শিরোনাম

ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ঘোষণা বিটিএসের, বেড়েছে টিকিটের দাম

ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ঘোষণা বিটিএসের, বেড়েছে টিকিটের দাম
বিটিএসের ৭ সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয় ৭ সদস্যের দক্ষিণ কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস। প্রায় চার বছর পর ‘আরিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের ঘোষণা দিয়েছে তারা। পছন্দের এই ব্যান্ডের শো দেখতে টিকিটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দর্শকরা।

ট্যুর শুরু হবে আগামী ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গিয়ংগি প্রদেশের গয়াং থেকে। সেখানে তিন শো রয়েছে। মুহূর্তেই তিনটি শোর সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

তবে এবার টিকিটের দাম তুলনামূলক বেশি। গয়াংয়ে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ২ লাখ ৬৪ হাজার উন (প্রায় ২২ হাজার ২০০ টাকা)। এটা ২০২২ সালের ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’ কনসার্টের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।

তবে এই বেশি দামে টিকিট কিনতেই ভক্ত-অনুরাগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু ভক্ত টিকিট নিশ্চিত করতে পারলেও অনেকে পড়েন হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ লাইনের পেছনে। অনেকে বলছেন, কনসার্টের টিকিটের চাহিদা তুঙ্গে, তাই পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুধু বিটিএস নয়, অন্যান্য কে-পপ গ্রুপের কনসার্টের টিকিটও দুই লাখ উন ছাড়িয়েছে। হাউব মিউজিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেলিফ্ট ল্যাবের গার্ল গ্রুপ ইললিটের প্রথম ট্যুরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ প্যাকেজের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২ লাখ ৫৩ হাজার উন (প্রায় ২১ হাজার ৩০০ টাকা)।

একই লেবেলের আরেক এনহাইপেন গত অক্টোবরে সিউলের অলিম্পিক পার্কে ‘ওয়াক দ্য লাইন’ কনসার্টে সাউন্ডচেক আসনের দাম ছিল ২ লাখ ২০ হাজার উন (সাড়ে ১৮ হাজার টাকা), আর মিট অ্যান্ড গ্রিট প্যাকেজ ২ লাখ ৫৩ হাজার উন (প্রায় ২২ হাজার টাকা)। এক বছর আগেও তাদের সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার উন (প্রায় ১৬ হাজার টাকা)। অর্থাৎ মাত্র এক বছরে দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ।

দর্শকরা চড়া দামের অভিযোগ করলেও কে-পপ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকিটের দাম বাড়া অনিবার্য। বিশ্বজুড়ে লাইভ মিউজিকের খরচ বেড়ে গেছে। কারণ, কনসার্ট এখন শুধুই গান পরিবেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি স্ক্রিন, ইমার্সিভ সাউন্ড সিস্টেম ও জটিল স্টেজ ডিজাইনসহ বড় প্রোডাকশনের অংশ। পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি, স্টেজ সরঞ্জাম ভাড়া, লজিস্টিকস, পরিবহন, বিশেষায়িত কর্মীদের মজুরি সবকিছুর খরচ বেড়েছে।

স্টেডিয়াম ও ডোম ট্যুরে এই ব্যয় আরও বৃদ্ধি পায়, কারণ বড় ভেন্যুতে সাধারণ কনসার্ট হলে তুলনায় দ্বিগুণ নিরাপত্তাকর্মী প্রয়োজন হয়।

গয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উদাহরণ দেওয়া যায়। স্টেডিয়ামটি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার দর্শক ধারণ করতে পারে, যা সাধারণ কে পপ ভেন্যুর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ফলে কর্মী, নিরাপত্তা ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার চাপও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। তবু দক্ষিণ কোরিয়ায় টিকিটের দাম অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনো কম।

জাপানে ভিআইপি টিকিট শুরু হয় ৪৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩৫ হাজার টাকা) থেকে, সাধারণ আসন ২৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৯ হাজার টাকা)। উত্তর আমেরিকায় দাম আরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে প্রিমিয়াম আসনের দাম প্রায় ৮০০ ডলার (প্রায় ৯৭ হাজার টাকা)। নিউ জার্সিতে সর্বোচ্চ টিকিটের দাম ৭৮৭ ডলার (৯৬ হাজার টাকা)।

নিউ জার্সিভিত্তিক বিটিএস-ভক্ত গ্রেস কাও বলেন, ‘কোরিয়ায় বিটিএস কনসার্টের টিকিট আমার কাছে সত্যিই সস্তা মনে হয়। আমাদের অনেক সময় সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে কিনতে হয়, তখন দাম অনেক বেড়ে যায়। আমি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্টে ট্যুরের একটি শোর প্রিসেল টিকিট কিনেছি ট্যাক্সসহ ৬৪৪ ডলারে।’

তবু অনেকের মতে, দুই লাখ উনের (প্রায় ১৬ হাজার টাকা) কাছাকাছি টিকিট মোটেও কম নয়, বিশেষ করে যখন মূল দর্শক তরুণ-তরুণীরা।

সংগীত সমালোচক লিম হি-ইউন বলেন, ‘টিকিটের দাম এমন হওয়া উচিত, যা তরুণ ভক্তরা নিজেরাই বহন করতে পারে।’

‘অনেক কিশোর টিকিট কেনার জন্য মা–বাবার ওপর নির্ভর করে। একজন শিক্ষার্থীর দৃষ্টিকোণ থেকে মাঝারি দুই লাখ উনের দাম বেশ চড়া–ই,’ যোগ করেন হি-ইউন।

সূত্র: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড

/জেএইচ/