শিরোনাম

ডিজেলের জন্য কৃষিমন্ত্রীকে ফোন কৃষকের

পাবনা সংবাদদাতা
ডিজেলের জন্য কৃষিমন্ত্রীকে ফোন কৃষকের
কৃষিমন্ত্রী আমিন-উর-রশিদ। ছবি: সংগৃহীত

সেচের শ্যালো মেশিন চালানোর জন্য পাম্পে গিয়ে চাহিদামাফিক তেল পাচ্ছেন না পাবনার কৃষকরা। বর্তমানে পাম্পে ক্যানে (ঢোপ) তেল দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থায় শ্যালো মেশিন চালানো নিয়ে বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভুক্তভোগী কয়েকজন কৃষক উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে সমস্যার সমাধান না পেয়ে কৃষিমন্ত্রীকে ফোন দেন। মন্ত্রীও তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তবে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকাল পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি কৃষকদের।

ঈশ্বরদী উপজেলার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিন ওরফে কুল ময়েজ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ফসল আবাদে বর্তমানে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। মাড়াই কাজে হারভেস্টার, জমি চাষ দিতে পাওয়ার ট্রিলার, সেচের জন্য শ্যালো মেশিন, এমন কী ওষুধ ছিটাতেও যন্ত্রচালিত স্প্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিটি যন্ত্র চালাতেই প্রয়োজন ডিজেল। কিন্তু এই যন্ত্রগুলো তো বহন করে তেল পাম্পে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। যে কারণে কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানে বা ড্রামে করে তেল আনতেন। বর্তমানে ক্যানে তেল দেওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের তেল দিচ্ছেন না। এতে উপজেলার শত শত কৃষক বিপাকে পড়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে তেল সমস্যার আলোচনা শেষে তাকে পেঁয়ারা উপহার দেন কৃষকরা। গত রবিবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসে।
কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে তেল সমস্যার আলোচনা শেষে তাকে পেঁয়ারা উপহার দেন কৃষকরা। গত রবিবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসে।

ময়েজ উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেল সমস্যা সমাধানে কিছুদিন হলো উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের চিরকুট (স্লিপ) দিচ্ছিলেন। কিন্তু তাতেও পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল দিচ্ছেন না। ফলে গত রবিবার (২৯ মার্চ) বিকালে তারা ৪০ থেকে ৪৫ জন কৃষক ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সমস্যা সমাধান না পেয়ে আমি বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটে সরাসরি কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশিদকে ফোন দিয়ে কথা বলি। পরে মন্ত্রীর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তাকে কথা বলিয়ে দেই। মন্ত্রী তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। পরে সেখান থেকে ইউএনও সাহেবের কাছে গিয়েও বিষয়টি অবগত করি। তিনি বলেছিলেন, কৃষি অফিসার তাকে চিঠি দিলে তিনি দেখবেন।

তিনি বলেন, আজ মঙ্গলবার আবার কৃষি অফিসে গিয়েছিলাম খোঁজ নিতে। কৃষি অফিসার বলেছেন, তিনি ইউএনও সাহেবকে চিঠি দিয়েছেন। ইউএনও সাহেব সেই চিঠি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাবেন। জেলা প্রশাসক অনুমতি দেওয়ার পর নাকি তেল দেবে। কিন্তু ইউএনও সাহেব কবে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠাবেন, আর কবে সমস্যার সমাধান হবে বুঝতে পারছি না। আজ মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত সমাধান হয়নি। কৃষক তেল পাচ্ছে না। ইতোমধ্যে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক ময়েজ উদ্দিন বলেন, দেশে কত রকম কার্ড আছে। কিন্তু আমাদের কৃষকদের কোনো তালিকা নেই, কার্ড নেই। যার কারণে আমাদের পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তেলের ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। একটা কৃষি কার্ড থাকলে সবক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কৃষকদের সমস্যার সমাধান হতো। দ্রুত তেল সংকট সমস্যার সমাধান না হলে ফসল ও কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

ভুক্তভোগী কৃষক ঈশ্বরদী পৌর সদরের ৯ নাম্বার ওয়ার্ডের ইস্তা মহল্লার বাসিন্দা আদম আলী বলেন, আমার একটি হারভেস্টার, একটি ট্রাক্টর, ৩টি পাওয়ার টিলার, দুইটি পাওয়ার স্প্রে ও একটি জমি চাষের মেশিন আছে। এই ৮টি যন্ত্র ব্যবহার করতে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ লিটার তেল লাগে। কিন্তু এখন দুইদিন পরপর ৫০-৬০ লিটার তেল দেয়। সেটা দিয়ে একদিন চালানোই কঠিন। খুব সমস্যার মধ্যে আছি।

আরেক কৃষক জাহিদুল ইসলাম ওরফে গাজর জাহিদ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুত করে মুনাফা লুট করছে। আর আমরা সাধারণ কৃষকরা আবাদের জন্য তেল পাচ্ছি না। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কিন্তু এভাবে চললে তো কৃষক বাঁচতে পারবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, তিনি (ময়েজ উদ্দিন) কৃষিমন্ত্রীর কথা বলে একজনকে ফোন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। ফোনের ওপার থেকে সমস্যা সমাধান করতে বলেছেন। আমরা সমস্য সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছি। তেল পাম্পগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করছি, বুধবার থেকে সবাই তেল পাবেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, মূলত ঢোপে তেল নিতে গেলে মোটরসাইকেল চালকরা বাধা দেন। এতে ভুল বোঝাবুঝি ও বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে সমস্যা সমাধানে আমরা ইতোমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষি বিভাগকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাম্প মালিকদের সঙ্গেও কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। আশা করছি, সমস্যা থাকবে না।’

/এসআর/