শিরোনাম

রাজধানীতে ‘পেন গান’ আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে ‘পেন গান’ আতঙ্ক
উদ্ধারকৃত পেন গান। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

রাজধানীর অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্কের নাম ‘পেন গান’। কলমের মতো দেখতে ছোট আকারের এই আগ্নেয়াস্ত্র এবার দেশে নতুন আলোচনার জন্য দিয়েছে। এটি সহজে বহনযোগ্য ও লুকিয়ে রাখা সহজ হওয়ায় অপরাধীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য হয়ে উঠেছে এক নতুন দুশ্চিন্তার নাম।

গত ৩ এপ্রিল পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় তদন্তে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ী ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল ওরফে কাল্লু ও সায়মন নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরপরই সামনে আগে ‘পেন গান’।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারের সময় কাল্লুর কাছে একটি সিগারেটের প্যাকেটে হুবহু কলমের মতো দেখতে একটি যন্ত্র পাওয়া যায়। পরে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, এটি আসলে একটি সচল ‘পেন গান’।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকা মহানগরীতে অত্যাধুনিক ক্ষুদ্র এই মারণাস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। পেন গান স্বল্প দূরত্বে নিখুঁতভাবে গুলি ছুড়তে সক্ষম। আর এই অস্ত্রটি কলমের মতো হওয়ায় ধরা পড়ার সম্ভাবনাও কম থাকে। তাই বর্তমানে এই অস্ত্রের উৎস খুঁজতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

যুবদল নেতাকে গুলির ঘটনা তদন্তে জানা যায়, ৩ এপ্রিল বিকেলে সায়মনের বাসায় ডেকে নেওয়া হয় রাসেলকে। সেখানে বন্ধুরা মিলে ইয়াবা সেবন করেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা হলে রাসেলের বুকে পেন গান দিয়ে গুলি করা হয়। আবার সায়মন ও রিপন মন্ডলই তাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পুলিশি ঝামেলা থেকে বাঁচতে বারবার হাসপাতাল পরিবর্তন করা হয়। সবশেষ রাসেলকে ধানমন্ডির এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে তারা। এমনকি রাত ১১টা পর্যন্ত ঘাতক বন্ধুরাই ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে ছিল। পরে সুস্থ হয়ে রাসেল জবানবন্দি দিলে প্রথমে সোহেল ওরফে কাল্লু ও পরে সায়মনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাল্লু ডিবিকে জানায়, হামলায় ব্যবহৃত পেন গানটি তিনি ৮০ হাজার টাকায় একজনের কাছ থেকে কেনেন। পরে সেটি রাসেলের কাছে ২০ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি করার কথা ছিল সায়মনের। ঘটনার দিন সোহেল ওরফে কাল্লু, সায়মন, রিপন দাসসহ সবাই একত্রে ইয়াব সেবনকালে বাকবিতণ্ডা হলে পেন গান দিয়ে রাসেলকে গুলি করা হয়।

গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, পেন গানটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে চোরাই পথে দেশে এসেছে। এর গায়ে কোনো কোম্পানির নাম না থাকায় এর উৎস নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই ধরনের গোপন অস্ত্র অপরাধীদের হাতে ছড়িয়ে পড়ে, তবে জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ডিবি জানিয়েছে, পেন গানের উৎস, চোরাচালানের পথ, মূল সিন্ডিকেট ও আমদানিকারকদের খুঁজে বের করতে একাধিক টিম কাজ করছে।

/এফআর/