শিরোনাম

শ্রেণিকক্ষের অভাবে শহীদ মিনারে শিশুদের পাঠদান

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
শ্রেণিকক্ষের অভাবে শহীদ মিনারে শিশুদের পাঠদান
শহীদ মিনারে শিশু শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছিলো পাঠদান। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রায় ১০ মাস আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হয়। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হলেও বরাদ্দ মেলেনি। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকটে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮১ শিক্ষার্থীকে শহীদ মিনার ও খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

খরখরিয়া ২ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোস্তাফা বলেন, ‘একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে বললেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’

চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোড়গাছ এলাকায় বিদ্যালয়টির অবস্থান। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ১০ শিক্ষক ১৮১ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন।

১৯৮৯-১৯৯০ সালে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পিডি-২ প্রকল্পের অধীনে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির একটি কক্ষ অফিস হিসেবে এবং অন্যটি ৩য় শ্রেণির কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে পুরাতন ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর নিলামের মধ্যেমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরাতন ভবন অপসারণে ১০ মাস হয়ে গেলেও নুতন ভবন নির্মাণ না করায় শহীদ মিনারে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয় ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই কক্ষের দুইটি টিনের চালা ঘর তুলে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা হয়। কিন্তু ১৮১ জন শিক্ষার্থীর তুলনায় এটি অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাধ্য হয়ে শহীদ মিনারে বেদিতে ও খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।

চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, আমাদের শ্রেণিকক্ষ না থাকায় প্রখর রোদে বাইরে বসতে হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টি এলেই ক্লাস বন্ধ হয়ে যায়। দ্রুত একটি নতুন ভবনের ব্যবস্থা করার জন্য তারা সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিভাবক জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শুধু পরিদর্শন করে, কোনো কাজ হচ্ছে না। রোদ আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা করছেন। দ্রুত একটি ভবনের ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীদের এই কষ্ট আর থাকবে না।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়শা আক্তার জানান, জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনটি নিলামে ভেঙে ফেলার পর তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দেয়। দুইটি টিনের চালা ঘর তৈরি করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। ভবন না থাকায় পাঠদানে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ হরিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সেখানে দুইটি ঘর আছে, আমরা নিজ অর্থায়নে আরও দুইটি ঘর উঠায় দিবো।’

/এসআর/