তনু হত্যার ১০ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
সিটিজেন ডেস্ক

তনু হত্যার ১০ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫৯

কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স
দীর্ঘ এক দশক পর বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের—তৎকালীন সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহাঙ্গীর (ওরফে জাহিদ)—ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ বছরে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিনজনই বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তবে তারা কবে অবসরে গেছেন বা অবসরের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রায় চার বছর পিবিআই তদন্ত চালায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘দেশের সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে-যেখানে বলেছে ছুটে গেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কী লাভ।’

দীর্ঘ এক দশক পর বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের—তৎকালীন সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহাঙ্গীর (ওরফে জাহিদ)—ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ বছরে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিনজনই বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তবে তারা কবে অবসরে গেছেন বা অবসরের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রায় চার বছর পিবিআই তদন্ত চালায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘দেশের সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে-যেখানে বলেছে ছুটে গেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কী লাভ।’

তনু হত্যার ১০ বছর পর আসামি গ্রেপ্তার
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ৫৯

কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স
দীর্ঘ এক দশক পর বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো এক সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
এর আগে অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা তিন সন্দেহভাজনের—তৎকালীন সেনানিবাসের সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক জাহাঙ্গীর (ওরফে জাহিদ)—ডিএনএ নমুনা মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সিআইডির পরীক্ষায় তনুর পোশাক থেকে তিনজন পুরুষের ডিএনএ নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮০টি শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১০ বছরে চারটি সংস্থার সাতজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সন্দেহভাজন তিনজনই বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তবে তারা কবে অবসরে গেছেন বা অবসরের ধরন কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের কাছে একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি এবং সিআইডি দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর প্রায় চার বছর পিবিআই তদন্ত চালায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
মামলার বাদী তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় এলে তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইবো। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘দেশের সব হত্যার বিচার হলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে-যেখানে বলেছে ছুটে গেছি। এখন আর পারছি না। চাকরি থেকে অবসর নিয়েছি। এক মাসের মধ্যে মেয়ের হত্যার বিচার না পেলে আমি আত্মহত্যা করবো। এ জীবন আর রেখে কী লাভ।’
/এমআর/




