শিরোনাম

বাড়ছে ন্যাপকিন-ডায়াপারের দাম, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাড়ছে ন্যাপকিন-ডায়াপারের দাম, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারী ও শিশুরা
স্যানিটারি ন্যাপকিন।

২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের কাঁচামাল ননওভেন পণ্যের আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ন্যাপকিন ও ডায়াপারের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তারা। তাদের দাবি, এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে নারী-শিশু ও বয়স্করা।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে হাইজিন পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি জানায়, প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ও ডায়াপারের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসুরক্ষা পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে এখনও তুলনামূলক কমসংখ্যক নারী স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন। দাম বৃদ্ধি পেলে অনেক নারী আবারও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মাসিক ব্যবস্থাপনায় বাধ্য হতে পারেন, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ হতে পারে। একইভাবে ডায়াপারের মূল্য বৃদ্ধি শিশু ও অসুস্থ কিংবা বয়স্ক সদস্য থাকা পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

জানা গেছে, বর্তমানে ননওভেন আমদানিতে ১০ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি) এবং ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) রয়েছে। নতুন বাজেটে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ এবং আরডি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের দাবি, জীবনরক্ষাকারী ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা পণ্যের কাঁচামালের ওপর এত উচ্চ শুল্ক আন্তর্জাতিকভাবে বিরল এবং এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০ কোটি টাকার ডায়াপার বিক্রি হয়। ফলে বার্ষিক বাজারের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯২০ থেকে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, দেশের স্যানিটারি ন্যাপকিনের বর্তমান বাজার প্রায় ৬০০ কোটি টাকার, যা প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

করোনা মহামারির আগে দেশের বেবি ডায়াপার বাজারের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদেশি ব্র্যান্ডের দখলে থাকলেও বর্তমানে তা ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এখন প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার দেশীয় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যদিও উৎপাদনের প্রায় সব কাঁচামালই আমদানিনির্ভর।

/এফআর/