কুষ্টিয়া-১ আসন
বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার, জয়ের স্বপ্ন জামায়াতের

বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার, জয়ের স্বপ্ন জামায়াতের
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। গণসংযোগের পাশাপাশি সমানে চলছে তাদের প্রচারণা। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে, তেমনি সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
দৌলতপুর আসন বরাবরই বিএনপির দখলে থাকলেও এক-এগারো পরবর্তী একতরফা নির্বাচনের কারণে আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর এবার হারানো এই আসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।
এই আসনে বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামী একেবারেই দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এবারের নির্বাচনে অনেকটা ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় জামানত হারানো সেই জামায়াত এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। দলের নেতাকর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। তবে বিএনপিকে টপকানোর মতো শক্ত অবস্থান গড়তে না পারলেও টক্কর দেয়ার মতো মোটামুটি একটা অবস্থান তৈরি করেছে জামায়াত।
বিএনপি প্রার্থী রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮টি স্থানে পথসভা, উঠান বৈঠক ও নারী সমাবেশ করছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণের কথা উল্লেখ করে বেকার সমস্যা দূরীকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত দৌলতপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন পথসভা ও উঠান বৈঠক। তিনিও দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছেন।
দলীয় সূত্রমতে, উপজেলা জামায়াতের আমির নুর কুতুবউল আলম মৃত্যুবরণ করায় এবাবের নির্বাচনে যুতসই প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না দলটি। পরে মাওলানা বেলাল উদ্দীনকে মনোনীত করা হয়। অনিচ্ছা সত্বেও তিনি মনোনয়ন গ্রহণ করেন।
জামায়াত প্রার্থী বেলাল উদ্দীনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি মাদ্রাসায় চাকরির সূত্রে প্রায় দুই যুগ আগে দৌলতপুর উপজেলায় আসেন এবং উপজেলা সদরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন।
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ দৌলতপুর আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। অপর ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন– জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের শাহাবুল মাহামুদ (ট্রাক), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বদিরুজ্জামান (মোমবাতি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির গিয়াস উদ্দিন (তারা) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (মোটরসাইকেল)।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ধানের শীষের ভোটে ভাগ বসিয়ে রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লাকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে সাবেক এমপি বাচ্চু মোল্লার বিজয়ের ক্ষেত্রে এতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের অপর প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালালেও তাদের নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তারা রয়েছেন আলোচনার বাইরে।
১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা দৌলতপুর। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এই একক সংসদীয় এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪টি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কেউ শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন বলেন, এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ চায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত শিক্ষিত সমাজ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই উপজেলার উন্নয়ন করবো।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, যেখানেই যাচ্ছি গণমানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির ঘাঁটি এই দৌলতপুর। ধানের শীষে ভোট দিতে এখানকার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবো। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল এবং বেকারত্ব ঘোঁচাতে যা যা করণীয় তা-ই করব। দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবো না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। গণসংযোগের পাশাপাশি সমানে চলছে তাদের প্রচারণা। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে, তেমনি সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
দৌলতপুর আসন বরাবরই বিএনপির দখলে থাকলেও এক-এগারো পরবর্তী একতরফা নির্বাচনের কারণে আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর এবার হারানো এই আসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।
এই আসনে বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামী একেবারেই দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এবারের নির্বাচনে অনেকটা ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় জামানত হারানো সেই জামায়াত এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। দলের নেতাকর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। তবে বিএনপিকে টপকানোর মতো শক্ত অবস্থান গড়তে না পারলেও টক্কর দেয়ার মতো মোটামুটি একটা অবস্থান তৈরি করেছে জামায়াত।
বিএনপি প্রার্থী রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮টি স্থানে পথসভা, উঠান বৈঠক ও নারী সমাবেশ করছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণের কথা উল্লেখ করে বেকার সমস্যা দূরীকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত দৌলতপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন পথসভা ও উঠান বৈঠক। তিনিও দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছেন।
দলীয় সূত্রমতে, উপজেলা জামায়াতের আমির নুর কুতুবউল আলম মৃত্যুবরণ করায় এবাবের নির্বাচনে যুতসই প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না দলটি। পরে মাওলানা বেলাল উদ্দীনকে মনোনীত করা হয়। অনিচ্ছা সত্বেও তিনি মনোনয়ন গ্রহণ করেন।
জামায়াত প্রার্থী বেলাল উদ্দীনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি মাদ্রাসায় চাকরির সূত্রে প্রায় দুই যুগ আগে দৌলতপুর উপজেলায় আসেন এবং উপজেলা সদরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন।
