শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের

শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলায় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্টভাবে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হলেও সেটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমরা এ তদন্ত প্রতিবেদন মেনে নিচ্ছি না।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়া চৌধুরী ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো। তদন্তে দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশটও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চেয়ে সানায়া বার্তা পাঠালেও তানজিন তিশা ওই বার্তা দেখেননি। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সানায়া আবার মেসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিশা কোন শাড়ির কথা বলা হচ্ছে জানতে চান। পরে সানায়া শাড়িটির ছবি পাঠালে তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাদী তানজিন তিশাকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। পরে ১৮ মে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হলে দুজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পর সানায়ার ফ্যাশন হাউসের শোরুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও মনোমালিন্য হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়ার সঙ্গে আগে থেকে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। এর আগে তিনি সানায়ার কাছ থেকে আরও কয়েকটি শাড়ি নিয়েছেন এবং পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছেন। এসব শাড়ির জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি ।
শাড়িটি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর তিশা বিভিন্ন মাধ্যমে সানায়ার কাছ থেকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিশা। এ কারণে শাড়ি ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তানজিন তিশার পাঠানো মেসেজের শেষাংশে শাড়িটি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিলো। একই সঙ্গে সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করা হয়। এসব বিবেচনায় ওই বার্তায় হুমকির কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
তদন্ত শেষে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে তানজিন তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের সূত্রে তানজিন তিশার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।
২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করেন সানায়া।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়িটি ফেরত চেয়ে তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান বাদী। কিন্তু শাড়ি ফেরত না দিয়ে বাদীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন তিশা।
১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলায় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্টভাবে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হলেও সেটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমরা এ তদন্ত প্রতিবেদন মেনে নিচ্ছি না।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়া চৌধুরী ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো। তদন্তে দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশটও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চেয়ে সানায়া বার্তা পাঠালেও তানজিন তিশা ওই বার্তা দেখেননি। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সানায়া আবার মেসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিশা কোন শাড়ির কথা বলা হচ্ছে জানতে চান। পরে সানায়া শাড়িটির ছবি পাঠালে তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাদী তানজিন তিশাকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। পরে ১৮ মে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হলে দুজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পর সানায়ার ফ্যাশন হাউসের শোরুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও মনোমালিন্য হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়ার সঙ্গে আগে থেকে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। এর আগে তিনি সানায়ার কাছ থেকে আরও কয়েকটি শাড়ি নিয়েছেন এবং পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছেন। এসব শাড়ির জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি ।
শাড়িটি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর তিশা বিভিন্ন মাধ্যমে সানায়ার কাছ থেকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিশা। এ কারণে শাড়ি ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তানজিন তিশার পাঠানো মেসেজের শেষাংশে শাড়িটি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিলো। একই সঙ্গে সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করা হয়। এসব বিবেচনায় ওই বার্তায় হুমকির কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
তদন্ত শেষে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে তানজিন তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের সূত্রে তানজিন তিশার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।
২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করেন সানায়া।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়িটি ফেরত চেয়ে তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান বাদী। কিন্তু শাড়ি ফেরত না দিয়ে বাদীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন তিশা।
১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ পিবিআইয়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলায় ছোট পর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ মে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেন পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা পক্ষপাতদুষ্টভাবে তানজিন তিশাকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন। তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হলেও সেটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। আমরা এ তদন্ত প্রতিবেদন মেনে নিচ্ছি না।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়া চৌধুরী ফ্যাশন ডিজাইনার এবং তানজিন তিশা মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভ্রমণের সূত্রে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো। তদন্তে দুই পক্ষের ফেসবুক মেসেঞ্জারে হওয়া কথোপকথনের স্ক্রিনশটও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়ি ফেরত চেয়ে সানায়া বার্তা পাঠালেও তানজিন তিশা ওই বার্তা দেখেননি। ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর সানায়া আবার মেসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। জবাবে তিশা কোন শাড়ির কথা বলা হচ্ছে জানতে চান। পরে সানায়া শাড়িটির ছবি পাঠালে তিশা জানান, বিষয়টি তার মনে নেই এবং খুঁজে দেখে জানাবেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাদী তানজিন তিশাকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। পরে ১৮ মে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাদের দেখা হলে দুজনের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এর কিছুদিন পর সানায়ার ফ্যাশন হাউসের শোরুমের ট্রায়াল রুম নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যসহ ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা ও মনোমালিন্য হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানায়ার সঙ্গে আগে থেকে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। এর আগে তিনি সানায়ার কাছ থেকে আরও কয়েকটি শাড়ি নিয়েছেন এবং পরে সেগুলো ফেরত দিয়েছেন। এসব শাড়ির জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি ।
শাড়িটি নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি ভুলে গিয়েছিলেন। তার সাবেক চালক শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর তিশা বিভিন্ন মাধ্যমে সানায়ার কাছ থেকে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন। পরে মামলার বিষয়টি জানার পর ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন তিশা। এ কারণে শাড়ি ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা মত দেন।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তানজিন তিশার পাঠানো মেসেজের শেষাংশে শাড়িটি ফেরত পাঠানোর ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়েছিলো। একই সঙ্গে সানায়ার সুন্দর জীবন কামনা করা হয়। এসব বিবেচনায় ওই বার্তায় হুমকির কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
তদন্ত শেষে বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাওয়া নথি ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে তানজিন তিশাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এবং ভ্রমণের সূত্রে তানজিন তিশার সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।
২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তিশা তার সাবেক চালকের মাধ্যমে শাড়িটি নেন এবং অনুষ্ঠান শেষে পরদিন ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করেন সানায়া।
এতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাড়িটি ফেরত চেয়ে তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান বাদী। কিন্তু শাড়ি ফেরত না দিয়ে বাদীকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন তিশা।
১০ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি।

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন তানজিন তিশা







