শিরোনাম

সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
সেন্টমার্টিনে কেয়াবন উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণ
সেন্টমার্টিন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে কেয়াবনের গাছ উজাড় করে রিসোর্ট নির্মাণের ঘটনায় মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, টেকনাফ মডেল থানায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে গত বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করেন। ইতোমধ্যে আইনগত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আসামিরা হলেন, সেন্ট মার্টিনের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা হচ্ছে– এমন সংবাদের ভিত্তিতে সরেজমিনে যায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে তারা ঘটনার সত্যতা পান।

সেন্টমার্টিন

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনজীবী আব্দুল মালেক বলেন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।এর ফলে দ্বীপ ও দ্বীপের মানুষেরা সুরক্ষিত থাকবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় আমরা কাজ করছি। কেয়াগাছ দ্বীপের সম্পদ, পরিবেশবিরোধী কাজ করায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ অধিদপ্তর ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করে। ইসিএ এর আইন অনুযায়ী, এই দ্বীপে এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যার মাধ্যমে দ্বীপের পানি, মাটি, বায়ু বা প্রাণীর ক্ষতি হয়। এখানে যেকোনো প্রকারের অবকাঠামো নির্মাণও নিষিদ্ধ করা হয়।

এছাড়া ২০২২ সালে আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়, যেখানে ইট ও সিমেন্ট নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের পরিসংখ্যান বলছে, ইতোমধ্যে ২৩৭টির বেশি হোটেল-রির্সোট-কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। একসময় দ্বীপে গাছে পরিপূর্ণ ছিলো। এখন তা মানুষের আগ্রাসনে কমতে শুরু করেছে

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।

/এসআর/