শিরোনাম

জামালপুরে ৪৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

জামালপুর সংবাদদাতা
জামালপুরে ৪৭৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: সংবাদদাতা

জামালপুর জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৪৭৩টি পদ শূন্য রয়েছে। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ২৯৮টি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিভাকরা বলছেন, বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটছে। পদ পূরণ হলে শিক্ষার মান বাড়বে।

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ১৬৪টি। এর মধ্যে ৬৯১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আছে। ৪৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ১৩৬জন শিক্ষকের পদোন্নিতিন জন্য সুপারিশ করেছে। কিন্ত অনুমোদন হয়নি। সদর উপজেলায় ২৪৪টির মধ্যে ১০১টি, ইসলামপুরের ১৭৭টির মধ্যে ৬৯টি, দেওয়ানঞ্জের ১৩৯টির মধ্যে ৪৫টি, বকশীগঞ্জের ১১০টির মধ্যে ৪৪টি, মেলান্দহের ১৫৯টির মধ্যে ৬১টি, মাদারগঞ্জের ২০১টির মধ্যে ৮৭টি ও সরিষাবাড়ীর ১৩৪টির মধ্যে ৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। জেলায় সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদ ২৯৮টি।

বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমার পাড়ের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। তার এক মেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। তিনি বলেন, এমনিতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংখ্যা কম। সেখানে যদি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকে তাহলে শিক্ষার পরিবেশ ঠিক রাখা দূরহ হয়ে পড়ে।

দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের বাসিন্দা সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক মিকা বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধান শিক্ষকের ভূমিকাই প্রধান। এ পদ শূন্য থাকলে স্কুল পরিচালনা ও পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটে।

বকশীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মর্জিনা চৌধুরী বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় পড়াশোনার মান ধরে রাখা কঠিন হয়। কারণ অধিকাংশ সময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।

মেরুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাবিকুন্নাহার বলেন, প্রধান শিক্ষক স্কুলের অভিভাবক ও মেরুদণ্ড। দীর্ঘ দিন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলে বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সমাধান করা কঠিন হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করলে পড়াশোনার চিত্র পাল্টে যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ কমিয়ে আনার জন্য ১৩৬ জন সহকারী শিক্ষককের পদোন্নতির জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন এলে শূন্য পদের সংখ্যা কমে আসবে। অবশিষ্ট নিয়োগ সরাসরি হবে।

/এসআর/