ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে বন্দি থাকে প্রাণী

ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে বন্দি থাকে প্রাণী
কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিশাল এক লোহার ঘরের ভিতরে বন্দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দর্শনার্থীরা পাশের খোলা জায়গায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখছেন, ছবি তুলছেন। বাঘকে ডাকছেন এবং খুনসুঁটি করছেন। বাঘও ডাক শুনে সাড়া দেয় আবার আপন মনে দূরে চলে যায়। এই দৃশ্যটি কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের।
অথচ ‘সাফারি পার্কের’ মূল ভাবনার কথা মাথায় রাখলে, দৃশ্যটি তো হওয়া উচিত ছিলো ঠিক তার বিপরীত। অর্থাৎ, খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজের জগতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে বাঘ-সিংহ প্রাণীকূল; আর মানুষ বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীর যানবাহনে চড়ে তাদের দেখতে যাবে।
যেমনটি বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্কে হচ্ছে। সেটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভাওয়াল গড়ের শালবনে। সেখানে পার্কের চারপাশে স্থায়ী বেষ্টনি রয়েছে। তার মধ্যে প্রাণীকূল তাদের নিজস্ব আবাসে অবাধে বিচরণ করে। আর দর্শনার্থীরা বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনির যানে চড়ে পার্ক ভ্রমণ করেন। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এই ধরনের পার্ক চালু রয়েছে।
জাতীয় তথ্য বাতায়নে গাজীপুরের সাফারি পার্ক সম্পর্কে লেখা রয়েছে, সাফারি পার্কের ধারণা চিড়িয়াখানা হতে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীবজন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং দর্শনার্থী মুক্ত অবস্থায় থেকে জীবজন্তু পরিদর্শন করেন। কিন্তু সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণী উন্মুক্ত অবস্থায় বনজঙ্গলে বিচরণ করবে এবং মানুষ সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে আবদ্ধ অবস্থায় জীবজন্তু পরিদর্শন করবেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের বয়স এক যুগের বেশি। কিন্তু কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক দুই যুগেরও বেশি সময় আগে দেশের প্রথম সাফারি পার্কের ধারণা নিয়ে গড়ে উঠলেও এখনো তার বাস্তবায়ন হয়নি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক হওয়ার প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাঘ-সিংহের ‘ওপেন সাফারি জোন’ এখনও চালু করা যায়নি। ফলে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক আজও অনেকটাই ‘চিড়িয়াখানার’ আদলে পরিচালিত হচ্ছে।
আফ্রিকার সোয়াহিলি ভাষার ‘সাফারি’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘সাফার’ থেকে, যার অর্থ দীর্ঘ ভ্রমণ বা যাত্রা।
বর্তমান ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ইতিহাস অনেকটাই পুরনো। ১৯৩০ সাল থেকে এলাকাটি ছিল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পরে ১৯৮০ সালে সেখানে গড়ে ওঠে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। এরপর ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রায় ২ হাজার ২৫০ একর বা প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। বর্তমানে পার্কটিতে রয়েছে প্রায় ৩৬৫ প্রজাতির গাছ, যার মধ্যে প্রায় ৭৬৫টি ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষিত আছে। আর পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাঘ-সিংহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল স্বয়ংক্রিয় ডাবল-গেটসহ কিছু কারিগরি কাজ বাকি। বাঘ-সিংহের অংশটুকু চালু হলেই সাফারির পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাওয়া যাবে।’
ডুলাহাজার সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম বলেন, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্কে রূপ নিতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি সিংহ, সাতটি হাতি (যার একটি নয় মাস বয়সী শাবক), ১০টি জেব্রা, পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্ট, ১২টি জলহস্তী, দুই প্রজাতির ১২টি কুমির এবং দুটি অজগর।
পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুটি বিশেষ সুরক্ষিত (কেজড) সাফারি যান আনা হয়েছে। বাঘ-সিংহের ওপেন সাফারি জোন চালু হলে দর্শনার্থীরা এসব বিশেষ যানবাহনে করে প্রাণীগুলোর বিচরণক্ষেত্রের ভেতরে প্রবেশ করে কাছ থেকে সাফারির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীদের খাদ্য বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। পার্কটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বর্তমানে ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। পর্যটনের মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী পার্কে এলেও বছরের অন্যান্য সময়ে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা গড়ে প্রায় এক হাজারে নেমে আসে।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সাফারি গড়ে তোলা, যেখানে প্রাণীরা থাকবে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে, আর মানুষ নিরাপদ যানবাহনে ঘুরে তাদের দেখবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও সেই ধারণা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

