শিরোনাম

নাসিব নির্বাচন নিয়ে মতভেদ, নতুন সদস্য ফি কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
নাসিব নির্বাচন নিয়ে মতভেদ, নতুন সদস্য ফি কমানোর দাবি
মতবিনিময় সভায় যুগ্মসচিব নারগিস মুরশিদাসহ অন্যরা। ছবি : সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আগামী ২০২৬-২০২৭ এবং ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরের নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে ‘জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি, বাংলাদেশ’ (নাসিব)-এর সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। এছাড়া, নাসিবে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে চাঁদা কমানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনের সদস্যরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে আয়োজিত নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম অবহিতকরণ ও মতামত গ্রহণ সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা তুলে ধরা হয়েছে। নাসিবের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোছা. নারগিস মুরশিদার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় যুগ্মসচিব নারগিস মুরশিদা বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য হলো একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া। তবে, আমি দায়িত্বে এসে দেখলাম নাসিবের নির্দিষ্ট কোনো অফিস নেই। এটাও আমাদের মাথায় আছে।’

এবারের নির্বাচন সরাসরি গণতান্ত্রিকভাবে প্রত্যেক সদস্যের ভোটে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ভোটের জন্য সুষ্ঠু সদস্য সংখ্যা প্রয়োজন। সেটা নিয়ে আমাদের কাজ ইতোমধ্যেই অনেক দূর এগিয়েছি। আশা করছি, এবার সব সমস্যার সমাধান হবে।’

সভায় নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, পূর্বে নির্বাচনের ৬ মাস আগে যে ভোটার হয়েছে, সে ভোট দিতে পারতো। কিন্তু এখন আমরা এটাকে ৪ মাসে এগিয়ে এনেছি।’

এসময় তিনি চলতি বছরের ২১ নভেম্বর নির্বাচন দেওয়ার প্রস্তাবনা জানান।

নাসিবের পিরোজপুর জেলার সভাপতি আসাদ আল সায়েম বলেন, বাণিজ্য সংঘ অধ্যাদেশ ২০২৫’র সাথে আমাদের সদস্যদের একটা বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। সেটা হলো সংগঠনে নতুন সদস্য হতে গেলে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছে অধ্যাদেশে। তবে এই সংগঠনটা একেবারেই প্রান্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংগঠন। অনেকেই আছে যাদের পুজিই আছে মাত্র এক লাখ টাকা। সেখানে ২০ হাজার টাকা দিয়ে তার সদস্য হওয়াটা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, আবার প্রতিবছর সদস্য পদের নবায়ন করতেও পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো মিয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে।

এসময়, নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘আমরা আপনাদের চাঁদা কমানোর দাবি অনুযায়ী বিধিমতে যা করতে হয় সে পথে আগাবো। নির্বাচন যেন বিতর্কিত না হয় সেজন্য বিধি অনুযায়ী আগাতে হবে।’

নাসিবের সদস্যরা জানান, আগে নতুন সদস্য হতে প্রত্যেককে মাত্র ২ হাজার টাকা ও সদস্য নবায়নে মাত্র ১ হাজার টাকা লাগতো। যা বর্তমানে অনেক বৃদ্ধি করায় প্রান্তিক সদস্যরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

তারা আরও জানান, আগে প্রত্যেক জেলা থেকে, জেলা এক্সিকিউটিভ সদস্যদের পক্ষ থেকে ৩ জন করে সদস্য ঢাকায় এসে ৩১ জনের কমিটি তৈরি করতো। আবার এই ৩১ জনের সমর্থনে এক্সিকিউটিভ কমিটি হতো।

সভায় নাসিবের নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড সুপারিশ করেছে, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রত্যেক সদস্য কেন্দ্রীয় ভোটে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু, এটাকে অগ্রাহ্য করে আগের পদ্ধতিই চান নাসিবের অধিকাংশ সদস্যরা।

এসময়, নাসিবের সদস্যের চাহিদা অনুযায়ী আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রশাসক নারগিস মুরশিদা।

মতবিনিময় সভায় এসময় নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের সদস্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব প্রভাংশু সোম মহান ও সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মেহেদী হাসান, নির্বাচন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও যুগ্মসচিব সাইফ উদ্দিন আহমেদ, বোর্ডের সদস্য ও উপসচিব তানিয়া ইসলাম এবং চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন উপস্থিত ছিলেন।

/এফআর/