শিরোনাম

১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএর মিল

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
১১ বছরের শিশুর সন্তানের সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএর মিল
ছবি: সিটিজেন গ্রাফিক্স

নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার হয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া ১১ বছর বয়সী এক শিশুর নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে মামলার অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে। ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষার পর এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। এরই মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা পুলিশের হাতে পৌঁছেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের নমুনার সঙ্গে নবজাতকের নমুনার মিল পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে।

তদন্তে যাতে কোনো ধরনের ঘাটতি না থাকে, সে জন্য কয়েকজন পরিদর্শককে অতিরিক্তভাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর জানান, নবজাতকের ডিএনএর সঙ্গে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর মিল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। অভিযোগপত্র দাখিলের আগে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর মতামত নেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী তিনি এ বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে যাবে। এরপর আদালত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির মা-বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটির শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় এবং শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন লক্ষ্য করেন পরিবারের সদস্যরা। খবর পেয়ে তার মা বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।

এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার পর ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র‍্যাব অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী গত ১৭ মে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে শিশুটির নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালতের নির্দেশে ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থানকালে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

পরে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নবজাতক ও তার মায়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয় ২৯ জুলাই। এসব নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের ডিএনএর সঙ্গে নবজাতকের ডিএনএর মিল পাওয়ার তথ্য সামনে আসে।

মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে নবজাতকসহ ১১ বছর বয়সী শিশুটি এখনো সিলেটের সেফ হোমে রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ মামলার অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করার প্রস্তুতি চলছে। এরপর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

/এমআর/