বিশাল এক লোহার ঘরের ভিতরে বন্দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দর্শনার্থীরা পাশের খোলা জায়গায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখছেন, ছবি তুলছেন। বাঘকে ডাকছেন এবং খুনসুঁটি করছেন। বাঘও ডাক শুনে সাড়া দেয় আবার আপন মনে দূরে চলে যায়। এই দৃশ্যটি কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের।
অথচ ‘সাফারি পার্কের’ মূল ভাবনার কথা মাথায় রাখলে, দৃশ্যটি তো হওয়া উচিত ছিলো ঠিক তার বিপরীত। অর্থাৎ, খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজের জগতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে বাঘ-সিংহ প্রাণীকূল; আর মানুষ বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীর যানবাহনে চড়ে তাদের দেখতে যাবে।
যেমনটি বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্কে হচ্ছে। সেটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভাওয়াল গড়ের শালবনে। সেখানে পার্কের চারপাশে স্থায়ী বেষ্টনি রয়েছে। তার মধ্যে প্রাণীকূল তাদের নিজস্ব আবাসে অবাধে বিচরণ করে। আর দর্শনার্থীরা বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনির যানে চড়ে পার্ক ভ্রমণ করেন। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এই ধরনের পার্ক চালু রয়েছে।
জাতীয় তথ্য বাতায়নে গাজীপুরের সাফারি পার্ক সম্পর্কে লেখা রয়েছে, সাফারি পার্কের ধারণা চিড়িয়াখানা হতে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীবজন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং দর্শনার্থী মুক্ত অবস্থায় থেকে জীবজন্তু পরিদর্শন করেন। কিন্তু সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণী উন্মুক্ত অবস্থায় বনজঙ্গলে বিচরণ করবে এবং মানুষ সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে আবদ্ধ অবস্থায় জীবজন্তু পরিদর্শন করবেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের বয়স এক যুগের বেশি। কিন্তু কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক দুই যুগেরও বেশি সময় আগে দেশের প্রথম সাফারি পার্কের ধারণা নিয়ে গড়ে উঠলেও এখনো তার বাস্তবায়ন হয়নি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক হওয়ার প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাঘ-সিংহের ‘ওপেন সাফারি জোন’ এখনও চালু করা যায়নি। ফলে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক আজও অনেকটাই ‘চিড়িয়াখানার’ আদলে পরিচালিত হচ্ছে।
আফ্রিকার সোয়াহিলি ভাষার ‘সাফারি’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘সাফার’ থেকে, যার অর্থ দীর্ঘ ভ্রমণ বা যাত্রা।
বর্তমান ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ইতিহাস অনেকটাই পুরনো। ১৯৩০ সাল থেকে এলাকাটি ছিল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পরে ১৯৮০ সালে সেখানে গড়ে ওঠে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। এরপর ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রায় ২ হাজার ২৫০ একর বা প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। বর্তমানে পার্কটিতে রয়েছে প্রায় ৩৬৫ প্রজাতির গাছ, যার মধ্যে প্রায় ৭৬৫টি ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষিত আছে। আর পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাঘ-সিংহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল স্বয়ংক্রিয় ডাবল-গেটসহ কিছু কারিগরি কাজ বাকি। বাঘ-সিংহের অংশটুকু চালু হলেই সাফারির পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাওয়া যাবে।’
ডুলাহাজার সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম বলেন, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্কে রূপ নিতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি সিংহ, সাতটি হাতি (যার একটি নয় মাস বয়সী শাবক), ১০টি জেব্রা, পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্ট, ১২টি জলহস্তী, দুই প্রজাতির ১২টি কুমির এবং দুটি অজগর।
পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুটি বিশেষ সুরক্ষিত (কেজড) সাফারি যান আনা হয়েছে। বাঘ-সিংহের ওপেন সাফারি জোন চালু হলে দর্শনার্থীরা এসব বিশেষ যানবাহনে করে প্রাণীগুলোর বিচরণক্ষেত্রের ভেতরে প্রবেশ করে কাছ থেকে সাফারির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীদের খাদ্য বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। পার্কটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বর্তমানে ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। পর্যটনের মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী পার্কে এলেও বছরের অন্যান্য সময়ে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা গড়ে প্রায় এক হাজারে নেমে আসে।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সাফারি গড়ে তোলা, যেখানে প্রাণীরা থাকবে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে, আর মানুষ নিরাপদ যানবাহনে ঘুরে তাদের দেখবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও সেই ধারণা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ডুলাহাজরা সাফারি পার্কে বন্দি থাকে প্রাণী
