৩২ বছরে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম হালনাগাদ হয়েছে ২ বার: ওষুধ শিল্প সমিতি

৩২ বছরে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম হালনাগাদ হয়েছে ২ বার: ওষুধ শিল্প সমিতি
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে বিগত ৩২ বছরের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম মাত্র দুইবার হালনাগাদ করা হয়েছে। এ কারণে অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করছেন না শিল্পমালিকেরা। এই তালিকা এখন হালনাগাদ করা দরকার বলে মনে করছেন ওষুধ উৎপাদনকারীরা।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি–বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি।
শিল্পমালিকেরা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার বিরোধিতা আমরা করছি না। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়নের দাবি করছি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান মোসাদ্দেক হোসেন।
ডা. জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে; একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।
ওষুধের দাম নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়ে ডা. জাকির হোসেন বলেন, বাজারে বর্তমানে যেসব ওষুধ সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সেসব পণ্যের দাম আর না বাড়ানোর বিষয়ে শিল্প সমিতি অভ্যন্তরীণভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ বৃদ্ধির একটি সীমা বা ‘আপার সিলিং’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের বাইরে নই। আমাদের পরিবারও ওষুধ কিনে খায়। তাই জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই একটি যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় কাঠামো চাই।’
বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, এসেনশিয়াল ড্রাগস লিস্টের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বহুল ব্যবহৃত ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা; শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ করা নয়। উদ্ভাবনী ও বায়োলজিক্যাল ওষুধে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন বন্ধ না রাখতে কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ শিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে। ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়।
গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ে। তিনি বলেন, ‘১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।’
তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে কতটা উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তার কোনো সামগ্রিক হিসাব এখনো করেনি ওষুধ শিল্প সমিতি।
হালিমুজ্জামান বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ওষুধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জেনারেটর ব্যাকআপ রয়েছে। তবে ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

দেশে বিগত ৩২ বছরের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম মাত্র দুইবার হালনাগাদ করা হয়েছে। এ কারণে অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করছেন না শিল্পমালিকেরা। এই তালিকা এখন হালনাগাদ করা দরকার বলে মনে করছেন ওষুধ উৎপাদনকারীরা।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি–বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি।
শিল্পমালিকেরা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার বিরোধিতা আমরা করছি না। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়নের দাবি করছি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান মোসাদ্দেক হোসেন।
ডা. জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে; একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।
ওষুধের দাম নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়ে ডা. জাকির হোসেন বলেন, বাজারে বর্তমানে যেসব ওষুধ সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সেসব পণ্যের দাম আর না বাড়ানোর বিষয়ে শিল্প সমিতি অভ্যন্তরীণভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ বৃদ্ধির একটি সীমা বা ‘আপার সিলিং’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের বাইরে নই। আমাদের পরিবারও ওষুধ কিনে খায়। তাই জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই একটি যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় কাঠামো চাই।’
বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, এসেনশিয়াল ড্রাগস লিস্টের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বহুল ব্যবহৃত ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা; শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ করা নয়। উদ্ভাবনী ও বায়োলজিক্যাল ওষুধে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন বন্ধ না রাখতে কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ শিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে। ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়।
গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ে। তিনি বলেন, ‘১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।’
তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে কতটা উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তার কোনো সামগ্রিক হিসাব এখনো করেনি ওষুধ শিল্প সমিতি।
হালিমুজ্জামান বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ওষুধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জেনারেটর ব্যাকআপ রয়েছে। তবে ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

