শিরোনাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা চায় ইসলামী ব্যাংক

সিটিজেন ডেস্ক
সিটিজেন ডেস্ক
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা চায় ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংকের লোগো

তারল্য সংকট মোকাবিলায় আবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিতর্ক ও চলমান গ্রাহক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটি থেকে ব্যাপক হারে আমানত উত্তোলন হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকে এ সংক্রান্ত আবেদন জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, ইসলামী ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ৩১ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সময়ে ইসলামী ব্যাংকের আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। পরবর্তী দুই দিনেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত উত্তোলন হয়েছে। সব মিলিয়ে গত এক সপ্তাহে ব্যাংকটি থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকেরা।

ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত স্বতন্ত্র পরিচালক ছিলেন। একই দিন রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর থেকেই ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে একদল গ্রাহক তার অপসারণের দাবিতে রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন। এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও।

টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অনেক আমানতকারী নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবারও নবম দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত থাকে। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে শতাধিক নারী গ্রাহক অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, আর্থিক অনিয়ম ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকে তাদের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহাল, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে লুটপাটের সঙ্গে জড়িত কাউকে স্থান না দেওয়া, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংক খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।

ইসলামী ব্যাংকের সাম্প্রতিক সংকটের পেছনে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণকালকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৭ সালে শেয়ারবাজার থেকে বিভিন্ন উপায়ে শেয়ার কিনে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি ওই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা ব্যাংকটির পরিচালনায় যুক্ত রয়েছেন।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। দীর্ঘদিনের ঋণ অনিয়ম ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে ব্যাংকটি চাপে রয়েছে। গ্রাহকদের নগদ অর্থের চাহিদা পূরণ এবং তারল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও আর্থিক চাপ মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সহায়তা ও নীতিগত সুবিধা পেয়েছিল ইসলামী ব্যাংক। এবারও ব্যাংকটির আবেদনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী সিদ্ধান্ত নেয়, সে দিকেই নজর রয়েছে ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের।

/এমআর/