শিরোনাম

রুয়েটে ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ: চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান

রুয়েট সংবাদদাতা
রুয়েটে ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ: চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রাম (ইউআইএইচপি) ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-এর প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব প্রোগ্রাম (ইউআইএইচপি) ন্যাশনাল ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ-এর প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান এবং উদ্যোক্তা তৈরির সংস্কৃতি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্ভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল নয়টায় রুয়েট অডিটোরিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি)-এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ সিদ্দীকুর রহমান এবং (ইউআইএইচপি) রুয়েটের ফোকাল পয়েন্ট মো. আবু ইসমাঈল সিদ্দিকী। এছাড়া ডিআইইডি প্রকল্পের ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রাকিবুল ইসলাম, সোশ্যাল স্পেশালিস্ট খালেদা ইসলাম, রুয়েট প্রতিনিধি মোর্শেদ হোসাইন রাকিব এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি জাকিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় আইডিয়া ও প্রজেক্ট প্রদর্শনী। এতে রুয়েট ও বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোহোর্টে প্রি-সিড ফান্ডপ্রাপ্ত দলগুলো তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রকল্প উপস্থাপন করে। বিকেল ৪টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।

আলোচনায় বক্তারা উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ট্রেনিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রাকিবুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার একটি টেকসই ও কার্যকর উদ্ভাবন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ উদ্যোগ সফল করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তরুণ উদ্ভাবকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে খালেদা ইসলাম বলেন, অনেক সম্ভাবনাময় ধারণা অর্থায়ন, মেন্টরশিপ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ পায় না। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাস্তব শিল্পপরিবেশে কাজের সুযোগ বাড়াতে শিক্ষার্থীদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাটাচমেন্ট, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সমস্যা সমাধান সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে। শিল্প ও একাডেমিয়ার কার্যকর সমন্বয় থেকেই প্রকৃত উদ্ভাবনের জন্ম হবে বলে তিনি মত দেন।

ইউআইএইচপি রুয়েটের ফোকাল পয়েন্ট মো. আবু ইসমাঈল সিদ্দিকী দলগত কাজ ও সহযোগিতামূলক চিন্তার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি সমস্যার একাধিক সমাধান থাকতে পারে এবং সেখান থেকে সবচেয়ে কার্যকর সমাধানটি বেছে নেওয়ার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তিনি তরুণদের কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান এবং স্টার্টআপ সংস্কৃতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।

দিনব্যাপী আয়োজনের শেষপর্বে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। তবে আয়োজকরা জানান, জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ফলাফল দেশের অন্যান্য পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও উদ্যোক্তা সক্ষমতা বিকাশে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীল ধারণাকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই উদ্যোগে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

/এমআর/