গ্যাস-বিদ্যুৎসংকট উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে

গ্যাস-বিদ্যুৎসংকট উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের উৎপাদন খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কোথাও আংশিক আবার কোথাও শতভাগ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন অনেক শ্রমিক। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। শুধু দেশের বাজারে নয়, রপ্তানির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।
বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারখানা
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একের পর এক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। গত বুধবার থেকে এই গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট রাত থেকে মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা বন্ধ রয়েছে।
কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় টি কে গ্রুপের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ রয়েছে। বিএসআরএমেরও ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আরএফএল গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় উত্পাদন সক্ষমতাও নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে।
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেছেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।
হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লাখেরও বেশি শ্রমিক অলস সময় পার করছেন।
গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ
৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।
নরসিংদীতে বন্ধ তিন শতাধিক কারখানা
তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদী জেলায় ছোট-বড় তিন শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় অন্তত ৫০টি কারখানার মালিক আংশিক উৎপাদন চালু রাখতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বায়াররা সংকট পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্ডারের আগে তাদের জিজ্ঞাসা থাকে পণ্য শিপম্যান্ট করতে পারবেন কি না।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুত্ উত্পাদনে
গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুত্ উত্পাদনও ব্যাহত হচ্ছে। একপর্যায়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি একইসঙ্গে শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বাড়ছে উত্পাদন ব্যয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙকটের কারণে অনেক কারখানার মালিকরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উত্পাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন। নরসিংদীতে কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
রপ্তানিতে ঝুঁকি
গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করছে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে। সুতা উত্পাদন থেকে ডাইং ও ফিনিশিং- প্রতিটি ধাপ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। একটি ধাপ বন্ধ হলে পরবর্তী ধাপেও উত্পাদন ব্যাহত হয়। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে
শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
গ্যাস সংকট সমাধানে তাত্ক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্পাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং জ্বালানির উত্স বহুমুখীকরণ জরুরি বলে জানান তারা।

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের উৎপাদন খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কোথাও আংশিক আবার কোথাও শতভাগ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন অনেক শ্রমিক। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। শুধু দেশের বাজারে নয়, রপ্তানির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।
বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারখানা
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একের পর এক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। গত বুধবার থেকে এই গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট রাত থেকে মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা বন্ধ রয়েছে।
কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় টি কে গ্রুপের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ রয়েছে। বিএসআরএমেরও ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আরএফএল গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় উত্পাদন সক্ষমতাও নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে।
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেছেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।
হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লাখেরও বেশি শ্রমিক অলস সময় পার করছেন।
গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ
৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।
নরসিংদীতে বন্ধ তিন শতাধিক কারখানা
তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদী জেলায় ছোট-বড় তিন শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় অন্তত ৫০টি কারখানার মালিক আংশিক উৎপাদন চালু রাখতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বায়াররা সংকট পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্ডারের আগে তাদের জিজ্ঞাসা থাকে পণ্য শিপম্যান্ট করতে পারবেন কি না।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুত্ উত্পাদনে
গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুত্ উত্পাদনও ব্যাহত হচ্ছে। একপর্যায়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি একইসঙ্গে শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বাড়ছে উত্পাদন ব্যয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙকটের কারণে অনেক কারখানার মালিকরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উত্পাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন। নরসিংদীতে কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
রপ্তানিতে ঝুঁকি
গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করছে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে। সুতা উত্পাদন থেকে ডাইং ও ফিনিশিং- প্রতিটি ধাপ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। একটি ধাপ বন্ধ হলে পরবর্তী ধাপেও উত্পাদন ব্যাহত হয়। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে
শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
গ্যাস সংকট সমাধানে তাত্ক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্পাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং জ্বালানির উত্স বহুমুখীকরণ জরুরি বলে জানান তারা।

গ্যাস-বিদ্যুৎসংকট উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের উৎপাদন খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কোথাও আংশিক আবার কোথাও শতভাগ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন অনেক শ্রমিক। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিল্প-কারখানার মালিকরা। শুধু দেশের বাজারে নয়, রপ্তানির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে।
এই সংকটের শুরু গত ২১ জুলাই। এদিন বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। দেশে আমদানি করা এলএনজি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এই টার্মিনাল দুটিতে রূপান্তর করা হয়। এর একটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিট। মার্কিন কোম্পানি পরিচালিত ওই টার্মিনালেই আগুন লেগে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে দৈনিক ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সবরবরাহ করা হতো। এর মধ্যে এলএনজি ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি। টার্মিনালে আগুন লাগার কারণে এখন দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে দৈনিক ২১৩ থেকে ২১৪ কোটি ঘনফুট। এর প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে। পরে একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলে প্রায় ১১.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়, যদিও চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম।
খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে।
বন্ধ হচ্ছে একের পর এক কারখানা
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে একের পর এক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। গত বুধবার থেকে এই গ্রুপের সব কারখানা বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট রাত থেকে মেঘনা গ্রুপের ৫৭টি কারখানা বন্ধ রয়েছে।
কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠা ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। অনেক কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় টি কে গ্রুপের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। গ্রুপের প্রায় ২০টি কারখানাও বন্ধ রয়েছে। বিএসআরএমেরও ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে আরএফএল গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়। সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন কারখানায় উত্পাদন সক্ষমতাও নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে।
মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেছেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।
হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ
দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লাখেরও বেশি শ্রমিক অলস সময় পার করছেন।
গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ
৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।
নরসিংদীতে বন্ধ তিন শতাধিক কারখানা
তীব্র গ্যাস সংকটে নরসিংদী জেলায় ছোট-বড় তিন শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় অন্তত ৫০টি কারখানার মালিক আংশিক উৎপাদন চালু রাখতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ পোড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটে রপ্তানি খাত চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিদেশি বায়াররা সংকট পর্যবেক্ষণ করছেন। অর্ডারের আগে তাদের জিজ্ঞাসা থাকে পণ্য শিপম্যান্ট করতে পারবেন কি না।
গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব বিদ্যুত্ উত্পাদনে
গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুত্ উত্পাদনও ব্যাহত হচ্ছে। একপর্যায়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যায়। পরে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে চাহিদার তুলনায় এটা অনেক কম। ফলে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতি একইসঙ্গে শিল্পের ওপর চাপ তৈরি করছে।
বাড়ছে উত্পাদন ব্যয়
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙকটের কারণে অনেক কারখানার মালিকরা বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উত্পাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন। নরসিংদীতে কাঠ পুড়িয়ে উৎপাদন ঠিক রাখার চেষ্টা করছেন। এতে বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়।
রপ্তানিতে ঝুঁকি
গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি করছে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে। সুতা উত্পাদন থেকে ডাইং ও ফিনিশিং- প্রতিটি ধাপ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। একটি ধাপ বন্ধ হলে পরবর্তী ধাপেও উত্পাদন ব্যাহত হয়। এতে সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে
শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা
গ্যাস সংকট সমাধানে তাত্ক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্পাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এলএনজি আমদানি ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা জোরদার এবং জ্বালানির উত্স বহুমুখীকরণ জরুরি বলে জানান তারা।

নরসিংদীতে তীব্র গ্যাস সংকট, কারখানায় উৎপাদন কমেছে ৭০ শতাংশ
এক্সিলারেটের টার্মিনালে এলএনজি শেষ, তীব্র হচ্ছে গ্যাস সংকট
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এক বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী







