নান্দিয়ার বিল এখন বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে

নান্দিয়ার বিল এখন বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে
সিজেডএন ডেস্ক

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নান্দিয়ার বিলের ইজারা প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। কোনো দরপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বিলটির দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বিলটিতে কয়েকশ মণ মাছ অবমুক্ত করেছেন এবং নিজেদের মধ্যে অংশীদারত্বও ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে অসংগতি। একজন নেতা দাবি করেছেন, একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা পেয়েছে। অন্য একজন বলেছেন, ইজারা নিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু। আবার আরেক নেতা জানিয়েছেন, বিলের ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিকুই করবেন।
শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেই নয়, প্রশাসনের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেছেন, দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে একটি মৎস্যজীবী সমিতিকে বিলটির ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানিয়েছেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
ইজারা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিলনির্ভর জেলে, স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই বছর ছিল উন্মুক্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লে নান্দিয়ার বিলে ব্যাপকভাবে মাছ লুট হয়। এরপর প্রায় দুই বছর বিলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল।
এই সময়ে স্থানীয় জেলে পরিবার ও সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিলে মাছ ধরতেন। দীর্ঘদিন পর অনেক জেলে পুরোনো জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামত করে আবারও পেশায় ফিরে আসেন। এতে স্থানীয় বাজারে দেশি ছোট মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
ফেসবুকে ইজারা পাওয়ার ঘোষণা
গত ২৬ জুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নান্দিয়ার বিলে মাছ অবমুক্ত করার একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।
সেখানে লেখা ছিল, ‘ঐতিহ্যবাহী নান্দীয়া বিলের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সরকারি ইজারা পাওয়ার পর আজ ২৬ জুন মাছ অবমুক্ত করা শুরু করা হইলো।’
মাছ অবমুক্ত করার সময় জিকুর সঙ্গে ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিলটির ইজারা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসন বর্তমানে খাস কালেকশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করে সেখানে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আনুষ্ঠানিক ইজারা ছাড়াই ইউএনওর মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে বিএনপির নেতারা বিলে মাছ অবমুক্ত করছেন।
ইউএনও বলছেন ইজারা হয়েছে, ডিসি বলছেন হয়নি
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিলটি ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, গত দুই-তিন বছর বিলটি অব্যবহৃত ছিল। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েকটি মৎস্যজীবী সমিতিকে অংশ নিতে বলা হয় এবং দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমিতি ইজারা পায়।
কিন্তু জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মাছ অবমুক্ত করার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগের দরপত্র কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে খাস ব্যবস্থাপনায় বিলটি পরিচালনার সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, নান্দিয়ার বিল থেকে প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হতো। তবে গত দুই বছর ধরে সেই রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তত ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করতেই হবে।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো তারা পাননি। নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইজারা হয়নি, ভাগাভাগি শেষ
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম শেষ না হলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে বিলের অংশীদারত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
২৮৯ একর আয়তনের নান্দিয়ার বিলকে ঘিরে রয়েছে নান্দিয়া, হাড়ুলিয়া, চাঁনপুর, মাছপাড়া, ঝাউদিয়া, গোয়ালবাড়ি ও সিঁদুরঘাটসহ সাত থেকে আটটি গ্রাম।
বিলটি আবারও ইজারার আওতায় চলে যাওয়ার খবরে এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুনিব মণ্ডল বলেন, অনেক শ্রমজীবী মানুষ দিনশেষে বিলে মাছ ধরে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। এখন ইজারার কথা বলে সবাইকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। বাজারেও মাছের দাম বেড়ে গেছে।
ইতোমধ্যে ছাড়া হয়েছে কয়েকশ মণ মাছ
ইজারা চূড়ান্ত না হলেও জিহাদুজ্জামান জিকুর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে নান্দিয়ার বিলে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিকুর ব্যবসায়িক অংশীদারের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা থেকে মাছ এনে বিলে অবমুক্ত করছেন নান্দিয়ার দিদার আলী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই বিলে মাছ সরবরাহ এবং মৌসুম শেষে মাছ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার দাবি, নান্দিয়ার বিলের মাছের বাজারমূল্য ভালো।
আশপাশের জলাশয়েও প্রভাব পড়বে
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়া হলে আশপাশের ছোট বিল ও খালেও দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাবে।
বামন গ্রামের শাহজালাল বলেন, নান্দিয়ার বিলে সারা বছর পানি থাকে। এখানেই দেশি মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু ইজারাদাররা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে মাছ আর আশপাশের জলাশয়ে যেতে পারে না।
তিনি জানান, একসময় চাঁপাইগাছি বিলেও প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
তার ভাষ্য, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কাজ শেষে সন্ধ্যায় জাল, পলো কিংবা অন্যান্য দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে বিলে মাছ ধরতে যেতেন। বিলটি আবার ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে গেলে সেই পরিচিত গ্রামীণ জীবনধারাও হারিয়ে যাবে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মিল নেই
ইজারা পাওয়ার আগেই মাছ অবমুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা, চালকল মালিক ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সদস্য জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে মাছ অবমুক্ত করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি এলাকার নেতাদের একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা নিয়েছে।
তবে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ ভিন্ন দাবি করেন। তার বক্তব্য, বিলটির ইজারা নিয়েছেন গোল্ডেন অটোরাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু। তিনি ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, এটি দুই থেকে তিন কোটি টাকার প্রকল্প। শুধু অংশীদার হলেই হবে না, সেই অনুপাতে অর্থও বিনিয়োগ করতে হবে। তার হিসাবে, ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিহাদুজ্জামান জিকুই করবেন। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও এর অংশীদার হবেন।

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নান্দিয়ার বিলের ইজারা প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। কোনো দরপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বিলটির দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বিলটিতে কয়েকশ মণ মাছ অবমুক্ত করেছেন এবং নিজেদের মধ্যে অংশীদারত্বও ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে অসংগতি। একজন নেতা দাবি করেছেন, একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা পেয়েছে। অন্য একজন বলেছেন, ইজারা নিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু। আবার আরেক নেতা জানিয়েছেন, বিলের ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিকুই করবেন।
শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেই নয়, প্রশাসনের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেছেন, দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে একটি মৎস্যজীবী সমিতিকে বিলটির ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানিয়েছেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
ইজারা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিলনির্ভর জেলে, স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই বছর ছিল উন্মুক্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লে নান্দিয়ার বিলে ব্যাপকভাবে মাছ লুট হয়। এরপর প্রায় দুই বছর বিলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল।
এই সময়ে স্থানীয় জেলে পরিবার ও সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিলে মাছ ধরতেন। দীর্ঘদিন পর অনেক জেলে পুরোনো জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামত করে আবারও পেশায় ফিরে আসেন। এতে স্থানীয় বাজারে দেশি ছোট মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
ফেসবুকে ইজারা পাওয়ার ঘোষণা
গত ২৬ জুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নান্দিয়ার বিলে মাছ অবমুক্ত করার একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।
সেখানে লেখা ছিল, ‘ঐতিহ্যবাহী নান্দীয়া বিলের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সরকারি ইজারা পাওয়ার পর আজ ২৬ জুন মাছ অবমুক্ত করা শুরু করা হইলো।’
মাছ অবমুক্ত করার সময় জিকুর সঙ্গে ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিলটির ইজারা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসন বর্তমানে খাস কালেকশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করে সেখানে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আনুষ্ঠানিক ইজারা ছাড়াই ইউএনওর মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে বিএনপির নেতারা বিলে মাছ অবমুক্ত করছেন।
ইউএনও বলছেন ইজারা হয়েছে, ডিসি বলছেন হয়নি
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিলটি ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, গত দুই-তিন বছর বিলটি অব্যবহৃত ছিল। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েকটি মৎস্যজীবী সমিতিকে অংশ নিতে বলা হয় এবং দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমিতি ইজারা পায়।
কিন্তু জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মাছ অবমুক্ত করার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগের দরপত্র কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে খাস ব্যবস্থাপনায় বিলটি পরিচালনার সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, নান্দিয়ার বিল থেকে প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হতো। তবে গত দুই বছর ধরে সেই রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তত ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করতেই হবে।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো তারা পাননি। নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইজারা হয়নি, ভাগাভাগি শেষ
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম শেষ না হলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে বিলের অংশীদারত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
২৮৯ একর আয়তনের নান্দিয়ার বিলকে ঘিরে রয়েছে নান্দিয়া, হাড়ুলিয়া, চাঁনপুর, মাছপাড়া, ঝাউদিয়া, গোয়ালবাড়ি ও সিঁদুরঘাটসহ সাত থেকে আটটি গ্রাম।
বিলটি আবারও ইজারার আওতায় চলে যাওয়ার খবরে এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুনিব মণ্ডল বলেন, অনেক শ্রমজীবী মানুষ দিনশেষে বিলে মাছ ধরে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। এখন ইজারার কথা বলে সবাইকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। বাজারেও মাছের দাম বেড়ে গেছে।
ইতোমধ্যে ছাড়া হয়েছে কয়েকশ মণ মাছ
ইজারা চূড়ান্ত না হলেও জিহাদুজ্জামান জিকুর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে নান্দিয়ার বিলে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিকুর ব্যবসায়িক অংশীদারের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা থেকে মাছ এনে বিলে অবমুক্ত করছেন নান্দিয়ার দিদার আলী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই বিলে মাছ সরবরাহ এবং মৌসুম শেষে মাছ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার দাবি, নান্দিয়ার বিলের মাছের বাজারমূল্য ভালো।
আশপাশের জলাশয়েও প্রভাব পড়বে
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়া হলে আশপাশের ছোট বিল ও খালেও দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাবে।
বামন গ্রামের শাহজালাল বলেন, নান্দিয়ার বিলে সারা বছর পানি থাকে। এখানেই দেশি মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু ইজারাদাররা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে মাছ আর আশপাশের জলাশয়ে যেতে পারে না।
তিনি জানান, একসময় চাঁপাইগাছি বিলেও প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
তার ভাষ্য, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কাজ শেষে সন্ধ্যায় জাল, পলো কিংবা অন্যান্য দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে বিলে মাছ ধরতে যেতেন। বিলটি আবার ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে গেলে সেই পরিচিত গ্রামীণ জীবনধারাও হারিয়ে যাবে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মিল নেই
ইজারা পাওয়ার আগেই মাছ অবমুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা, চালকল মালিক ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সদস্য জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে মাছ অবমুক্ত করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি এলাকার নেতাদের একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা নিয়েছে।
তবে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ ভিন্ন দাবি করেন। তার বক্তব্য, বিলটির ইজারা নিয়েছেন গোল্ডেন অটোরাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু। তিনি ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, এটি দুই থেকে তিন কোটি টাকার প্রকল্প। শুধু অংশীদার হলেই হবে না, সেই অনুপাতে অর্থও বিনিয়োগ করতে হবে। তার হিসাবে, ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিহাদুজ্জামান জিকুই করবেন। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও এর অংশীদার হবেন।

নান্দিয়ার বিল এখন বিএনপি নেতাদের নিয়ন্ত্রণে
সিজেডএন ডেস্ক

কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী নান্দিয়ার বিলের ইজারা প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। কোনো দরপত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে বিলটির দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা বিলটিতে কয়েকশ মণ মাছ অবমুক্ত করেছেন এবং নিজেদের মধ্যে অংশীদারত্বও ভাগ করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে বিএনপির নেতাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে অসংগতি। একজন নেতা দাবি করেছেন, একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা পেয়েছে। অন্য একজন বলেছেন, ইজারা নিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু। আবার আরেক নেতা জানিয়েছেন, বিলের ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন এবং পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিকুই করবেন।
শুধু রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যেই নয়, প্রশাসনের বক্তব্যেও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেছেন, দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে একটি মৎস্যজীবী সমিতিকে বিলটির ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানিয়েছেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি।
ইজারা সম্পন্ন হওয়ার আগেই বিলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘটনায় একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বিলনির্ভর জেলে, স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা ও স্বার্থ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই বছর ছিল উন্মুক্ত
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়লে নান্দিয়ার বিলে ব্যাপকভাবে মাছ লুট হয়। এরপর প্রায় দুই বছর বিলটি উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল।
এই সময়ে স্থানীয় জেলে পরিবার ও সাধারণ মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিলে মাছ ধরতেন। দীর্ঘদিন পর অনেক জেলে পুরোনো জাল ও মাছ ধরার সরঞ্জাম মেরামত করে আবারও পেশায় ফিরে আসেন। এতে স্থানীয় বাজারে দেশি ছোট মাছের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামও তুলনামূলকভাবে কমে আসে।
ফেসবুকে ইজারা পাওয়ার ঘোষণা
গত ২৬ জুন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিহাদুজ্জামান জিকু নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নান্দিয়ার বিলে মাছ অবমুক্ত করার একটি পোস্ট প্রকাশ করেন।
সেখানে লেখা ছিল, ‘ঐতিহ্যবাহী নান্দীয়া বিলের ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের সরকারি ইজারা পাওয়ার পর আজ ২৬ জুন মাছ অবমুক্ত করা শুরু করা হইলো।’
মাছ অবমুক্ত করার সময় জিকুর সঙ্গে ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
তবে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিলটির ইজারা প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। প্রশাসন বর্তমানে খাস কালেকশনের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব আদায় করে সেখানে মাছ চাষের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা পর্যালোচনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো আনুষ্ঠানিক ইজারা ছাড়াই ইউএনওর মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে বিএনপির নেতারা বিলে মাছ অবমুক্ত করছেন।
ইউএনও বলছেন ইজারা হয়েছে, ডিসি বলছেন হয়নি
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. হারুন অর রশিদ বলেন, বিলটি ইতোমধ্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, গত দুই-তিন বছর বিলটি অব্যবহৃত ছিল। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কয়েকটি মৎস্যজীবী সমিতিকে অংশ নিতে বলা হয় এবং দরপ্রস্তাবের ভিত্তিতে একটি সমিতি ইজারা পায়।
কিন্তু জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান ভিন্ন তথ্য দেন। তিনি বলেন, বিলটি এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মাছ অবমুক্ত করার বিষয়টি তদন্ত করতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগের দরপত্র কার্যকর হয়নি। বর্তমানে সরকারি রাজস্ব নিশ্চিত করতে খাস ব্যবস্থাপনায় বিলটি পরিচালনার সুযোগ আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, নান্দিয়ার বিল থেকে প্রতিবছর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় হতো। তবে গত দুই বছর ধরে সেই রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তত ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা করতেই হবে।
সম্প্রতি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, দেশের সব উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ অবস্থায় নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তাড়াহুড়ো কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত নির্দেশনা এখনো তারা পাননি। নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইজারা হয়নি, ভাগাভাগি শেষ
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী ইজারা কার্যক্রম শেষ না হলেও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের মধ্যে বিলের অংশীদারত্ব ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
২৮৯ একর আয়তনের নান্দিয়ার বিলকে ঘিরে রয়েছে নান্দিয়া, হাড়ুলিয়া, চাঁনপুর, মাছপাড়া, ঝাউদিয়া, গোয়ালবাড়ি ও সিঁদুরঘাটসহ সাত থেকে আটটি গ্রাম।
বিলটি আবারও ইজারার আওতায় চলে যাওয়ার খবরে এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মাছপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুনিব মণ্ডল বলেন, অনেক শ্রমজীবী মানুষ দিনশেষে বিলে মাছ ধরে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেন। এখন ইজারার কথা বলে সবাইকে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা হচ্ছে। বাজারেও মাছের দাম বেড়ে গেছে।
ইতোমধ্যে ছাড়া হয়েছে কয়েকশ মণ মাছ
ইজারা চূড়ান্ত না হলেও জিহাদুজ্জামান জিকুর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে নান্দিয়ার বিলে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জিকুর ব্যবসায়িক অংশীদারের নির্দেশনায় চুয়াডাঙ্গা থেকে মাছ এনে বিলে অবমুক্ত করছেন নান্দিয়ার দিদার আলী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩০০ থেকে ৪০০ মণ মাছ ছাড়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এই বিলে মাছ সরবরাহ এবং মৌসুম শেষে মাছ সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলায় বিক্রির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তার দাবি, নান্দিয়ার বিলের মাছের বাজারমূল্য ভালো।
আশপাশের জলাশয়েও প্রভাব পড়বে
স্থানীয়দের আশঙ্কা, নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়া হলে আশপাশের ছোট বিল ও খালেও দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাবে।
বামন গ্রামের শাহজালাল বলেন, নান্দিয়ার বিলে সারা বছর পানি থাকে। এখানেই দেশি মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু ইজারাদাররা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে মাছ আর আশপাশের জলাশয়ে যেতে পারে না।
তিনি জানান, একসময় চাঁপাইগাছি বিলেও প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। কিন্তু নান্দিয়ার বিল ইজারা দেওয়ার পর সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে।
তার ভাষ্য, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ কাজ শেষে সন্ধ্যায় জাল, পলো কিংবা অন্যান্য দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে বিলে মাছ ধরতে যেতেন। বিলটি আবার ইজারাদারদের নিয়ন্ত্রণে গেলে সেই পরিচিত গ্রামীণ জীবনধারাও হারিয়ে যাবে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্যে মিল নেই
ইজারা পাওয়ার আগেই মাছ অবমুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি নেতা, চালকল মালিক ও কুষ্টিয়া চেম্বারের সদস্য জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে মাছ অবমুক্ত করার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি এলাকার নেতাদের একটি মৎস্যজীবী সমিতি বিলটির ইজারা নিয়েছে।
তবে ঝাউদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. সাদ আহমেদ ভিন্ন দাবি করেন। তার বক্তব্য, বিলটির ইজারা নিয়েছেন গোল্ডেন অটোরাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু। তিনি ঝাউদিয়া ও পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপিকে ২৫ শতাংশ করে মোট ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে পাটিকাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, এটি দুই থেকে তিন কোটি টাকার প্রকল্প। শুধু অংশীদার হলেই হবে না, সেই অনুপাতে অর্থও বিনিয়োগ করতে হবে। তার হিসাবে, ২৫ শতাংশ অংশীদার হতে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পুরো বিলের ব্যবস্থাপনা মূলত জিহাদুজ্জামান জিকুই করবেন। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরাও এর অংশীদার হবেন।




