জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলো মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়
মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড়। মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানা।

এর আগে, গতকাল সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন স্বাক্ষরিত জিআই (আর) ফরম-১ এ নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয় বলে জানা গেছে।

ডিসি নাজমুন আরা সুলতানা জানান, ‘জিআই সনদ পাওয়ার কারণে মানিকগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য এ পণ্যের স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত হয়েছে। ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে কাজ করবে এ সনদ। আর হাজারী গুড় তৈরির কারিগররা ভালো দাম পেয়ে লাভবান ও হবেন।’

হাজারী পরিবারের সদস্য শামিম হাজারী জানান, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রেহেনা আক্তার জিআই সনদের জন্য আবেদনটি করেন। ৫ আগস্ট পরবর্তী জেলা প্রশাসক মনোয়ার হোসেন মোল্লা ও বর্তমান জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা মহোদয় ও বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছেন।

এদিকে, জেলার হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের শিকদারপাড়াসহ (হাজারী পল্লী) কয়েকটি এলাকা, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন, গালা ইউনিয়ন ও শিবালয় উপজেলার আরোয়া ইউনিয়নের ৪-৫টি পরিবারসহ ৩০-৩৫টি পরিবার হাজারী গুড় তৈরি করে। উৎপাদিত এ গুড় ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করেছে। লোভনীয় স্বাদ আর মন মাতানো সুগন্ধে অতুলনীয় হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য প্রায় দুই থেকে আড়াইশো বছরের।

অন্যদিকে, জিআই নিবন্ধন সনদে উল্লেখ করা হয়- প্রত্যয়ন করা যাইতেছে যে, ভৌগোলিক নির্দেশক নিবন্ধন বহিতে ‘জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ’ এর নামে ৩০ শ্রেণীতে জিআই-৬২ নম্বরে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ পণ্যের জন্য ২০.০২.২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ হইতে নিবন্ধিত হইয়াছে।

এ স্বীকৃতির ফলে মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় বিপণন ও রপ্তানির সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা স্থানীয়দের। তাদের আশা, দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় নতুন মাত্রা পাবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শিকদার পাড়ার বাসিন্দা ও হাজারী গুড়ের কারিগর সাত্তার গাছি বলেন, আমরা আনন্দিত। মানসম্মত এবং আরও ভালো গুড় তৈরি হবে, আমরা দামও বেশি পাবো।

বাল্লার জহির গাছি বলেন, আমরা যে পরিশ্রম করি, বেশি দাম পেলে ভালো লাগে। আমরা ভালো দাম পাবো বলে আশা রাখি।

/এফআর/