শিরোনাম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজি-হামলা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে চলছে চাঁদাবাজি-হামলা
রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বরে গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কার্যালয়। এই কার্যালয়েই ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। ছবি: সিজেডএন টোয়ান্টিফোর

ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সংগঠনটির অনেক নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়ে আছে কারাগারে। কোনো স্থানে মিছিল-সমাবেশ করলেই তাদের আটক করা হয়। এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যেই রাজধানীর মিরপুরে একটি শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে দফায় দফায় ছাত্রলীগের এক নেতার নেতৃত্বে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। চাঁদা না পেয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা ওই হামলা চালিয়েছে।

শুধু তা-ই নয় ছাত্রলীগের ওই নেতা শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চাঁদা না দিলে শ্রমিক সংগঠনের ওই কার্যালয়ে কার্যক্রম চালাতে দিবেন না বলে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এতে শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও সদস্যরা আতঙ্কে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর-৬ নম্বরে শ্রমিক সংগঠনের ওই কার্যালয়ে গত ২৩ ও ২৬ মে হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন নামের ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ২৭ মে পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৩ মে বিকেল সাড়ে তিনটায় মিরপুর-৬ নম্বরের বাসিন্দা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. শান্ত, মিরপুর-৭ নম্বরের বাসিন্দা মো. রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জন গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা সংগঠনের নেতাদের কাছে মাসিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা এবং কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এককালীন নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।

শ্রমিক সংগঠনের দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৩ মে বিকেল সাড়ে তিনটায় মিরপুর-৬ নম্বরের বাসিন্দা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা মো. শান্ত, মিরপুর-৭ নম্বরের বাসিন্দা মো. রানাসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ জন গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা সংগঠনের নেতাদের কাছে মাসিক ৩০ হাজার টাকা চাঁদা এবং কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এককালীন নগদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।

কিন্তু সংগঠনের নেতারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ছাত্রলীগের ওই নেতাসহ সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে চেয়ার, টেবিল ও আসবাব তছনছ করে এবং কার্যালয়ের মূল দরজা ও জানালায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় তারা সেখানে উপস্থিত নারী নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ‘অফিস কেমনে চালাস দেখে নেব’ বলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

এরপর একই দিন বিকেল ৪ টা ৪৫ মিনিটের আরও ২৫ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা যুবক শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এসে হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। ছাত্রলীগ নেতা শান্ত ও তার সহযোগীরা ২৬ মে গভীর রাতে ওই কার্যালয়ে আবার হামলা চালায়। এ সময় তারা কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েক বস্তা গোবর নিক্ষেপ করে চলে যায়।

এই বিষয়ে গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম জানান, তাদের এই সংগঠনটি দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে সম্পূর্ণ অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দেশের আটটি অঞ্চলের পোশাক শ্রমিকদের অধিকার ও টেকসই শিল্প পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করে আসছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের সহযোগিতা করছে। এই হামলার পর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক অংশীজন এবং প্রায় ৩ লাখ সাধারণ শ্রমিক সদস্যদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৬ জুন সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-৬ -এর সি-ব্লকের ১৫ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়িতে গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। এই সংগঠনটি যে ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেই ভবনে আরও দুটি সংগঠন আছে। এগুলো হচ্ছে ন্যাশনাল ওয়ার্কার্স ইউনিটি সেন্টার ও তৃণমূল ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

শ্রমিক সংগঠনটি যে ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে সেই ভবনের কেয়ারটেকার মো. সুমন বলেন,‘যখন ঝামেলা হয়েছে, তখন আমি ছিলাম না। আমি এসে দেখি ভবনের নিচে সংগঠনের লোকদের সঙ্গে শান্তদের কথা-কাটাকাটি চলছে।’

তিনি জানান, শান্ত সবসময় ভবনের সামনে আড্ডা দিতো। এলাকার মানুষ তাকে ভয় পায়।

সংগঠনের বক্তব্য

গ্রীন বাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস সিজেডএন টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘গত ২৮ মে পুলিশ আমাদের কার্যালয়ে এসেছে। এ সময় রানাও এসেছে। পরবর্তীতে রানা আমাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে এবং বলেছে, সে এরকম কোনো কিছু আর করবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি, থানায় যাতে একটা বৈঠকের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে যদি তারা বলে আগামীতে এরকম কোনো কাজ করবে না, তাহলে আমাদের সমস্যা নাই। আর বৈঠকে যদি তারা ক্ষমা না চায়, তাহলে থানা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

সংগঠনটরি সভাপতি সুলতানা বেগম সিজেডএন টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ৬ জুন পুলিশ তাদের অফিসে আবারও এসেছে। এরপর শান্তকে কল দেওয়া হলেও সে আসেনি। পরে রানা এসেছে। তিনি আরও বলেন, ‘রানা প্রথমে ছাত্রদল করলেও এখন যুবদল করছে।’

প্রশাসনের বক্তব্য

শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ওসি মো. হাসান বাসির সিজেডএন টোয়ান্টিফোর ডটকমকে বলেন, সংগঠনের লোকজন অভিযোগ দায়ের করেছেন। এরপর তাদের কার্যালয়ে আমাদের লোকজনকে পাঠিয়েছি।’ যে ঘটনা ঘটেছে, সেটা তারা (উভয় পক্ষ) নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করে নিতে চাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে কয়েক দিন ধরে চেষ্টা করেও ছাত্রলীগ নেতা শান্তর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

/বিবি/