শিরোনাম

রূপায়ণের মুকুল–রাতুলসহ ছয়জনকে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি
রূপায়ণের মুকুল–রাতুলসহ ছয়জনকে 
আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
রূপায়ণ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুল, তার ছেলে মাহির আলী খান রাতুল ও রাজউকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তি, সরকারি খাস জমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় রূপায়ণ হাউজিংয়ের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খাঁন মুকুলসহ ছয়জনকে সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে আগামীকাল (৯ মার্চ) সোমবার।

জানা গেছে, আগামীকাল অপর যে পাঁচজনকে আদালত আত্মসমর্পণ করতে হবে তারা হলেন মুকুলের স্ত্রী রোকেয়া বেগম নাসিমা, ছেলে মাহির আলী খাঁন রাতুল, মা ফরিদা বেগম, ভাই আলী আকবর খান রতন ও রুপায়ন হাউজিংয়ের স্টেট অফিসের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজউকের সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলাসহ ৪৩ জনের নামে সরকারি জমি ও ভাওয়াল এস্টেটের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৫ জানুয়ারি লিয়াকত আলী খাঁনসহ ছয়জন হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ছয় সপ্তাহের জন্য তাদের আগাম জামিন দেন। একইসঙ্গে জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই তাদের সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।

রাজউকের আসামিরা হলেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন উপনগর পরিকল্পনাবিদ কামরুল হাসান সোহাগ ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সদস্য (পরিকল্পনা) জিয়াউল হাসান, সদস্য (উন্নয়ন) মো. আবদুর রহমান, সদস্য (পরিকল্পনা) শেখ আব্দুল মান্নান, প্রধান প্রকৌশলী মো. এমদাদুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোবারক হোসেন ও আব্দুল্লাহ মো. জুবাইর, রেখাকার মো. আলমগীর কবীর, নকশাকার মো. এমদাদুল হক মুনসী, ফটোগ্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এমরান হোসেন সুমন, ড্রাফটসম্যান মো. নাজমুল হক, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, পরিচালক মো. রোকন উদদৌলা, গোলাম মোস্তফা, ড. মুহাম্মদ মোশরফ হোসেন, আনন্দ কুমার বিশ্বাস, অথরাইজড অফিসার (সাময়িক বরখাস্ত) মো. মিজানুর রহমান, মো. পারভেজ খাদেম ও মো. আশরাফুল ইসলাম আহমেদ, আইন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুল করিম, আইনজীবী ও সহকারী আইন পরামর্শক মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার, সহকারী অথরাইজড অফিসার জান্নাতুল নাইমা, তামান্না বিনতে রহমান, এস এম এহসানুল ইমাম ও মো. খায়রুজ্জামান।

মামলার অপর আসামিরা হলেন রাজউকের প্রধান ইমারত পরিদর্শক মো. আব্দুস সালাম, আবু শামস রকিব উদ্দিন আহমেদ, মো. আব্দুল গনি ও মো. বিল্লাল হোসেন, পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম, ইমারত পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান, সহকারী পরিদর্শক (এস্টেট ও ভূমি) জ্ঞানময় চাকমা, এস্টেট পরিদর্শক তৌফিকুল ইসলাম, জরিপকারক মো. আলী আজগর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সহকারী স্থপতি মো. তাওফিকুজ্জামান।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন না করে রূপায়ণ হাউজিং লিমিটেডের আবেদনে ব্যবহৃত রেকর্ডপত্র ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেনি। সংশ্লিষ্ট ভূমি সরেজমিন পরিদর্শন না করে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে তারা পরস্পর যোগসাজস করেছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে ভূমি সংস্কার বোর্ড কোডস অব ওয়ার্ডের নামে খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি এবং অভিযোগকারীদের সম্পত্তি যাচাই না করে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের নামে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রে অনুমোদন দিয়েছেন। বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেওয়া ও নির্মাণ অনুমোদনসহ যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটকে সহযোগিতা করেছেন উল্লেখিত আসামিরা। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও দুদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, রূপায়ন কর্তৃপক্ষ রাজউকের কাছে ৪১ দশমিক ৫৪৮ একর জমিতে পাঁচ ধাপে বিশেষ প্রকল্প অনুমোদনের আবেদন করলেও কাগজপত্র জমা দেয় মাত্র ১৬ দশমিক ৩২ একরের। তদন্তে দেখা যায়, মহানগর জরিপের খতিয়ান ও আরএস দাগ অনুযায়ী ওই জমির মধ্যে ২ দশমিক ৩৫ একর জমি সরকারের ভাওয়াল রাজ এস্টেটভুক্ত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগ পাওয়া যায়, সরকারি সম্পত্তির অস্তিত্ব বিলীন করে ড্যাপ নির্ধারিত ৬০ ফুট রাস্তা নিজেদের প্রকল্প এলাকার ভেতর অন্তর্ভুক্ত করেছে রূপায়ণ।

২০০৮ সালের ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী, বিশেষ প্রকল্পের ছাড়পত্র পেতে আবেদনকারীকে জমির মালিকানায় নিরঙ্কুশ হতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা বিরোধের তথ্য গোপন করে ভুয়া রেকর্ডপত্রের মাধ্যমে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল।

দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। দুদকের উপসহকারী পরিচালক আফিয়া খাতুন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রূপায়ণ হাউজিং রাজউকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং জাল রেকর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ভূমি আত্মসাৎ করেছে।

আদালতের আদেশ অমান্য

আদালতের স্থিতিবস্থা থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। অভিযোগকারীকে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধের আদালতের নির্দেশও তারা অমান্য করেছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

/বিবি/