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ দৌলতপুর আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। অপর ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন– জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের শাহাবুল মাহামুদ (ট্রাক), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বদিরুজ্জামান (মোমবাতি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির গিয়াস উদ্দিন (তারা) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (মোটরসাইকেল)।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ধানের শীষের ভোটে ভাগ বসিয়ে রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লাকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে সাবেক এমপি বাচ্চু মোল্লার বিজয়ের ক্ষেত্রে এতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের অপর প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালালেও তাদের নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তারা রয়েছেন আলোচনার বাইরে।
১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা দৌলতপুর। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এই একক সংসদীয় এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪টি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কেউ শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন বলেন, এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ চায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত শিক্ষিত সমাজ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই উপজেলার উন্নয়ন করবো।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, যেখানেই যাচ্ছি গণমানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির ঘাঁটি এই দৌলতপুর। ধানের শীষে ভোট দিতে এখানকার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবো। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল এবং বেকারত্ব ঘোঁচাতে যা যা করণীয় তা-ই করব। দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবো না।

বিএনপি চায় আসন পুনরুদ্ধার, জয়ের স্বপ্ন জামায়াতের
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসন থেকে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। গণসংযোগের পাশাপাশি সমানে চলছে তাদের প্রচারণা। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নানা হিসাব-নিকাশ।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে, তেমনি সহিংসতার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
দৌলতপুর আসন বরাবরই বিএনপির দখলে থাকলেও এক-এগারো পরবর্তী একতরফা নির্বাচনের কারণে আসনটি তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর এবার হারানো এই আসন পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি।
এই আসনে বিগত সময়ে জামায়াতে ইসলামী একেবারেই দুর্বল অবস্থানে থাকলেও এবারের নির্বাচনে অনেকটা ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে। একসময় জামানত হারানো সেই জামায়াত এবার জয়ের স্বপ্ন দেখছে। দলের নেতাকর্মীরা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। তবে বিএনপিকে টপকানোর মতো শক্ত অবস্থান গড়তে না পারলেও টক্কর দেয়ার মতো মোটামুটি একটা অবস্থান তৈরি করেছে জামায়াত।
বিএনপি প্রার্থী রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে গণসংযোগ করছেন। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮টি স্থানে পথসভা, উঠান বৈঠক ও নারী সমাবেশ করছেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণের কথা উল্লেখ করে বেকার সমস্যা দূরীকরণ, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত দৌলতপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। করছেন পথসভা ও উঠান বৈঠক। তিনিও দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক উপজেলা গড়ার অঙ্গীকার করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইছেন।
দলীয় সূত্রমতে, উপজেলা জামায়াতের আমির নুর কুতুবউল আলম মৃত্যুবরণ করায় এবাবের নির্বাচনে যুতসই প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না দলটি। পরে মাওলানা বেলাল উদ্দীনকে মনোনীত করা হয়। অনিচ্ছা সত্বেও তিনি মনোনয়ন গ্রহণ করেন।
জামায়াত প্রার্থী বেলাল উদ্দীনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনি মাদ্রাসায় চাকরির সূত্রে প্রায় দুই যুগ আগে দৌলতপুর উপজেলায় আসেন এবং উপজেলা সদরে বাড়ি করে বসবাস শুরু করেন।
বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ দৌলতপুর আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন নির্বাচনে। অপর ৬ জনের মধ্যে রয়েছেন– জাতীয় পার্টির শাহরিয়ার জামিল জুয়েল (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি আমিনুল ইসলাম (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের শাহাবুল মাহামুদ (ট্রাক), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের বদিরুজ্জামান (মোমবাতি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির গিয়াস উদ্দিন (তারা) এবং বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (মোটরসাইকেল)।
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ধানের শীষের ভোটে ভাগ বসিয়ে রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লাকে বেকায়দায় ফেলতে পারেন বলে কেউ কেউ ধারণা করছেন। তবে সাবেক এমপি বাচ্চু মোল্লার বিজয়ের ক্ষেত্রে এতে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন। বিভিন্ন দলের অপর প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালালেও তাদের নিয়ে কারো মাথাব্যথা নেই। তারা রয়েছেন আলোচনার বাইরে।
১৪ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা দৌলতপুর। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এই একক সংসদীয় এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫০৪টি।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। কেউ শান্তি শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা বেলাল উদ্দীন বলেন, এই প্রথম নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। মানুষ এখন পরিবর্তন চায়। মানুষ চায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত শিক্ষিত সমাজ। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই উপজেলার উন্নয়ন করবো।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি, রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, যেখানেই যাচ্ছি গণমানুষের অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপির ঘাঁটি এই দৌলতপুর। ধানের শীষে ভোট দিতে এখানকার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে।
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম পদ্মার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেবো। মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূল এবং বেকারত্ব ঘোঁচাতে যা যা করণীয় তা-ই করব। দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র প্রশ্রয় দেবো না।




