, ১৯৭৮ সালে নির্মিত পাগলা পয়োশোধনাগারটি দীর্ঘকাল ঢাকার একমাত্র ভরসা ছিল। তবে প্রতিদিন ১২ কোটি লিটার (এমএলডি) বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার এই পুরোনো কাঠামো দিয়ে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই এই প্রকল্পের অধীনে এটিকে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরের ১৬ মে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিএ টেক ওয়াবাগ লিমিটেডের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছে ঢাকা ওয়াসা। নির্মাণ শেষে পরবর্তী ৫ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে এই প্রতিষ্ঠান।
নগরবাসীর প্রত্যাশা
পুরান ঢাকার বাবুবাজার–বাদামতলী সমাজকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, পয়োনিষ্কাশনের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়াটা খুবই জরুরি। তবে উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে যাতে জনভোগান্তি না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে সবার জন্যই ভালো হবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীতে যদি পয়োবর্জ্য না পড়ে তাহলে নদীর জন্য ভালো হবে।
ঢাকা ওয়াসার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাকে পাঁচটি ক্যাচমেন্টে (পাগলা, দাশেরকান্দি, উত্তরা, রায়েরবাজার ও মিরপুর) ভাগ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি–৬) অর্জনে এই প্রকল্পগুলো মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বুড়িগঙ্গা নদীর পানির গুণগত মান পূর্বের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে এবং এলাকার বাসযোগ্যতার মান অনেকগুণ বাড়বে।
প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত
পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরী। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি।
ইকবাল হাবীব নগর পরিকল্পনাবিদ
একট বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরি। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। পয়োবর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় হাতিরঝিল,ধানমন্ডি লেক ও আশপাশের খাল–বিল সবই দূষিত হয়ে পড়ছে। প্রতি ১০ বছর পর পর তারা একটি প্রকল্প নেয়, কিন্তু এগুলো মানুষের উপকারে আসে না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন–বাপার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ন–সাধারণ সম্পাদক জাভেদ জাহান বলেন, যেসব সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত তাদের সমন্বয়ে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিকভাবে প্রকল্প নিতে হবে।

ঢাকার দক্ষিণাংশে পয়োনিষ্কাশনে বড় পরিবর্তন, উপকৃত হবে ১৪ লাখ মানুষ
আয়নাল হোসেন

ঢাকা মহানগরীর পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর দক্ষিণাংশের বিশাল এলাকার বর্জ্য সরাসরি আর বুড়িগঙ্গায় মিশবে না। আধুনিক প্রযুক্তিতে শোধন হয়ে বর্জ্য থেকে পানি আলাদা হয়ে নদীতে পড়বে আর বর্জ্য থেকে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের (ডিএসআইপি) আওতায় পয়োনিষ্কাশনের এই আধুনিক পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ উন্নত পয়োসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা শহরের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর করতে বড় পরিসরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ওয়াসা। রাজধানীর কলাবাগান, মগবাজার, শাহবাগ, ইস্কাটন, আরামবাগ, পল্টন, সায়দাবাদ, মতিঝিল, রামপুরা, তালতলা, বাসাবো, গোলাপবাগ, আহমেদবাগ, শহীদবাগ, গোরান, বেগুনবাড়ি, খিলগাঁও, পশ্চিম নন্দীপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা এ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। বর্তমানে এসব এলাকার পয়োবর্জ্যের বড় অংশ খোলা ড্রেন, খাল কিংবা অপরিশোধিত অবস্থায় বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিশছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আধুনিক পাইপলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব বর্জ্য যাবে পাগলা পয়োশোধনাগারে। এতে বুড়িগঙ্গা ও আশপাশের জলাশয়গুলোর দূষণ উল্লেখযোগ্যহারে কমবে।
- প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা।
- সরাসরি উপকৃত হবে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ।
- পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে ১২০ থেকে ২০০ এমএলডি।
১৪ লাখ মানুষ পাবে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের কাজ শেষে হলে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ সরাসরি উন্নত ও নিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার আওতায় আসবে। এর ফলে খোলা ড্রেন ও অনিরাপদ পয়োব্যবস্থাপনার কারণে ছড়ানো পানিবাহিত রোগ, দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে মাটি ও বায়ু দূষণ হ্রাস পাবে, যা এলাকাগুলোর বাসযোগ্যতার সূচক (লিভ্যাবিলিটি ইনডেক্স) কয়েক ধাপ এগিয়ে নেবে।
