শিরোনাম

ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম

নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইল সংবাদদাতা
ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম
আতাউর রহমান বাচ্চু

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান মঞ্জুরির তালিকায় দুই জায়গায় তার এক মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। অনুদান মঞ্জুর করে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে ১৮ জুন ইস্যু করা সেই চিঠির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পাড়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তবে সংসদ সদস্য বলছেন, তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) প্রাথমিক তালিকাটি করে জমা দিয়েছেন। তার পক্ষে তালিকাটি দেখার সুযোগ হয়নি।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ওই চিঠিতে লেখা ছিল, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।

চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ সারিবদ্ধভাবে উল্লেখ রয়েছে। ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর। দুটি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে প্রচারিত হতে থাকে।

অভিযোগ উঠেছে, তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়নের (হবখালী)। এছাড়া লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে নিজেই নিশ্চিত করেছেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। তার দাবি, তালিকার কাজটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)।

সংসদ সদস্য বলেন, আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকার মধ্যে পিএস ফোন দিয়ে জানায় আজকের দিনের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বলি, সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও। সে বললো, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে, পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন।

আতাউর রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে পিএসের কাছে থাকা স্বাক্ষর করা প্যাডে এই তালিকাটা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। তালিকায় কাদের নাম দিয়েছে আমি দেখারও সুযোগ পায়নি। এমনকী কি সেই টাকাটা এখনও আমি হাতেও পাইনি।

জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, এইভাবে যারা আমাকে হেয়-প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া। নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে মহান আল্লাহ আমার পরিচিত অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি অঙ্গীকার করেন, ‘জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী ৫ বছরে ছুঁয়ে দেখবো না।’

/এফসি/