শিরোনাম

‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়’
বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতি বলেন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে আমরা আমাদের ইনফোগ্রাফের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে ব্যক্তি খাত ও এনজিওদের যুক্ত করেছি। কারণ, কীভাবে একজন প্রান্তিক নারীর পণ্যের ডিজাইন ও মান বাড়ানো যায়, এসব কাজ সরকারের একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। তাই যারা এসব কাজ করবে, তাদের পরিচালনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজাইনিং সেন্টার করেছি। যেখানে যে ডিজাইন বা উন্নয়ন প্রয়োজন তা পৌঁছে দিতে ব্যক্তি খাত ও এনজিওদের যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবগুলো কাজ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে করা হবে। প্রতিটি খাতেই সময়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নেও টাইমফ্রেমের বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আসন্ন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আমাদের সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছি। আমাদের লক্ষ্য দেশের ক্রিয়েটিভ শিল্পের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের জিডিপিতে এই খাতের অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সরকারি, বেসরকারি এবং এনজিও খাতের সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণে কর্মপরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাতে নিয়েছি।

তিনি বলেন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। দেশজুড়ে আঞ্চলিক সৃজনশীল হাব গড়ে তুলতে ১০ বছরের বিনিয়োগ ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সরকারের ‘১টি-গ্রাম-১টি-পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য যেমন: তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা, ইত্যাদিসহ আরোও অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ক্রিয়েটিভ পণ্যের উন্নয়ন ও নকশার মানোন্নয়নের জন্য দেশীয় ডিজাইনারদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিসিকের আওতাধীন নকশাকেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এর ভিত্তিতে আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

/এফআর/