শিরোনাম

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, অংশ নিয়েছে ৪ হাজার সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান, অংশ নিয়েছে ৪ হাজার সদস্য
জঙ্গল সলিমপুর। ছবি: বিবিসি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল ছয়টার দিকে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়ে এ অভিযান শুরু করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সকাল সাতটার দিকে তিনি বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিয়েছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আজ সকাল থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার বিভিন্ন পথে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান চলাকালে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা একাধিক দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাই এবারের অভিযানে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।

গত জানুয়ারি মাসে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭ এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। ওই ঘটনার পর এলাকাটি আবার আলোচনায় আসে এবং সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় সে সময় অভিযান চালানো হয়নি।

র‍্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। এ ছাড়া নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামি ধরতে গেলে মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় র‍্যাবের আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকা চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলটি প্রশাসনিকভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও নগরের কাছাকাছি। পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এর সীমানা।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। গত চার দশকে সরকারি পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট বাণিজ্য। এসব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এলাকাটিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অন্তত দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের তৎকালীন সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করেন। তবে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই এবং ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নয়।

/এসএ/