শিরোনাম

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারালো বাংলাদেশ
লাবুশেনকে আউট করার পর বাংলাদেশ দলের উদযাপন। ছবি: ক্রিকইনফো

২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে ওয়ানডেতে হারিয়ে চমক দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার সেই হারকে দেখা হয়েছিল অঘটন হিসেবে। সেটি ছিল যেকোনো সংস্করণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। ওয়ানডেতে ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দ্বিতীয় জয় পেতে অপেক্ষা করতে হলো ২১ বছর। এবারের জয়টা ঘরের মাঠে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে বাংলাদেশ ডিএলএস পদ্ধতিতে ৮৬ রানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।

কার্ডিফের সেই জয়ের পর ২১ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এ নিয়ে ১৬ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। একটি বৃষ্টিতে ভেসে গেলেও বাকি ১৪টিতে হারের পর এলো জয়।

প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশ পায় ২৮৪ রানের পুঁজি। পরে বল হাতেও নেন ২ উইকেট। সঙ্গে নাহিদ রানা ৪ উইকেট নিয়ে ধস নামান অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধের আগে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৯ উইকেটে ১৯১ রান।

২৮৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিন আহমেদের করা প্রথম বলেই বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট (০)। দ্বিতীয় ওভারে মোস্তাফিজ ফেরান মার্নাস লাবুশেনকে (১)। এলবিডাব্লিউর আবেদন করেছিলেন মোস্তাফিজ। আম্পায়ার তাতে সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মোস্তাফিজের ভেতরে ঢোকা বলটি ডিফেন্ড করতে গিয়ে লাইন মিস করেন লাবুশেন, বল আঘাত হানে প্যাডে। সফল রিভিউতে দেখা যায় বল সরাসরি লেগ স্টাম্পে আঘাত হানতো।

দলীয় ৫১ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নাহিদ রানার বলে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেন জশ ইংলিস (২৫ বলে ১৯)। চতুর্থ উইকেটে ৪০ রানের জুটি গড়েন কুপার কনোলি ও অ্যালেক্স ক্যারি। জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। কনোলি ৩৫ রান করে মোসাদ্দেকের আর্ম ডেলিভারিতে হয়েছেন বোল্ড।

পঞ্চম উইকেটে জুটি বড় হচ্ছিলো। তবে ঠিক সময়ে ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। দারুণ এক ডেলিভারিতে নাহিদ রানা ফেরান ৪৭ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে। তাতে ভাঙে ক্যারি-গ্রিনের ৩৭ রানের জুটি।

এই জুটি ভাঙার পরই জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ দল। পরের ৮ ওভার ১ বলের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার আরও ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ দল। ম্যাট রেনশোকে (২) এলবিডব্লিউর ফাদে ফেলেন মোসাদ্দেক। নাহিদ রানার ১৪৬ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসা বাউন্সারে গালিতে হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দেন অভিষিক্ত লিয়াম স্কট (২)। এরপর নাহিদ রানার বাউন্সারে আউট হলেন বার্টলেট। ঘণ্টায় ১৪৮.৫ কিলোমিটার গতির বাউন্সারে বার্টলেট (১) তানজিদের হাতে ধরা পড়েন।

ব্যাটিং, বোলিংয়ের পর ফিল্ডিংয়েও অবদান রাখেন মোসাদ্দেক। মোস্তাফিজের করা বলে ক্যাচ তোলেন নাথান এলিস। কিছুটা পথ দৌড়ে গিয়ে দারুণ ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক। দলীয় ১৫৬ রানে নবম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।

নাহিদ রানা তার বোলিং কোটা শেষ করেন ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। শেষ উইকেট জুটিতে ক্যামেরুন গ্রিনকে সঙ্গ দেন অ্যাডাম জাম্পা। গ্রিন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলেন নেন ৬৪ বলে।

৪২ ওভার ২ বলে অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর খারাপ আবহাওয়ার কারণে খেলা বন্ধ হয়। তখনো জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৪৬ বলে ৯৪ রান। তবে পরে বৃষ্টি নামলে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। ডিএলএস পদ্বতিতে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ।

এর আগে বাংলাদেশ লড়াইয়ের পুঁজি পায় তিন ফিফটিতে। তানজিদ হাসান তামিম করেন ৫৪ রান। তার ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ১ ছক্কা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৬৭ রান করেন। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন। এটি তার ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস।

/টিই/