শিরোনাম

কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের বাজার

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের বাজার
কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে পোশাকের বাজার। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামে জমে উঠেছে ঈদের পোশাকের বাজার। শেষ সময়ে কেনাকাটা করতে মার্কেটগুলোয় ভিড় জমাচ্ছে সব ধরনের ক্রেতা। তবে বরাবরের মতো তাদের একটাই অভিযোগ– দাম অনেক বেশি। এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বেচাকেনা তেমন নেই। চাঁদরাত পর্যন্ত ভালো বিক্রি হবে– এমন আশায় রয়েছেন তারা।

সরেজমিনে জেলার কাপড়ের বাজারগুলোয় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে– ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, বেচাকেনাও তত বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পোশাকের দাম বেশি। আর বিক্রেতারা জানান, বাজারে ক্রেতার সমাগম থাকলেও অনেকেই অপেক্ষা করছে শেষ সময়ে কেনাকাটা করার জন্য।

বাজারে শুধু পোশাকের দোকানেই ভিড়– এমনটা নয়। আতর, টুপি ও স্যান্ডেলের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতারা তাদের সাধ্যমতো কেনাকাটা করছে।

এবার কাপড়ের বাজারে ভারতীয় আর পাকিস্তানি ড্রেস ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে গারারা, সারারা নামের মেয়েদের বাহারি পোষাক। পাশাপাশি শাড়ির বাজারেও রয়েছে বাড়তি চাহিদা। আর ছেলে পছন্দ বরাবরই পাঞ্জাবি। কেউ কেউ আবার ভরসা রাখছেন বানানো পাঞ্জাবি ও শার্টের উপর।

কুড়িগ্রামের একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
কুড়িগ্রামের একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ঈদের কেনাকাটা করতে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাজারে এসেছেন রবিন আহমেদ (৪০)। তিনি পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছেন। তার মতে, মেয়েদের পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি। তিনি জানান, ঈদেই তো ব্যবসা হয় তাদের, তাই তারা ব্যবসা করে। দাম একটু বেশি আর কী।

তরুণ রাব্বি আহমেদ হন্যে হয়ে খুঁজছেন তার পছন্দের পাঞ্জাবি। তবে দাম নিয়ে অনেক অভিযোগ। তিনি বলেন, কুড়িগ্রামে কাপড়ের দাম অনেক বেশি। আড়াই হাজার টাকার নিচে মোটামুটি মানের কোনো ভালো পাঞ্জাবি পাওয়া যায় না।

জেলার বিভিন্ন বাজারে থ্রি-পিস ১ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদ পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। স্যান্ডেলের দাম মানভেদে ৮০০ থেকে থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
ঈদের কেনাকাটা করতে মার্কেটের সামনে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

থেমে নেই আতর, সুরমা ও টুপির বাজার। ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না কোনো আতর। টুপি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা ৫০০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিন্ন কথা। তাদের ভাষ্য– ক্রেতারা বেশি দাম বলছেন না। ফলে বেচা-বিক্রি হালকা।

মোমিন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, গত বছরের তুলনায় পণ্যের দাম একটু বেশি। এ বছর এখন পর্যন্ত বেচাবিক্রি হালকা। দেখা যাক চাঁদরাত পর্যন্ত কী হয়।

একই কথা বললেন, আরেক বিক্রেতা মোস্তফা জামাল। তিনি বলেন, ক্রেতা এখন অনেক ভালো বোঝে আমাদের থেকে। তারা জানে কোন পণ্যের কেমন দাম। সেই হিসাবে দাম বলে। যে অবস্থা বাজারের... শুধু পোশাক দেখে আর চলে যায়, কেনে না।

অনলাইন থেকে পণ্য কিনছেন অনেকে

বাজারে পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের অনেকেই ঝুঁকছেন অনলাইন মার্কেটে। তাদেরই একজন হুমায়রা আক্তার শিমু। তিনি বলেন, ‘এবার ঈদে জামা ও মেকআপ আইটেমসহ মোটামুটি সবকিছু অনলাইনে কেনাকাটা করেছি। এর অন্যতম কারণ– বাজারে দাম বেশি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনলাইন এখন দিনদিন বিশ্বস্ত হয়ে উঠছে। আমার বন্ধুরাও একই পেজ থেকে পণ্য কিনেছে। তাই আমিও এবার কিনলাম।’

আরেক শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত মনীষাও এবারের ঈদ শপিং করেছেন অনলাইন থেকে। তার মতে, অনলাইনে একাধিক ডিজাইনের বাহারি রকমের পণ্য থাকে যা জেলা শহরের মার্কেটগুলোয় থাকে না।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক ক্রেতা বলেন, আমি এবার ইদে ৮০০ টাকা দিয়ে অনলাইন থেকে একটি পাঞ্জাবি কিনেছি। বাজারে গেলে এর দাম হতো ১৫০০ টাকা।

/এফসি/