শিরোনাম
রক্ষক যখন ভক্ষক

পুলিশের অভিনব প্রতারনার ফাঁদে তরুনী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
পুলিশের অভিনব প্রতারনার ফাঁদে তরুনী
পুলিশ কনস্টেবল চয়ন শিকদার

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন করতে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন অফিসে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে গেলেন আবাসিক হোটেলের রুমে! তবে শেষ রক্ষা হয়নি; তরুণীর বুদ্ধিমত্তা আর জনতার হস্তক্ষেপে ভেস্তে গেছে পুলিশ কনস্টেবলের সেই ‘বিশেষ সেবা’ দেওয়ার পরিকল্পনা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর কমলাপুর বাজার রোড এলাকায় এনআইডি কার্ডের ভুল সংশোধনের টোপ দিয়ে এক তরুণীকে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় চয়ন শিকদার নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকে হাতেনাতে ধরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অভিযুক্ত চয়ন শিকদার (৩০) বাংলাদেশ পুলিশের একজন কনস্টেবল। তিনি মিরপুর এলাকায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি গোপালগঞ্জে। গত দুই মাস আগে চয়ন শিকদারের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ভুক্তভোগীর। এরপর বিভিন্নভাবে তাকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করে এই পুলিশ কর্মকর্তা। একসময় জানতে পারে, ভুক্তভোগীর এনআইডিতে জন্ম তারিখ ভুল রয়েছে। সেটি ঠিক করতে হবে। একই সঙ্গে একটি ল্যাপটপও কেনার কথা জানায়। ফোনে যোগাযোগ করা হলে চয়ন নিজেকে বেশ প্রভাবশালী ও ‘সব কাজের কাজী’ হিসেবে জাহির করেন।

চয়ন তখন মেয়েটিকে বলেন, পুলিশ হেডকোয়ার্টারে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন, যার মাধ্যমে দ্রুত এনআইডি ঠিক করা যাবে। তিনি তরুণীকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো চিন্তা করবেন না, আপনি ঢাকা চলে আসেন। আমি নিজে আপনাকে সাথে নিয়ে আগারগাঁও গিয়ে সব ঠিকঠাক করে দেব। এছাড়া ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ল্যাপটপও কিনে দিবে বলে আশ্বস্ত করেন। সরল বিশ্বাসে এনজিওকর্মী ওই তরুণী চয়নের কথামতো গোপালগঞ্জ থেকে বাসে চেপে গুলিস্তান আসেন। চয়ন তখন তার কাছ থেকে এনআইডি নিয়ে ছবি তুলে অন্য একজনকে পাঠান এবং কার্ডটি তার পকেটে রেখে দেন। এরপর বলেন, আগে ল্যাপটপ কিনে পরে আগারগাঁও নিয়ে যাবেন।

আরও জানা গেছে, একটি রিক্সা ভাড়া নিয়ে গুলিস্তান থেকে কমলাপুর আসেন ল্যাপটপের জন্য। এ সময় তার কাছ থেকে ওটিপি আসার কথা বলে মোবাইল নিতে চান চয়ন। এরপর কমলাপুর বাজার রোডের হোটেল নিশি ইন্টারন্যাশনাল এর রিসিপশনে গিয়ে চয়ন কথা বলতে গেলে ভুক্তভোগী আঁচ করতে পারেন যে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগী যখন, জোরে জোরে কথা বলতে থাকেন এবং মোবাইল ফেরত চান। তার চিৎকারে হোটেলের রিসিপশনে থাকা তিনজন লোক এগিয়ে আসেন। এ সময় মেয়েটি দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। চয়ন তখন বার বার তাকে বলেন, আমার কথা না শুনলে তোর নামে মামলা দিবো। তোকে জেলে ঢুকাবো। এসময় এলাকার কয়েকজন মুসল্লি তাদের কথোপকথন শুনে দাঁড়ায় এবং ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করে।

এলাকার প্রত্যক্ষদর্শী ও মা টেলিকমের কর্ণধার মো. কামাল হোসেন সিটিজেন জার্নালকে বলেন, আমি মসজিদ থেকে জোহরের নামাজ শেষ করে দোকানের দিকে যাচ্ছিলাম। এমন সময় তাদের মধ্যে বাগ-বিতন্ডা শুনতে পাই। ওই পুলিশ সদস্য বলেন, তিনি মিরপুর থানার একজন কনস্টেবল। তার আইডি কার্ড রেখে দেওয়া হয়েছিলো। পরবর্তীতে মতিঝিল থানা থেকে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন পুলিশ কর্মকর্তা তার আইডি কার্ডটি নিয়ে যান। একই সঙ্গে মেয়েটিকেও পুলিশ কর্মকর্তার সামনে তার আত্মীয়ের কাছে সোপর্দ করা হয়।

/এসবি/