শিরোনাম

‘৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি’

জামালপুর সংবাদদাতা
‘৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি’
জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে ভিড়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জামালপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন পেট্রোল পাম্প, ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রগুলোয় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন পরিবহন চালকরা। অনেক ক্রেতা তেলের জন্য পাম্পে রাত যাপনও করছেন।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

জামালপুর সদরের মেসার্স মোমো-মিথি ফিলিং স্টেশনে মনুসুর নামে এক বাইকার বলেন, ৮ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ২০০ টাকার পেট্রোল পেয়েছি। অনেক বাইকারের ভাগ্যে তা-ও জুটছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কেউ কেউ বাইকের ট্যাংক খুলে নিয়ে তেলের জন্য পাম্পে অপেক্ষা করছেন।

একটি সূত্র জানায়, জামালপুর জেলায় মোট পেট্রোল পাম্প রয়েছে ২০টি। এর মধ্যে ৩টি পেট্রোল পাম্প আগে থেকে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চালু রয়েছে ১৭টি। খুচরা অনুমোদিত বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে ৮০টি।

ফিলিং স্টেশন
ফিলিং স্টেশন

জানা গেছে, জামালপুরে অসাধু কিছু ব্যবসায়ী তেল মজুত করেছেন। তারা গোপনে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন।

জেলা প্রশাসন জানায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। জামালপুর সদর থানায় ৩ হাজার পেট্রোল পাচারের অপরাধে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করার অপরাধে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছেন ভ্রামমাণ আদালত। তেল থাকার পরেও বিক্রি না করায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে জামালপুর শহরের জুই এন্টারপ্রাইজকে।

আরও জানানো হয়েছে, বর্তমানে অনুমোদনবিহীন দোকানে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোয় নিরাপত্তা ও মজুত প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে এখনও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।

জামালপুরের বাস মালিক লিয়াকত হোসেন বাবুল সিটিজেন জার্নালকে বলেন, চাহিদামাফিক ডিজেল না পাওয়ায় পরিবহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

বাইকার ছালাম মিয়া সিটিজেন জার্নালকে বলেন, বাইক দিয়েই আমি প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করি। চাহিদামাফিক তেল না পাওয়ায় আমার দায়িত্ব পালনে অসুবিধা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জ্বালানি তেলের মনিটরিং কমিটির প্রধান জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, অবৈধ মজুত ঠেকাতে জেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রামমাণ আদালত পরিচালনা করছে। অনিয়মের কারণে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, পেট্রোল পাচারের অপরাধে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১১ জন।

/এসআর/