৩২ বছরে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম হালনাগাদ হয়েছে ২ বার: ওষুধ শিল্প সমিতি
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে বিগত ৩২ বছরের মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম মাত্র দুইবার হালনাগাদ করা হয়েছে। এ কারণে অনেক অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ উৎপাদন করছেন না শিল্পমালিকেরা। এই তালিকা এখন হালনাগাদ করা দরকার বলে মনে করছেন ওষুধ উৎপাদনকারীরা।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি–বাপি কার্যালয়ে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সঙ্গে ‘ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি।
শিল্পমালিকেরা বলেন, বর্তমানে ১৯৯৪ সালের প্রাইসিং কাঠামোর ভিত্তিতে ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। অথচ গত ৩২ বছরে মাত্র দুইবার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এই সময়ে মূল্যস্ফীতি, ডলারের বিনিময় হার, শ্রমিকের মজুরি ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম সমন্বয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাবেক মহাসচিব ও ডেল্টা ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাকির হোসেন বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার বিরোধিতা আমরা করছি না। তবে তালিকা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া এবং ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ, টেকসই ও নিয়মিত সমন্বয়যোগ্য নীতি প্রণয়নের দাবি করছি। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয়ের চাপ অব্যাহত থাকলে ওষুধের দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান মোসাদ্দেক হোসেন।
ডা. জাকির হোসেন আরও বলেন, প্রয়োজনীয় ওষুধ সুলভে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চাইলে ভর্তুকি বা সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে কম দামে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে। তবে বেসরকারি উৎপাদনকারীদের কোনো ধরনের ভর্তুকি ছাড়া দীর্ঘদিন কম দামে ওষুধ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি তুলনা করাও ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইডিসিএলের নির্দিষ্ট সরকারি ক্রয়াদেশ ও নিশ্চিত বাজার রয়েছে; একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বিপণন ব্যয়ের চাপও নেই। সরকার চাইলে ইডিসিএলের মাধ্যমে ওষুধ উৎপাদন করে সরকারি হাসপাতালের রোগীদের বিনা মূল্যে বা কম দামে দিতে পারে।
ওষুধের দাম নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়ে ডা. জাকির হোসেন বলেন, বাজারে বর্তমানে যেসব ওষুধ সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যে সেসব পণ্যের দাম আর না বাড়ানোর বিষয়ে শিল্প সমিতি অভ্যন্তরীণভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ বৃদ্ধির একটি সীমা বা ‘আপার সিলিং’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের বাইরে নই। আমাদের পরিবারও ওষুধ কিনে খায়। তাই জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই একটি যৌক্তিক মূল্য সমন্বয় কাঠামো চাই।’
বাপির ভাইস প্রেসিডেন্ট মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, এসেনশিয়াল ড্রাগস লিস্টের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বহুল ব্যবহৃত ও প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রাপ্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা; শুধু দাম নিয়ন্ত্রণ করা নয়। উদ্ভাবনী ও বায়োলজিক্যাল ওষুধে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হতে পারে।
গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটেও ওষুধের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান বাপির মহাসচিব মুহাম্মদ হালিমুজ্জামান। তিনি বলেন, কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদন বন্ধ না রাখতে কারখানাগুলোকে জেনারেটর, বড় ইউপিএস ও বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সরাসরি উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।
হালিমুজ্জামান বলেন, ওষুধ শিল্পের সঙ্গে অন্যান্য শিল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে। ওষুধের উৎপাদনপ্রক্রিয়া একবার শুরু হলে তা মাঝপথে বন্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কারখানাগুলোতে জেনারেটর ও বড় ইউপিএসের ব্যাকআপ রাখতে হয়।
গ্যাসের সংকটে জেনারেটর চালাতেও ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ডিজেল মজুতের সক্ষমতাও পর্যাপ্ত নয়। ফলে মজুত শেষ হয়ে গেলে দ্রুত ডিজেল সংগ্রহ করতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ে। তিনি বলেন, ‘১৫ টাকা ছিল বিদ্যুতের সরকারি রেট। আমার ফ্যাক্টরির হিসাবে এখন আসছে ৪২ টাকা। ১৫ টাকার জায়গায় ৪২ টাকা হচ্ছে।’
তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে কতটা উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তার কোনো সামগ্রিক হিসাব এখনো করেনি ওষুধ শিল্প সমিতি।
হালিমুজ্জামান বলেন, জ্বালানির বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন অব্যাহত থাকলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তা নিজেদের মুনাফা থেকে বহন করা কঠিন হবে। তখন উৎপাদন ব্যয় সমন্বয়ের জন্য ওষুধের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ওষুধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে জানান তিনি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শতভাগ জেনারেটর ব্যাকআপ রয়েছে। তবে ডিজেল ব্যবহার করায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।