কক্সবাজার প্রতিনিধি

বিশাল এক লোহার ঘরের ভিতরে বন্দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। দর্শনার্থীরা পাশের খোলা জায়গায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখছেন, ছবি তুলছেন। বাঘকে ডাকছেন এবং খুনসুঁটি করছেন। বাঘও ডাক শুনে সাড়া দেয় আবার আপন মনে দূরে চলে যায়। এই দৃশ্যটি কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের।
অথচ ‘সাফারি পার্কের’ মূল ভাবনার কথা মাথায় রাখলে, দৃশ্যটি তো হওয়া উচিত ছিলো ঠিক তার বিপরীত। অর্থাৎ, খোলা প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজের জগতে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবে বাঘ-সিংহ প্রাণীকূল; আর মানুষ বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীর যানবাহনে চড়ে তাদের দেখতে যাবে।
যেমনটি বাংলাদেশের গাজীপুর সাফারি পার্কে হচ্ছে। সেটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভাওয়াল গড়ের শালবনে। সেখানে পার্কের চারপাশে স্থায়ী বেষ্টনি রয়েছে। তার মধ্যে প্রাণীকূল তাদের নিজস্ব আবাসে অবাধে বিচরণ করে। আর দর্শনার্থীরা বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনির যানে চড়ে পার্ক ভ্রমণ করেন। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং আফ্রিকার অনেক দেশে এই ধরনের পার্ক চালু রয়েছে।
জাতীয় তথ্য বাতায়নে গাজীপুরের সাফারি পার্ক সম্পর্কে লেখা রয়েছে, সাফারি পার্কের ধারণা চিড়িয়াখানা হতে ভিন্নতর। চিড়িয়াখানায় জীবজন্তু আবদ্ধ অবস্থায় থাকে এবং দর্শনার্থী মুক্ত অবস্থায় থেকে জীবজন্তু পরিদর্শন করেন। কিন্তু সাফারি পার্কে বন্যপ্রাণী উন্মুক্ত অবস্থায় বনজঙ্গলে বিচরণ করবে এবং মানুষ সতর্কতার সহিত চলমান যানবাহনে আবদ্ধ অবস্থায় জীবজন্তু পরিদর্শন করবেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের বয়স এক যুগের বেশি। কিন্তু কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক দুই যুগেরও বেশি সময় আগে দেশের প্রথম সাফারি পার্কের ধারণা নিয়ে গড়ে উঠলেও এখনো তার বাস্তবায়ন হয়নি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক হওয়ার প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাঘ-সিংহের ‘ওপেন সাফারি জোন’ এখনও চালু করা যায়নি। ফলে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক আজও অনেকটাই ‘চিড়িয়াখানার’ আদলে পরিচালিত হচ্ছে।
আফ্রিকার সোয়াহিলি ভাষার ‘সাফারি’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘সাফার’ থেকে, যার অর্থ দীর্ঘ ভ্রমণ বা যাত্রা।
বর্তমান ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ইতিহাস অনেকটাই পুরনো। ১৯৩০ সাল থেকে এলাকাটি ছিল সংরক্ষিত বনাঞ্চল। পরে ১৯৮০ সালে সেখানে গড়ে ওঠে একটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। এরপর ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রায় ২ হাজার ২৫০ একর বা প্রায় ৯০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। বর্তমানে পার্কটিতে রয়েছে প্রায় ৩৬৫ প্রজাতির গাছ, যার মধ্যে প্রায় ৭৬৫টি ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষিত আছে। আর পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘বাঘ-সিংহের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল স্বয়ংক্রিয় ডাবল-গেটসহ কিছু কারিগরি কাজ বাকি। বাঘ-সিংহের অংশটুকু চালু হলেই সাফারির পূর্ণাঙ্গ রূপ ফিরে পাওয়া যাবে।’
ডুলাহাজার সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর আলম বলেন, পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্কে রূপ নিতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

পার্কটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মোট ৫১৫টি বন্যপ্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি সিংহ, সাতটি হাতি (যার একটি নয় মাস বয়সী শাবক), ১০টি জেব্রা, পাঁচটি ওয়াইল্ডবিস্ট, ১২টি জলহস্তী, দুই প্রজাতির ১২টি কুমির এবং দুটি অজগর।
পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্ক চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুটি বিশেষ সুরক্ষিত (কেজড) সাফারি যান আনা হয়েছে। বাঘ-সিংহের ওপেন সাফারি জোন চালু হলে দর্শনার্থীরা এসব বিশেষ যানবাহনে করে প্রাণীগুলোর বিচরণক্ষেত্রের ভেতরে প্রবেশ করে কাছ থেকে সাফারির অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাণীদের খাদ্য বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। পার্কটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বর্তমানে ৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা এবং ছয় থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ৫০ টাকা। পর্যটনের মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার দর্শনার্থী পার্কে এলেও বছরের অন্যান্য সময়ে দৈনিক দর্শনার্থীর সংখ্যা গড়ে প্রায় এক হাজারে নেমে আসে।
বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি সাফারি গড়ে তোলা, যেখানে প্রাণীরা থাকবে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে, আর মানুষ নিরাপদ যানবাহনে ঘুরে তাদের দেখবে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ২৬ বছর পরও সেই ধারণা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।









