শিরোনাম

একাদশে ভর্তিতে এবার একবারই আবেদনের সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
একাদশে ভর্তিতে এবার একবারই আবেদনের সুযোগ
এসএসসি পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

এসএসসি ও সমমানে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে আগে তিন ধাপে অনলাইনে আবেদনের সুযোগ ছিল। এ বছর প্রথম পর্যায়ে তারা একবারই সুযোগ পাবে। আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগও আর থাকছে না।

তবে পুনর্নিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আরেকবার সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে কেউ বাদ পড়ে থাকলে বা কোনো কারণে নিশ্চয়ন না করলে বা কলেজ না পেলে সে-ও আবার আবেদনের সুযোগ পাবে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর ঊর্ধ্বতনদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে দ্রুত শিক্ষাবর্ষ শুরুর তাগিদে ভর্তিতে এসব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্তঃ শিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তি আবেদন শুরু ও ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর কথা বলা হয়েছে। তবে এতে সায় দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, অর্থাৎ শুরুর দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু হবে। একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে। আর যারা পুনর্নিরীক্ষার পর আবার আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে তাদের ক্লাসও আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই শুরু হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে। এরপর তা জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয় ওই বছরের ১০ জুলাই। ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এ বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এর পরও যেকোনোভাবেই হোক গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়। আর সেটা বড়জোর গত বছরের চেয়ে এক সপ্তাহ পেছাতে পারে, এর বেশি নয়।

এদিকে পুনর্নিরীক্ষার ফল না দিয়ে একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু করাটাও সমস্যা। আবার যদি পুনর্নিরীক্ষার ফল দিয়ে আবেদন শুরু করতে হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আবেদন শুরু করতে হবে। তাহলে আবার ক্লাস চলে যাবে নভেম্বরে।

সভা সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নে আগে শুধু প্রাপ্ত নম্বর নতুন করে গোনা হতো। কিন্তু এবার থেকে পুরো খাতাই মূল্যায়ন করা হবে। অর্থাৎ ওই খাতা নতুন করে দেখা হবে। আর এ বছর প্রায় ৪ লাখ শিক্ষার্থীর ১২ লাখ ৮৭ হাজার খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। যা আরেকটি ছোটখাটো পাবলিক পরীক্ষার মতোই। এতে আগে পুনর্নিরীক্ষার ফল দিতে এক মাস সময় লাগলেও এবার দু-তিন গুণ শিক্ষক খাতা দেখলেও কমপক্ষে ৪০ দিন সময় লাগবে।

এদিকে পুনর্নিরীক্ষার ফল না দিয়ে একাদশে ভর্তি আবেদন শুরু করাটাও সমস্যা। আবার যদি পুনর্নিরীক্ষার ফল দিয়ে আবেদন শুরু করতে হয়, তাহলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ আবেদন শুরু করতে হবে। তাহলে আবার ক্লাস চলে যাবে নভেম্বরে।

এসব সমস্যা সমাধানে একাদশে ভর্তিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি। সভায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনলাইনে আবেদন শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সময় বাঁচাতে এক ধাপে আবেদন নেওয়া হবে। যারা পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করেছে তাদেরও এই ধাপেই আবেদন করতে হবে। তবে সবাই এক ধাপে আবেদন করলে সার্ভারে যেন সমস্যার সৃষ্টি না হয়, এ জন্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

জিপিএর ভিত্তিতে সবাইকে কলেজ পছন্দ করে দেওয়ার পর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে ক্লাস শুরু হয়ে যাবে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশ হলে আরেকবার অনলাইনে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। যাদের ফল পরিবর্তন হয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ যদি কলেজ পছন্দ না হয়, তারা এই ধাপে আবেদন করবে। একইসঙ্গে প্রথম ধাপে আবেদন না করা বা যাদের কোনো কারণে কলেজ পছন্দ করে দেওয়া যায়নি, তারাও এই ধাপে আবেদন করতে পারবে।

তবে এই পদ্ধতিতেও আরেকটি সমস্যা আলোচনায় আসে। প্রথম ধাপে যারা আবেদন করবে, তাদের দ্বারা ভালো কলেজগুলোর সব আসনই পূর্ণ হয়ে যাবে। তাহলে পুনর্নিরীক্ষার ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের কলেজে কীভাবে ভর্তি হবে?

এই সমস্যারও সমাধান করেছে ভর্তি কমিটি। এ জন্য পুনর্নিরীক্ষার আবেদন ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা যেসব কলেজে আবেদন করবে, সেখানে আসনসংখ্যা বাড়ানো হবে। এর ফলে তাদের ফল আগের চেয়ে ভালো হলে ভর্তির ক্ষেত্রে কোনোভাবে বঞ্চিত হবে না। আর তারা আগে যে কলেজে ভর্তি হবে, ওই কলেজ তাদের ভর্তির পুরো টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। যারা কলেজ পরিবর্তন করে অন্য কলেজে যাবে বা নতুন করে ভর্তি হবে তাদের ক্লাসও ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু হবে।

আবেদন ফি এবার আগের মতো ১৫০ টাকাই থাকছে। শিক্ষার্থীরা ন্যূনতম ৫টি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ করতে পারবে। জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কলেজ পছন্দ করে দেবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

/এফসি/