বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল কিনতে ৬৫০০ কোটি টাকা চায় পিডিবি

বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল কিনতে ৬৫০০ কোটি টাকা চায় পিডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত এক মাসের অধিক সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। এ দুইয়ের সংকটে শত শত শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। এমতাবস্থায় গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে হাটছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এতে তাদের হোঁচট খেতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে সরকারি-বেসরকারি তেলভিত্তিক বেশিরভাগ কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় পিডিবি। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্যাসের ওপর চাপ কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর পিডিবিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার দৈনিক ২০ কোটি ঘনফুট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সাশ্রয় হওয়া এই গ্যাস শিল্পে বরাদ্দে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পিডিবি বলছে, তেলের মজুত কম থাকায় চাইলেই রাতারাতি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের প্রায় ৩০টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছে পিডিবি। তবে এখন বিপিসির ট্যাংকে মাত্র ৩৩ হাজার টন ফার্নেস অয়েল মজুত আছে। সুতরাং পিডিবি চাইলেও এ মুহূর্তে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ খাতের জন্য চলতি বছরে আরও ২৫ হাজার ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হচ্ছে।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিডিবি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এজন্য এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটার ১০০ টাকা হিসাবে এই তেল কিনতে পিডিবির দরকার হবে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তেল কেনার জন্য এই অর্থ অগ্রিম হিসাবে না দিলে তেল পাওয়া যাবে না। যদিও পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বেসরকারি খাতে ৫৩টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বেসরকারি সব কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে বকেয়া বিল নিয়ে। সরকার এই বকেয়া দিয়ে দিলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজ থেকে তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন টার্গেট দিলেও পিডিবি উৎপাদন করতে পারছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তেল দিয়ে উৎপাদন করতে চাইলে এখনই দরকার ৮৫ হাজার ৮৫০ টন। এর মধ্যে পিডিবির ৬টি কেন্দ্রের জন্য দরকার ১২ হাজার ৮৫০।
এদিকে সারা দেশে এখনো তীব্র গ্যাস সংকট ও ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। এ সময়ে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।

গত এক মাসের অধিক সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। এ দুইয়ের সংকটে শত শত শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। এমতাবস্থায় গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে হাটছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এতে তাদের হোঁচট খেতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে সরকারি-বেসরকারি তেলভিত্তিক বেশিরভাগ কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় পিডিবি। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্যাসের ওপর চাপ কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর পিডিবিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার দৈনিক ২০ কোটি ঘনফুট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সাশ্রয় হওয়া এই গ্যাস শিল্পে বরাদ্দে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পিডিবি বলছে, তেলের মজুত কম থাকায় চাইলেই রাতারাতি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের প্রায় ৩০টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছে পিডিবি। তবে এখন বিপিসির ট্যাংকে মাত্র ৩৩ হাজার টন ফার্নেস অয়েল মজুত আছে। সুতরাং পিডিবি চাইলেও এ মুহূর্তে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ খাতের জন্য চলতি বছরে আরও ২৫ হাজার ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হচ্ছে।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিডিবি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এজন্য এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটার ১০০ টাকা হিসাবে এই তেল কিনতে পিডিবির দরকার হবে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তেল কেনার জন্য এই অর্থ অগ্রিম হিসাবে না দিলে তেল পাওয়া যাবে না। যদিও পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বেসরকারি খাতে ৫৩টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বেসরকারি সব কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে বকেয়া বিল নিয়ে। সরকার এই বকেয়া দিয়ে দিলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজ থেকে তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন টার্গেট দিলেও পিডিবি উৎপাদন করতে পারছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তেল দিয়ে উৎপাদন করতে চাইলে এখনই দরকার ৮৫ হাজার ৮৫০ টন। এর মধ্যে পিডিবির ৬টি কেন্দ্রের জন্য দরকার ১২ হাজার ৮৫০।
এদিকে সারা দেশে এখনো তীব্র গ্যাস সংকট ও ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। এ সময়ে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল কিনতে ৬৫০০ কোটি টাকা চায় পিডিবি
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত এক মাসের অধিক সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানায়। গ্যাসের স্বল্পচাপের কারণে রাজধানীর একের পর এক বন্ধ হচ্ছে সিএনজি স্টেশন। একইসঙ্গে বাসাবাড়িতে দিনের বড় একটি সময় গ্যাস না থাকায় রান্নাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও প্রভাব পড়েছে। এ দুইয়ের সংকটে শত শত শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কারখানার উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। এমতাবস্থায় গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে হাটছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে এতে তাদের হোঁচট খেতে হচ্ছে। অর্থের অভাবে সরকারি-বেসরকারি তেলভিত্তিক বেশিরভাগ কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারছে না। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় পিডিবি। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্যাসের ওপর চাপ কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর পিডিবিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার দৈনিক ২০ কোটি ঘনফুট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। আর সাশ্রয় হওয়া এই গ্যাস শিল্পে বরাদ্দে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পিডিবি বলছে, তেলের মজুত কম থাকায় চাইলেই রাতারাতি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। দেশের প্রায় ৩০টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছে পিডিবি। তবে এখন বিপিসির ট্যাংকে মাত্র ৩৩ হাজার টন ফার্নেস অয়েল মজুত আছে। সুতরাং পিডিবি চাইলেও এ মুহূর্তে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ খাতের জন্য চলতি বছরে আরও ২৫ হাজার ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হচ্ছে।
এদিকে গত ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিডিবি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এজন্য এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটার ১০০ টাকা হিসাবে এই তেল কিনতে পিডিবির দরকার হবে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তেল কেনার জন্য এই অর্থ অগ্রিম হিসাবে না দিলে তেল পাওয়া যাবে না। যদিও পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এমতাবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে বেসরকারি খাতে ৫৩টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। বেসরকারি সব কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে বকেয়া বিল নিয়ে। সরকার এই বকেয়া দিয়ে দিলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজ থেকে তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন টার্গেট দিলেও পিডিবি উৎপাদন করতে পারছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তেল দিয়ে উৎপাদন করতে চাইলে এখনই দরকার ৮৫ হাজার ৮৫০ টন। এর মধ্যে পিডিবির ৬টি কেন্দ্রের জন্য দরকার ১২ হাজার ৮৫০।
এদিকে সারা দেশে এখনো তীব্র গ্যাস সংকট ও ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। এ সময়ে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
গ্যাস সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।

গ্যাস-বিদ্যুৎসংকট উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
দরপত্রেও পাওয়া যায়নি এলএনজি, কাটছে না গ্যাস সংকট






