শিরোনাম

স্ত্রীকে মেরে সন্তান নিয়ে পালিয়েছেন ইমাম

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
স্ত্রীকে মেরে সন্তান নিয়ে পালিয়েছেন ইমাম
গ্রেপ্তার মো. মুহসিন মাতুব্বর

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে স্ত্রীকে হত্যা করে সন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত আয়েশা আক্তার মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী গ্রেপ্তার মো. মুহসিন মাতুব্বর পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাহারা গ্রামের ওমর আলী মাতুব্বরের ছেলে। তাদের ৪ বছরের শিশু সন্তান রয়েছে।

পিবিআইয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, নিহত আয়েশার সঙ্গে স্বামী মুহসিন মাতুব্বরের ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিগত প্রায় ৬ মাস যাবৎ মুহসিন মাতব্বর তার স্ত্রী আছমা ও কন্যাকে নিয়ে পূর্ব বালিগাওঁ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। নিহত আছমার আগে দুইবার বিয়ে হয়েছিল, বিষয়টি গোপন করার কারণে প্রায়ই স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। ৫ জুলাই রাতে আসামি বাসায় এসে দেখেন স্ত্রী আছমা পুরোনো জামা পরে আছেন। এনিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মুহসিন তার স্ত্রীকে চড়-থাপ্পড় মেরে গায়ের জামা ছিঁড়ে ফেলে। ৬ জুলাই ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহসিন মাতুব্বর স্ত্রী আছমার কাছে সকালের নাস্তা রেডি না থাকার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানায় তার মাথা ব্যাথা। এই নিয়ে উভয়ের মাঝে পুনরায় তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে মুহসিন আছমার আগের বিয়ে নিয়ে গালিগালাজ করতে শুরু করে এবং আবারো মারধর করতে থাকেন। এ সময় স্ত্রীর গলা চেপে ধরে পেছনের দিকে দেয়ালে ধাক্কা দিলে আছমা মারা যান। মুহসিন তখন আসমার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মরদেহ ঝুলাতে না পেরে খাটের ওপর ফেলে রেখে তাদের ৪ বছরের কন্যা মায়েশাকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনায় নিহত আছমার ভাই মো. শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

পরে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি বিশেষ টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ৮ জুলাই আসামি মো. মুহসিন মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে সে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে সে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রনি দেবনাথ।

পিবিআইয়ের মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আয়েশা আরা জাহান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

/এসআর/