শিরোনাম

তনু হত্যা: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্ত মিলেছে

কুমিল্লা সংবাদদাতা
তনু হত্যা: ডিএনএ পরীক্ষায় আরও একজনের রক্ত মিলেছে

এক দশক আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ৩ জনের শুক্রাণুর পাশাপাশি একজনের রক্তের অস্তিত্ব মিলেছে।

রবিবার (১৭ মে) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে জানানো হয়েছে, তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় ৩ জন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়ালো।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর ঘরে ফেরেননি তনু। পরে খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে ঝোপের মধ্যে তনুর লাশ পাওয়া যায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরদিন তার বাবা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ওই বছরই দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর কারণ খুঁজে না পাওয়ার তথ্য জানায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। বিষয়টি সারা দেশে ক্ষোভের জন্ম দেয়। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, সমাবেশের মতো কর্মসূচিতে তনুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের জট খোলার শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল।

২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে সিআইডি। প্রায় ৪ বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে মামলার দায়িত্ব পান পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৬ এপ্রিল আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদনে ৩ আসামির ডিএনএ পরীক্ষার ক্রস চেক করার অনুমতি চান পিবিআই পরিদর্শক। পরে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে। পরদিন তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে সিগন্যাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন বলে শনাক্ত করেন তনুর বাবা।

/এফসি/