শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ: ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ: ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল
ছবি: গেটি ইমেজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দুই প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয়ের দামই ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয়েছে ১০৮ দশমিক ৬৮ ডলারে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হয়েছে প্রতি ব্যারেল ১০৮ ডলারে।

শনিবারের তুলনায় রবিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিষেধাজ্ঞার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

আরব সাগর ও পারস্য উপসাগরকে সংযুক্ত করা হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, তার প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ ব্যবহার করে।

এ কারণে হরমুজ প্রণালীকে অনেক সময় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’ও বলা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মূলত এই পথ দিয়েই তাদের তেল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। এই প্রণালী না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ক্রুদের সতর্কবার্তা দিতে শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম অপারেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারে পৌঁছেছিল।

সূত্র: বিবিসি

/এসএ/