শিরোনাম

হাঁড়িভাঙা আমের পর আশা জাগাচ্ছে হাঁড়িয়া লিচু

রংপুর সংবাদদাতা
হাঁড়িভাঙা আমের পর আশা জাগাচ্ছে হাঁড়িয়া লিচু
লাল টসটসে লিচু।

রংপুরে হাঁড়িভাঙা আমের পর আশা জাগাচ্ছে হাঁড়িয়া প্রজাতির লিচু। তবে এই লিচু দিনাজপুরের লিচুর মতো সুস্বাদু নয়। বর্তমানে রংপুরে বেশ কয়েক প্রজাতির লিচুর আবাদ হচ্ছে।

কৃষি অফিস জানায়, হাঁড়িভাঙার মতো হাঁড়িয়া লিচুর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এই অঞ্চলে। অন্য ফসলের চেয়ে অনেকে লিচুু আবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

প্রতিদিন সকালে রংপুরের সিটি বাজার ও আশপাশ এলাকায় লিচুর হাট বসে। এখানে প্রায় ১০০ ব্যবসায়ী লিচু কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে হাঁড়িয়া ও মাদ্রাজি প্রজাতির লিচু।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রংপুরে ৮২৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ১১ থেকে ১২ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন হয়েছে ৮ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন। যার বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা। রংপুরে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে হাঁড়িয়া, চায়না-২, চায়না-৩ ও মাদ্রাজি লিচু। তবে মাদ্রাজি ও হাঁড়িয়া লিচুর চাহিদা বেশি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুরে প্রতি বছর লিচুর উৎপাদন বাড়ছে। অনেকেই এখন আমের মতো লিচুর বাগান করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

হারুন মিয়া নামে এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, রংপুরের তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলায় প্রচুর লিচু আবাদ হয়। আমরা বাগান থেকে কিনে পাইকারি দরে বিক্রি করছি। প্রতি হাজার লিচু আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দিনাজপুরের লিচু এখনও বাজারে আসেনি। তাই রংপুরের লিচুর চাহিদা বেশি।

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না বলেন, ভালো লিচু টুকটুকে লাল হয় না। সবুজ ও লাল রঙের মিশেলের লিচু বেশি সুস্বাদু। অনেকে রং ব্যবহার করে লিচু টকটকে লাল করে তোলেন। তাই কেনার আগে লিচুর রং পরীক্ষা করা উচিত।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুরে প্রতি বছর লিচুর উৎপাদন বাড়ছে। অনেক কৃষক এখন আমের বাগানের মতো লিচুর বাগান গড়ে তুলছেন।

/এসআর/