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সমালোচনা করে বলছেন, প্রচুর টাকা ব্যয় করে শুধু ১৪ লাখ মানুষের উপকার হলে হবে না। আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতে উপকৃত হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্প নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে বিদ্যুৎ
প্রকল্পটি কেবল পয়োনিষ্কাশনেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবেশ রক্ষায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাগলা পয়োশোধনাগারে অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে বর্জ্য ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে পচিয়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করা হবে। পরে সেই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এতে একদিকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে শোধনাগারের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি
ঢাকা ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২০ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ১৮৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ৮৯ কোটি টাকা। বাকি অর্থের মধ্যে বিশ্বব্যাংক এক হাজার ৮৭০ কোটি এবং এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ১ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে।
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৮ সালের এপ্রিলের মধ্যে শেষ হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
পাগলা পয়োশোধনাগারের সক্ষমতা বাড়ছে
ঢাকা স্যানিটেশন ইম্প্রুভমেন্ট প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিঞা বলেন, ১৯৭৮ সালে নির্মিত পাগলা পয়োশোধনাগারটি দীর্ঘকাল ঢাকার একমাত্র ভরসা ছিল। তবে প্রতিদিন ১২ কোটি লিটার (এমএলডি) বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার এই পুরোনো কাঠামো দিয়ে বিশাল জনসংখ্যার চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই এই প্রকল্পের অধীনে এটিকে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে। গত বছরের ১৬ মে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভিএ টেক ওয়াবাগ লিমিটেডের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি করেছে ঢাকা ওয়াসা। নির্মাণ শেষে পরবর্তী ৫ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও পালন করবে এই প্রতিষ্ঠান।
নগরবাসীর প্রত্যাশা
পুরান ঢাকার বাবুবাজার–বাদামতলী সমাজকল্যাণ সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, পয়োনিষ্কাশনের জন্য উন্নয়নমূলক প্রকল্প নেওয়াটা খুবই জরুরি। তবে উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন রাস্তাঘাট বন্ধ রেখে যাতে জনভোগান্তি না হয় সেদিকে কর্তৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারলে সবার জন্যই ভালো হবে। এ ছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীতে যদি পয়োবর্জ্য না পড়ে তাহলে নদীর জন্য ভালো হবে।
ঢাকা ওয়াসার মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকাকে পাঁচটি ক্যাচমেন্টে (পাগলা, দাশেরকান্দি, উত্তরা, রায়েরবাজার ও মিরপুর) ভাগ করা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি–৬) অর্জনে এই প্রকল্পগুলো মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বুড়িগঙ্গা নদীর পানির গুণগত মান পূর্বের অবস্থায় ফিরতে শুরু করবে এবং এলাকার বাসযোগ্যতার মান অনেকগুণ বাড়বে।
প্রকল্প নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মত
পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরী। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি।
ইকবাল হাবীব নগর পরিকল্পনাবিদ
একট বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন খুব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবীব সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘পয়োনিষ্কাশন প্রকল্প খুবই জরুরি। তবে নগর পরিকল্পনাবিদ কিংবা পরিবেশবিদদের সঙ্গে পুরো বিষয়টি আলাপ–আলোচনার মাধ্যমে করা গেলে খুবই ভালো হতো। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগে নেওয়া এ ধরনের দুটি প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। পয়োবর্জ্য সঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় হাতিরঝিল,ধানমন্ডি লেক ও আশপাশের খাল–বিল সবই দূষিত হয়ে পড়ছে। প্রতি ১০ বছর পর পর তারা একটি প্রকল্প নেয়, কিন্তু এগুলো মানুষের উপকারে আসে না।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন–বাপার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ন–সাধারণ সম্পাদক জাভেদ জাহান বলেন, যেসব সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত তাদের সমন্বয়ে নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা করা উচিত। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে সঠিকভাবে প্রকল্প নিতে হবে।




